Advertisement Banner

যুদ্ধের মধ্যে ইন্টারনেটকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানাচ্ছে ইরান

মাহসা আলিমারদানি
মাহসা আলিমারদানি
যুদ্ধের মধ্যে ইন্টারনেটকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানাচ্ছে ইরান
ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এটিই এ ধরনের প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা। ছবি: রয়টার্স

২০২৬ সালের ১০ মার্চ। ইরানে তখন যুদ্ধ চলছে। সরকারের চাপিয়ে দেওয়া ইন্টারনেট নিষেধাজ্ঞার কারণে সাধারণ মানুষ ২০২৬ সালের প্রথম দিকের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সময়ই সম্পূর্ণ ডিজিটাল অন্ধকারে কাটিয়েছে। ঠিক এমন এক সময়ে ইরান সরকারের মুখপাত্র ফাতেমা মোহাজেরানি প্রকাশ্যে একটি বড় স্বীকারোক্তি দেন। তিনি বলেন, “যারা আমাদের কথাগুলো অন্যদের কাছে পৌঁছে দিতে পারবে, তাদের বিশেষ সুযোগ দেওয়া হবে।”

এর মাধ্যমে তিনি মূলত সরকারের সেই বিশেষ ব্যবস্থার কথাই বুঝিয়েছেন, যেখানে কেবল বাছাই করা কিছু মানুষকে কোনো বাধা ছাড়াই ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়।

এর ঠিক পাঁচ দিন পর, যখন লাখ লাখ সাধারণ ইরানি নাগরিক ইন্টারনেট সংযোগ থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন, তখন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জুম ব্যবহার করে সিবিএস নিউজে সাক্ষাৎকার দেন। তাকে যখন জিজ্ঞেস করা হয় যে তিনি কীভাবে ইন্টারনেট পাচ্ছেন, তখন তার সোজা উত্তর ছিল, “কারণ আমি ইরানিদের কণ্ঠস্বর।”

এই দুটি মন্তব্য থেকে একটি নতুন বিষয় পরিষ্কার হয়ে যায়। এবার আর নিরাপত্তার কোনো অজুহাত না দেখিয়ে সরকারের মন্ত্রী ও কর্মকর্তারা খুব খোলামেলাভাবেই ইন্টারনেট সংযোগকে একটি রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন। এর মানে হলো, ইন্টারনেট এখন শুধু তাদের জন্যই বরাদ্দ যারা সরকারের কথা প্রচার করবে। আর বাকি সবার জন্য ইন্টারনেট বন্ধ থাকবে। এই ভয়ংকর যুদ্ধের সময়ে সাধারণ মানুষের জন্য ইন্টারনেট চালু করা হয়নি। এর বদলে, এটি শুধুমাত্র এমন কিছু মানুষকে দেওয়া হয়েছে যারা বহির্বিশ্বে সরকারের পক্ষে কথা বলবে বা তাদের কণ্ঠস্বরকে জোরাল করবে।

এই মন্তব্যগুলো এমন একটি বিষয়ের দিকে নির্দেশ করে, যা স্বৈরাচারী তথ্য নিয়ন্ত্রণের বিশ্লেষকদের নজর অনেকটা এড়িয়ে গেছে। আর তা হলো- ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়াটাই এখন তাদের মূল নীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সহজ কথায়, কে ইন্টারনেট পাবে এবং ইন্টারনেটে কী প্রচার হবে এই দুটি এখন একই রাজনৈতিক কৌশলের অংশ। ইরানের এই আসল কৌশলটি বুঝতে হলে কেবল তাদের সেন্সরশিপ বা নিষেধাজ্ঞার দিকে তাকালেই চলবে না, বরং আমাদের খুঁজতে হবে তারা আসলে কী ব্যবস্থা তৈরি করতে চাইছে এবং কেন।

নিছক সেন্সরশিপ নয়, বৈধতার সংকট

ইরানের তথ্য নিয়ন্ত্রণের কৌশলগুলো বুঝতে গেলে সাধারণত সেগুলোকে কেবল সেন্সরশিপ হিসেবেই দেখা হয়। যেমন- ইন্টারনেট ব্লক করা, ফিল্টার করা, নজরদারি চালানো, ভুয়া তথ্যের বন্যা বইয়ে দেওয়া এবং সংযোগ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া। তথ্য দমনের এই অবকাঠামো তৈরিতে ইরান গত দুই দশক ধরে বিপুল বিনিয়োগ করেছে। বিশেষ করে, ২০২২ সালের ‘উইমেন, লাইফ, ফ্রিডম’ আন্দোলনের পর থেকে এই তৎপরতা নাটকীয়ভাবে বেড়ে যায়।

ছবি: রয়টার্স
ছবি: রয়টার্স

তবে সেন্সরশিপ বা সরকার মানুষের কাছ থেকে কিছু কেড়ে নিচ্ছে এমন ধারণা দিয়ে ইরানের বর্তমান পরিস্থিতির কেবল আংশিক ব্যাখ্যাই দেওয়া সম্ভব। এর চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো- উন্মুক্ত ইন্টারনেটের বিকল্প হিসেবে সরকার আসলে সেখানে কী তৈরি করছে, আর কেনই বা এখন তাদের এটা তৈরি করা প্রয়োজন?

টিকে থাকার জন্য ইরান সরকারের মূল কৌশলই হলো জবরদস্তি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন। ২০১৯, ২০২২ এবং ২০২৬ সালের গণঅভ্যুত্থানগুলোকে কর্তৃপক্ষ চরম সামরিক দমন-পীড়ন এবং ভয়াবহ নিষ্ঠুরতার মাধ্যমে মোকাবিলা করেছে। ভয় ছড়ানো এবং তথ্য বিকৃত করা- এই দুটি বিষয় আলাদা কিছু নয়, বরং এগুলো একই ব্যবস্থার দুটি ভিন্ন স্তর, যা একে অপরকে সাহায্য করে। নজরদারির মাধ্যমে তারা খুঁজে বের করে কাকে লক্ষ্যবস্তু বানাতে হবে। ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়ে তারা হত্যাকাণ্ডের খবর ধামাচাপা দেয়। আর ইন্টারনেট বন্ধ থাকার কারণে যে নীরবতা তৈরি হয়, তার জায়গা দখল করে নেয় সরকারের প্রোপাগান্ডা বা অপপ্রচার। শর্তসাপেক্ষে ইন্টারনেট কেবল তাদেরই দেওয়া হয়, যাদের সরকার নিজেদের প্রতি অনুগত এবং নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারে সক্ষম বলে মনে করে। মূলত নিজেদের ক্রমশ কমতে থাকা ‘বৈধতার সংকট’ নামের এক গভীর ও সুনির্দিষ্ট সমস্যা ঢাকতেই তারা দমন-পীড়নের এই সমন্বিত কাঠামোটি তৈরি করেছে।

ইরানে প্রতিটি ধারাবাহিক গণঅভ্যুত্থানে মানুষের নানা ধরনের দাবি উঠে এসেছে, আর সেই সাথে সরকারের বিরুদ্ধে জনমতের ঐক্য আরও জোরাল হয়েছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনায় পিষ্ট হয়ে ২০১৯ সালের বিক্ষোভে যোগ দিয়েছিল শহর ও গ্রামের দরিদ্র মানুষেরা। এরপর ২০২২ সালের ‘নারী, জীবন, স্বাধীনতা’ আন্দোলনে মধ্যবিত্ত, শিক্ষার্থী এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষেরাও রাস্তায় নেমে আসে। ১৯৭৯ সালের পর এমন দল-মত-শ্রেণি নির্বিশেষে মানুষের ঐক্য আর দেখা যায়নি, যারা সবাই মিলে এই নিপীড়নমূলক ব্যবস্থার অবসান চেয়েছিল।

২০২৬ সালের অভ্যুত্থান এর চেয়েও অনেক দূর এগিয়ে যায়। দেশের অর্থনৈতিক ধসে হতাশ হয়ে ব্যবসায়ী শ্রেণিসহ লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। সর্বশেষ এই বিক্ষোভ ইরানের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে এতটাই ভয় পাইয়ে দেয় যে, তারা নজিরবিহীন নিষ্ঠুরতার সাথে এর জবাব দেয়। এ সময় ৪০ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়। নিহতের আনুমানিক সংখ্যা ২০ হাজার থেকে এমনকি ৩০ হাজার পর্যন্ত হতে পারে। প্রতিটি নতুন বিক্ষোভের সাথে সমাজের বৃহত্তর অংশ এসে যুক্ত হয়েছে, যার ফলে সরকারের প্রতি সত্যিকারের জনসমর্থনের ভিত্তি ক্রমশই ছোট হয়ে আসছে।

ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের প্রতি জনসমর্থন কমে যাওয়ার বিষয়টি এখন একটি বিদেশি সংকটের সাথে এসে মিলেছে, যা নিজেদের স্বার্থে কাজে লাগানোর পুরো সুযোগ সরকারের রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা চালায়। তাদের উদ্দেশ্যগুলো ছিল বহুমুখী-কখনো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করা, কখনো পারমাণবিক কর্মসূচি বাতিল করা, আবার কখনো বা সরাসরি সরকার পতন ঘটানো। এর ফলে ইরান-ইরাক যুদ্ধের পর এই প্রথম এমন এক ভয়াবহ লড়াইয়ের মুখোমুখি হয়েছে ইসলামিক প্রজাতন্ত্রটি, যা তাদের অস্তিত্বের জন্যই হুমকিস্বরূপ। নিজেদের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ বৈধতা বা আস্থার সংকটে ভুগতে থাকা এই সরকারের জন্য, বিদেশি এই আক্রমণগুলো আদর্শিক দিক থেকে টিকে থাকার একটি নতুন পথ তৈরি করে দিতে পারে।

ইরানের সংবিধানের ১৫৪ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে ‘অত্যাচারীদের বিরুদ্ধে মজলুমের (নিপীড়িতদের) ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামকে’ তারা সমর্থন করবে। এটাই তাদের রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম মূল ভিত্তি। অর্থাৎ, সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিপীড়িতদের কণ্ঠস্বর হিসেবেই ইরান সর্বদা দাঁড়াবে। আর নিজেদের এই দাবিকে জোরাল করার জন্য বর্তমানে তাদের হাতে এত বেশি রসদ এসেছে, যা আগে খুব কমই দেখা গেছে। বিদেশি হামলায় সাধারণ নাগরিকদের মৃত্যুর সংখ্যা যত বাড়ছে, পশ্চিমা আগ্রাসনের প্রমাণ হিসেবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় (প্রবাসী ইরানিদেরসহ), উন্নয়নশীল দেশগুলোর (গ্লোবাল সাউথ) জোট এবং যুদ্ধবিরোধী বামপন্থীদের কাছে তুলে ধরার জন্য সরকারের হাতে এখন বাস্তব প্রমাণ চলে এসেছে। বছরের পর বছর ধরে ইরান তথ্য নিয়ন্ত্রণের যে বিশাল কাঠামো তৈরি করেছে, চরম আদর্শিক এই লড়াইয়ের সময়ে তা এখন বহির্বিশ্বের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ইরান সরকার যে এখন আর শুধু নিজ দেশের জনগণের ওপর সবচেয়ে বড় নিপীড়ক নয়, বরং তারা নিজেরাই খুব বাস্তব একটি বিদেশি আগ্রাসনের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে-এই বিষয়টি তাদের সবসময় দাবি করা নিপীড়িত হওয়ার ভাবমূর্তিকে আরও পোক্ত করতে সাহায্য করছে। সরকারের মুখপাত্র মোহাজেরানি যে নীতির কথা বলছিলেন, তা মূলত দুটি পক্ষের দিকে লক্ষ্য করে তৈরি।

প্রথমত, বাইরের বিশ্বের কাছে ইরান প্রমাণ করার চেষ্টা করছে যে সরকার নিজেই এই আগ্রাসনের শিকার। আর দ্বিতীয়ত, দেশের ভেতরে বিরোধী কণ্ঠস্বরগুলোকে জোর করে থামিয়ে দিয়ে যে শূন্যতা তৈরি করা হয়েছে, সরকার সেখানে নিজেদের প্রোপাগান্ডা বা অপপ্রচার দিয়ে পুরো তথ্যজগতকে ভরিয়ে তুলছে।

ইরানের মুখপাত্র যখন বলেন যে, ইন্টারনেট সংযোগ কেবল তাদেরই দেওয়া হবে যারা, “আমাদের কণ্ঠস্বর আরও দূর পর্যন্ত পৌঁছে দিতে পারবে”, তখন তিনি আসলে আনুগত্যের কোনো পুরস্কারের কথা বলছেন না। তিনি মূলত একটি লেনদেনের কথা বলছেন।

ইরানের তথ্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ঠিক এই সমস্যাটি সমাধানের জন্যই কাজ করছে। এর উদ্দেশ্য শুধু বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করা নয়, বরং জনসমর্থনের এমন একটি লোকদেখানো চিত্র তৈরি করা, যা বাস্তবে সরকারের আর নেই। প্রতিটি গণঅভ্যুত্থান দেশের সাধারণ মানুষকে নীরব সমর্থন থেকে সক্রিয় বিরোধীতে পরিণত করেছে। তাই মোহাজেরানি যখন বলেন, যারা সরকারের কথা প্রচার করতে পারবে তারাই ইন্টারনেট পাবে, তখন তিনি আনুগত্যের কোনো পুরস্কারের কথা বলেন না। তিনি স্পষ্টতই একটি লেনদেনের কথা বলছেন- সরকারের কথা প্রচার করার বিনিময়ে ইন্টারনেট সংযোগ।

এটি নিছক কোনো সেন্সরশিপ বা সংবাদ নিয়ন্ত্রণের সমস্যা নয়। এটি আসলে গত ৪৭ বছর ধরে পুঞ্জীভূত হওয়া একটি বৈধতার সংকট বা আস্থার অভাব, আর তথ্য নিয়ন্ত্রণের এই বিশাল কাঠামোটি হলো সেই সংকটের জবাব।

স্তরে স্তরে গড়ে তোলা হয়েছে ইরানের তথ্য নিয়ন্ত্রণের কাঠামো

সরকারের এই তথ্য নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর মূল ভিত্তিই হলো নজরদারি। বেছে বেছে ইন্টারনেট বন্ধ করা, পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো বা আনুগত্যের ভিত্তিতে ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়ার আগে সরকারকে একটি কাজ করতে হয়। আর তা হলো, জনগণের একটি তালিকা তৈরি করা-কার কতটা প্রভাব আছে, তারা কোন শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব করে এবং তারা সরকারের পক্ষে কথা বলবে কি না, তা যাচাই করা।

হুয়াওয়ে এবং জেডটিইর মতো চীনা প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ব্যাপক সহায়তায় ইরান তাদের এই নজরদারি কাঠামো তৈরি করেছে। এর মাধ্যমে তারা ইন্টারনেটের গভীরে নজরদারি (ডিপ প্যাকেট ইন্সপেকশন) চালাতে পারে এবং বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম থেকে ব্যবহারকারীদের তথ্য তুলে নিতে পারে। তবে গবেষক আফসানেহ রিগোটের তথ্য অনুযায়ী, মাঠপর্যায়ের নজরদারি আরও অনেক বেশি ভয়ংকর। সাধারণ মানুষের মোবাইল বা ডিভাইস চেক করা সেখানে একটি নিয়মিত ঘটনা। বিভিন্ন চেকপয়েন্টে এবং গ্রেপ্তারের পর এসব ডিভাইস চেক করা হয়। এর উদ্দেশ্য হলো- বিক্ষোভের প্রমাণ মুছে ফেলা, সরকারবিরোধী মনোভাব চিহ্নিত করা এবং কোনো আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ার আগেই তাকে অপরাধ হিসেবে সাব্যস্ত করে দমন করা। এর ফলে এমন এক গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক তৈরি হয়েছে, যা ঠিক কোথায় চাপ প্রয়োগ করতে হবে এবং কাকে বিশ্বাস করতে হবে তা সরকারকে নিখুঁতভাবে জানার ক্ষমতা তৈরি করে দেয়।

ইন্টারনেট বা যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হলো সরকারের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার, যা মূলত সরকারবিরোধী আন্দোলন দানা বাঁধলেই ব্যবহার করা হয়। ২০০৯ সালের গ্রিন মুভমেন্টের সময় ইরান প্রথমবার বড় পরিসরে ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ শুরু করে। এরপর থেকে তারা এই সক্ষমতা প্রতিনিয়ত বাড়িয়েছে। এর দশ বছর পর, ২০১৯ সালের নভেম্বরে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভের জবাবে সরকার সারা দেশে প্রায় সম্পূর্ণভাবে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয় এবং সাধারণ মানুষকে গোটা বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক অনুসন্ধানে দেখা যায়, ওই সময় প্রায় ১৫০০ মানুষ নিহত হয়েছিলেন। তবে এই সংখ্যা নিয়ে এখনো বিতর্ক রয়েছে, কারণ ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় সরকারের সেই নিষ্ঠুরতার আসল মাত্রা জানা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।

পরবর্তী প্রতিটি গণঅভ্যুত্থানের সময়ই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। ২০২৬ সালে এসে সরকার তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ংকর ও নিষ্ঠুর দমন-পীড়ন চালিয়েছে। এবার ইন্টারনেট, মোবাইল নেটওয়ার্ক এবং ল্যান্ডলাইনসহ সব ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়ে এই ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়। সরকারের এই কৌশল সম্পর্কে যারা জানেন, তাদের কাছে এই যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার অর্থ একটিই- ব্ল্যাকআউটের সুযোগে নির্বিচারে গণহত্যা।

তবে এই যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা কেবল তথ্যই মুছে ফেলে না, বরং এটি এমন একটি শূন্যতা তৈরি করে, যা সরকার খুব ভালো করেই পূরণ করতে শিখে গেছে।

২০২২ সালের ‘উইমেন, লাইফ, ফ্রিডম’ আন্দোলনের সময় এই কনটেন্ট ফ্লডিং করার কৌশলটি নতুন মাত্রা পায়। এরপর ২০২৫ সালের জুনে ইরান-ইসরায়েলের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধে এআই’র আবির্ভাবের সাথে সাথে এটি রীতিমতো শিল্পে পরিণত হয়। এই নিবন্ধের লেখক এবং স্যাম গ্রেগরি তাদের একটি গবেষণায় দেখিয়েছেন যে, কীভাবে এআই দিয়ে তৈরি করা কনটেন্ট এই অপপ্রচার বা ভুয়া তথ্য ছড়ানোর মাত্রাকে অভূতপূর্ব পর্যায়ে নিয়ে গেছে।

তেহরানে ইসরায়েলের পক্ষে বিক্ষোভের এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া ভিডিও ছড়িয়ে দিয়ে মিথ্যাভাবে দেখানো হয়েছিল যে, সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের অসন্তোষ বাড়ছে। অন্যদিকে, ইরানের আকাশে গুলি করে নামানো ইসরায়েলি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের ভুয়া ছবি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচার করে সরকারকে বিজয়ী হিসেবে দেখানো হয়েছিল। পুরো তথ্যের জগতকে একই সাথে সবদিক থেকে এমনভাবে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে, আসলে কী ঘটছে তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়েছিল।

কিন্তু এই তথ্য-প্লাবন কোনো বাছবিচার করে না। এর চেয়েও অনেক নিখুঁত ও সূক্ষ্ম একটি হাতিয়ার রয়েছে, যাকে ইরানিরা ‘সাইবারিস’ বলে ডাকে। এগুলো মূলত সরকার পরিচালিত কিছু ছদ্মবেশী অ্যাকাউন্ট। এরা নিজেদেরকে বিশ্বস্ত ও বেনামী বিরোধী কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস ও ফলোয়ার অর্জন করে। এরপর একেবারে সংকটময় বা গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে এরা আসল তথ্যকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে বা বিকৃত করতে কাজে লাগে।

২০২৩ সালের জানুয়ারির একটি ঘটনা এর বড় প্রমাণ। সেসময় দুজন আন্দোলনকারীর মৃত্যুদণ্ড ঠেকাতে সাধারণ মানুষ যখন একত্রিত হচ্ছিল, ঠিক তখনই বিরোধীদের কাছে সুপরিচিত একটি অ্যাকাউন্ট থেকে খবর ছড়ানো হয় যে, ইরানের কুখ্যাত ফাঁসির বিচারককে গুপ্তহত্যা করা হয়েছে। এই ভুয়া খবরটি মুহূর্তের মধ্যেই ইরানি নাগরিক এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক-সবার মনোযোগ অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেয়। আর সবাই যখন এই ভুয়া খবরের দিকে তাকিয়ে ছিল, ঠিক সেই সুযোগে অত্যন্ত গোপনে ওই দুজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে সরকার।

অতি সম্প্রতি, বিরোধীদের ছদ্মবেশে থাকা এসব ভুয়া অ্যাকাউন্টগুলো আন্দোলনের কিছু বিকৃত কনটেন্ট তৈরি করে। এরপর সেগুলো ছড়িয়ে দিয়ে তারা আন্দোলনের আসল ফুটেজ বা ভিডিওগুলোর সত্যতা নিয়েই মানুষের মনে সন্দেহ ঢুকিয়ে দেয়। তারা এমনভাবে প্রচার চালায় যেন জানুয়ারিতে ছড়িয়ে পড়া বিশাল বিক্ষোভের দৃশ্যগুলো পুরোটাই ভুয়া বা বানানো।

এই দুটি ক্ষেত্রেই সরকারের মূল লক্ষ্য বিরোধীদের চুপ করানো ছিল না, বরং বিরোধীদের সুরে কথা বলে সেই সুরকেই তাদের বিরুদ্ধে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা ছিল এর আসল উদ্দেশ্য। আর এমনটা করতে গিয়ে সরকার এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যা হয়তো তাদের মূল পরিকল্পনায় ছিল না, কিন্তু তারা এর পুরো ফায়দা ঠিকই লুটেছে। আর তা হলো ‘মিথ্যুকের লভ্যাংশ’ অর্থাৎ চারদিকে এত বেশি মিথ্যা ছড়িয়ে দেওয়া, যাতে মানুষ আসল সত্য খবরগুলোকেও আর বিশ্বাস করতে না পারে।

লায়লার্স ডিভিডেন্ড বা মিথ্যুকের লভ্যাংশ হলো এমন এক পরিস্থিতি, যেখানে অসৎ উদ্দেশ্যে কেউ আসল খবরকেও কৌশল করে ভুয়া বলে দাবি করে, যার ফলে সঠিক তথ্যের ওপর থেকে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস উঠে যায়। কিন্তু ইরানের ক্ষেত্রে এই কৌশলটি এখন বুমেরাং হয়ে তাদের দিকেই ফিরে আসছে।

ইরান সরকার বছরের পর বছর ধরে তথ্যের জগতকে এতটাই দূষিত করেছে যে, এখন যখন তাদের নিজেদের নির্যাতিত হওয়ার দাবিগুলো (যেমন বিদেশি হামলায় সাধারণ মানুষের মৃত্যু) মানুষের বিশ্বাস করা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তখন আর কেউই তাদের কথায় আস্থা রাখতে পারছে না। এই সমস্যা সমাধানের জন্যই সরকার হোয়াইট সিম নামের একটি বিশেষ ব্যবস্থার আশ্রয় নিয়েছে। এর মাধ্যমে কর্তৃপক্ষ বাছাই করা কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে বিশেষ ও বাধামুক্ত যোগাযোগের সুযোগ দিচ্ছে, যাতে তারা জাতীয় ইন্টারনেট ফিল্টারিং বা সেন্সরশিপ এড়িয়ে সহজেই ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারেন।

অন্তত ২০১৩ সাল থেকেই বিভিন্ন রূপে এই ব্যবস্থাটি চালু ছিল। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে সুপ্রিম কাউন্সিল অব সাইবারস্পেস এটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়। এরপর ২০২৫ সালের নভেম্বরে এটি এক বড় কেলেঙ্কারিতে রূপ নেয়। সেসময় দেশে পুরোপুরি ইন্টারনেট বন্ধ থাকলেও, এক্স এর (সাবেক টুইটার) লোকেশন ফিচারের মাধ্যমে ধরা পড়ে যায় যে, সরকার সমর্থক ব্যক্তিরা ভিপিএন ছাড়াই ইরান থেকে দিব্যি পোস্ট করছেন।

এই বিতর্ক কেবল কিছু মানুষের বিশেষ সুবিধা পাওয়ার চেয়েও আরও উদ্বেগজনক একটি বিষয় সামনে নিয়ে আসে। এতে দেখা যায়, যেসব ব্যক্তিকে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধী পক্ষের কণ্ঠস্বর হিসেবে মনে করা হতো, তারাও আসলে এই হোয়াইট সিম সুবিধা ব্যবহার করে অনলাইনে সরকারের পক্ষেই জনমত তৈরির কাজ করছিলেন। অথচ প্রকাশ্যে তারা দাবি করতেন যে, তারা নিজেরাও সরকারের দমন-পীড়নের শিকার!

২০২৫ সালের জুলাইয়েও সরকারের মুখপাত্র মোহাজেরানি ইন্টারনেটে এ ধরনের বৈষম্যের কথা উড়িয়ে দিয়েছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন, সরকারের নীতি হলো সবার জন্য উন্মুক্ত ইন্টারনেট। কিন্তু গত ১০ই মার্চ তিনি নিজের সেই অবস্থান থেকে পুরোপুরি সরে আসেন। তার এই উল্টো সুরই অবশেষে রাষ্ট্রের আসল উদ্দেশ্যটি সবার সামনে পরিষ্কার করে দেয়-দেশে ইন্টারনেট সংযোগ কেবল তাদের জন্যই বরাদ্দ থাকবে, যারা সরকারের স্বার্থ রক্ষা করে কথা বলবে।

এই পরিস্থিতি আমাদের প্রতিক্রিয়ার জন্য কী বোঝায়

ইরানের তথ্য সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়াগুলোর একটি সাধারণ ধারণা আছে: তথ্য রক্ষা বা পুনর্গঠন করতে হবে। ইন্টারনেট স্বাধীনতা সংগঠনগুলো বিচ্ছিন্ন মানুষদের আবার সংযুক্ত করতে চায়। ডিজিটাল নিরাপত্তা টুল নজরদারি ও ডিভাইস জব্দের ঝুঁকি কমাতে কাজ করে। যাচাইকারী সংস্থা ও প্রযুক্তি ভুয়া বা কৃত্রিম কনটেন্ট শনাক্ত করে। প্ল্যাটফর্মগুলো লেবেলিং ও মডারেশনের মাধ্যমে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে চায়। প্রতিটি উদ্যোগ নিজ নিজ জায়গায় যুক্তিযুক্ত, কিন্তু সবার মধ্যে একটি ভুল ধারণা রয়েছে- অবকাঠামো এবং কনটেন্ট আলাদা সমস্যা। মোহাজেরানির বক্তব্য সেই বিভাজন ভেঙে দিয়েছে। এখন কে সংযোগ পাবে, সেটিই নির্ধারণ করছে কে কী বলতে পারবে।

কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ চলে এসেছে সংযোগ ব্যবস্থার ভেতরে। লড়াই শুধু কী বলা যাবে তা নিয়ে নয়, বরং কেউ আদৌ কথা বলার সুযোগ পাবে কি না-তা নিয়েও। আর যাদের চুপ করানো হচ্ছে, তাদের নীরবতাকেও নির্মাণ করা হচ্ছে।

প্রচলিত স্থলভিত্তিক ইন্টারনেট রাষ্ট্রকে একটি নিয়ন্ত্রণের কেন্দ্র দেয়-অবকাঠামোর ওপর সার্বভৌমত্ব মানেই কণ্ঠের ওপর নিয়ন্ত্রণ। তবে বিকল্প রয়েছে। স্যাটেলাইট ইন্টারনেট একটি সম্ভাবনাময় পথ, শুধু বাধা এড়ানোর উপায় হিসেবে নয়, বরং রাষ্ট্রীয় তথ্য নিয়ন্ত্রণের ধারণাকেই চ্যালেঞ্জ করার মাধ্যম হিসেবে। ডিরেক্ট-টু-সেল উদ্যোগ এই ধারণার ওপর দাঁড়িয়ে-রাষ্ট্র যে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা তৈরি করেছে, সেটিকে পাশ কাটিয়ে দেওয়া। কিন্তু কেবল মুক্ত সংযোগই যথেষ্ট নয়, যদি সেটি নতুন করে অন্য কারও হাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করে। জানুয়ারির ইন্টারনেট বন্ধের সময় দেখা গেছে, স্টারলিংক একটি কোম্পানির ইচ্ছায় চালু বা বন্ধ করা যায়, এটি ব্যবহারের জন্য চোরাই ডিভাইস দরকার হয়, এবং পরে ডিভাইস তল্লাশি হলে বড় নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের সমাধান বেসরকারি নিয়ন্ত্রণ নয়। প্রয়োজন গণতান্ত্রিক আন্তর্জাতিক শাসনব্যবস্থা, যেখানে স্যাটেলাইট ইন্টারনেটকে বৈশ্বিক সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং মানুষের কাছে জবাবদিহি থাকবে।

২০২৬ সালের মার্চে ইরানি উইমেনস কোয়ালিশন ফর ইন্টারনেট ফ্রিডম তাদের ঘোষণাপত্রে বলেছে, স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের শাসন মানেই ইন্টারনেটের শাসন, এবং এর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ হতে হবে, শুধু রাষ্ট্র বা কোম্পানির কাছে নয়।

বিদেশি হামলায় ইরানের মানুষ মারা যাচ্ছে। এসব মৃত্যুর জন্য সরকার সরাসরি দায়ী নয়। কিন্তু এই ঘটনাগুলো কীভাবে দেখা হবে, তা নিয়ন্ত্রণের অবকাঠামো তারা বহু বছর ধরে তৈরি করেছে। বিদেশি হামলায় ইরানের মানুষ মারা যাচ্ছে। এসব মৃত্যুর জন্য সরকার দায়ী নয়। কিন্তু ঘটনাগুলো কীভাবে দেখা হবে, তা নিয়ন্ত্রণের জন্য তারা যে অবকাঠামো গড়ে তুলেছে, মোহাজেরানির ঘোষণা সেই বাস্তবতাকেই প্রকাশ করেছে। যাদের কাছে ‘হোয়াইট সিম’ আছে, তারা যোগাযোগের সুযোগ পাচ্ছে না-তাদের ব্যবহার করা হচ্ছে বার্তা ছড়ানোর জন্য।

আরাগচির সিবিএস-এ উপস্থিতি এই ব্যবস্থার একটি স্পষ্ট উদাহরণ। তিনি জুমের মাধ্যমে আমেরিকান টেলিভিশনে কথা বলছেন, অথচ দেশের মানুষ নিরাপদে নিজেদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছে না। এটি কোনো ব্যতিক্রম নয়। এটি সেই ব্যবস্থারই কাজ, যেখানে সংযোগ একটি জনসেবা নয়, বরং রাষ্ট্রের বার্তা ছড়ানোর মাধ্যম। দেশের ভেতরে তথ্যযুদ্ধ জেতার প্রয়োজন তারা আর মনে করে না। তাদের লক্ষ্য এখন বাইরের বিশ্বকে প্রভাবিত করা।

এই ব্যবস্থায় কী প্রবাহিত হচ্ছে, কে তা বহন করছে, আর একই সময়ে কে নীরব হয়ে যাচ্ছে-এসব আলাদা প্রশ্ন নয়। এগুলোকে আলাদা ধরে নেওয়া হলে কোনো সমাধান সময়মতো আসবে না। এটি মূলত অবকাঠামোর সমস্যা। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যতক্ষণ না এটিকে সেইভাবে স্বীকার করছে, ততক্ষণ এই কাঠামো পুরোপুরি গড়ে উঠবে আর তখন সেটিকে থামানোর পথ খুঁজে পাওয়াও কঠিন হবে।

কার্নেগি এনডাওমেন্ট ডট ওআরজি-তে প্রকাশিত নিবন্ধটি বাংলায় অনূদিত। কার্নেগি এন্ডোমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস ওয়াশিংটনভিত্তিক একটি নির্দলীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও ইউরোপ, দক্ষিণ এশিয়া, পূর্ব এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যে এর কার্যক্রম বিস্তৃত।

লেখক মাহসা আলিমারদানি উইটনেস এর ‘টেকনোলজি থ্রেটস অ্যান্ড অপরচুনিটিজ’ প্রোগ্রামের অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টর। এর পাশাপাশি তিনি অক্সফোর্ড ইন্টারনেট ইনস্টিটিউটের একজন ডক্টরাল গবেষক।

সম্পর্কিত