Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১৫ অক্টোবর, ২০২৬
১৫ অক্টোবর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১৫ অক্টোবর, ২০২৬
১৫ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> ভাবনা

বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন গণতন্ত্রের পরীক্ষা

গ্রেস করকরান

গ্রেস করকরান

প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮: ৪৫
বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন গণতন্ত্রের পরীক্ষা

চলতি জানুয়ারির শুরুতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সংগঠন জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাকে হত্যা করা হয়। এর কয়েক সপ্তাহ আগে ২০২৪ এর জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের এক তরুণ নেতা শরিফ ওসমান হাদিকেও হত্যা করা হয়।

Advertisement

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বহু বছরের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ১২ কোটি ৮০ লাখ ভোটার দেশজুড়ে ৩০০ আসনে ভোট দেবেন। প্রায় এক দশকের বেশি সময় পর এটি বাংলাদেশের প্রথম গণতান্ত্রিক নির্বাচন। এতে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ নিয়ে গণভোটও থাকছে। এই সনদে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের রূপরেখা-প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ, পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনী ব্যবস্থা, নির্বাহী ক্ষমতার ওপর কঠোর নজরদারি এবং সংসদীয় ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ প্রতিরোধে অন্যান্য ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যদি জুলাই সনদ পাস হয়, তবে কয়েক দশকের প্রাতিষ্ঠানিক বহুত্ববাদ ও গেঁড়ে বসা রাজনৈতিক পরিবারতন্ত্র ভেঙে দিতে পারে।

দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের রাজনীতি দুটি প্রধান দলের দখলে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ যিনি বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতির মেয়ে। বিএনপি গত ৩০ ডিসেম্বর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ছিল। খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং দেশের ষষ্ঠ রাষ্ট্রপতির স্ত্রী। তার ছেলে তারেক রহমান এখন দলটির চেয়ারম্যান।

তরুণদের নেতৃত্বে হওয়া ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থান জাতীয় আন্দোলনে রূপ নেয়। যেখানে শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবি ওঠে। বিক্ষোভকারীরা আওয়ামী লীগের কর্তৃত্ববাদী নীতি, বৈষম্য এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন না করার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নামেন। ওই বছরের আগস্টের শুরুতে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে নয়াদিল্লিতে পালিয়ে যান। এরপর আওয়ামী লীগকে আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গত সপ্তাহে পুলিশ হাদির মৃত্যুর জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করেছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement
ওসমান হাদির মৃত্যু: নয়াদিল্লি কি ‘বাংলাদেশ নীতি’ পুনর্বিবেচনা করবেosman-hadi

আগস্টের আন্দোলনের পর নোবেল জয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান পুনরুদ্ধারে কাজ করছে। আমেরিকান সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের গত ডিসেম্বর মাসে প্রকাশিত জরিপে দেখা গেছে, বিএনপির নির্বাচনে জেতার সম্ভাবনা বেশি। আর জামায়াতে ইসলামী কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে।

জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইসলামপন্থী দল এবং বিএনপির সাবেক মিত্র। ২০১৩ সালে আওয়ামী লীগ সমর্থিত একটি আদালত ধর্মভিত্তিক দলগুলোকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করলে জামায়াতকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে নিষিদ্ধ করা হয়। দুই সপ্তাহ আগে জামায়াত ঘোষণা করে যে, তারা মধ্যপন্থী, বহুত্ববাদী, ছাত্রনেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির সঙ্গে জোট গঠন করবে এবং আরও সাতটি দলের সঙ্গে একটি জোট তৈরি করবে।

গণঅভ্যুত্থান এবং শেখ হাসিনার দিল্লিতে পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক বেশ তিক্ত হয়েছে। হাসিনা সমর্থকদের বিরুদ্ধে একাধিক প্রতিশোধমূলক হামলা হয়েছে, যাদের অনেকেই হিন্দু ছিলেন। হাদি হত্যার পর আরও হামলা হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটের ভেতরের উগ্র ও ডানপন্থী শক্তিগুলো এই উত্তেজনাকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক প্রভাব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের অবনতিতে বিপাকে ত্রিপুরাbangladesh-india

নির্বাচনের পরও ভারতবিরোধী মনোভাব টিকে থাকার থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। শেখ হাসিনার শাসনামলে বাংলাদেশে ভারতের ব্যাপক প্রভাব ছিল। বর্তমানে ঢাকা ইসলামাবাদের সাথে সম্পর্ক উষ্ণ করার উদ্যোগ নিচ্ছে। সাম্প্রতিককালে পাকিস্তানের কাছ থেকে জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান কেনার সম্ভাবনার কথা ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। একই সাথে বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করছে। এই সম্পর্কগুলো কীভাবে বিকশিত হবে, তা প্রতিবেশীদের প্রতি ভারতের ভূমিকার ওপর গভীর প্রভাব ফেলবে। চীন ও পাকিস্তান সমর্থিত বাংলাদেশ নয়াদিল্লির জন্য বড় সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

বাংলাদেশ আঞ্চলিক রাজনীতিতে প্রভাবশালী খেলোয়াড় হতে চায়। ঢাকা আসিয়ানে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করছে এবং পাকিস্তানের সাথে মিলে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা-সার্ক পুনরুজ্জীবিত করার আশা করছে। যা ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে আরও তিক্ত করতে পারে। অল্প সময়ে আসিয়ানের সদস্যপদ পাওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে ধারণা করা হচ্ছে, বাংলাদেশ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে আন্তরিক প্রচেষ্টা চালাবে।

‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এখন কঠিন পরীক্ষার মুখে’India-Bangladesh Boarder

তবে আসিয়ানে বাংলাদেশের যাওয়ার জন্য বড় বাধা হতে পারে মিয়ানমার। কারণ রোহিঙ্গা সংকট অমীমাংসিত রয়েছে। নির্বাচনের ফলাফল ঢাকার এই ইস্যুতে দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিতে পারে। বিএনপি ইঙ্গিত দিয়েছে যে, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলা তাদের জাতীয় ও পররাষ্ট্রনীতির একটি অন্যতম প্রধান উপাদান হবে। অন্যদিকে চীনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে জামায়াত একটি স্বাধীন রোহিঙ্গা রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

চরমপন্থী ও ডানপন্থী মতাদর্শের উত্থান নারী ও সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে আরেকটি উদ্বেগের দিক। সারা দেশে ধর্মোন্মত্ততা বেড়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে রক্ষণশীল ইসলামি ব্যাখ্যা গুরুত্ব পাচ্ছে। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক যদি আরও খারাপ হয়, তবে হিন্দুদের ওপর হামলা ও ভাঙচুর বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ফেব্রুয়ারির নির্বাচন এবং জুলাই সনদ নিয়ে গণভোট বাংলাদেশের জন্য একটি সন্ধিক্ষণ। এই প্রক্রিয়া প্রকৃত প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার নিয়ে আসবে না কি বিদ্যমান ক্ষমতা কাঠামোকেই টিকিয়ে রাখবে-তা নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা, সংখ্যালঘু সুরক্ষা এবং পররাষ্ট্রনীতির ভবিষ্যৎ। জনগণের আন্দোলন টেকসই গণতান্ত্রিক পরিবর্তনে রূপ নিতে পারে কি না তা দেখার জন্য এই নির্বাচনের ফলাফল একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হয়ে থাকবে।

** লেখাটি লোয়ি ইনস্টিটিউট পরিচালিত দ্য ইন্টারপ্রেটর থেকে নিয়ে অনুবাদ করে প্রকাশিত। লোয়ি ইনস্টিটিউট অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক দল নিরপেক্ষ, স্বাধীন থিংক টাংক। **

গ্রেস করকরান অস্ট্রেলিয়া ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউটের ‘ভূ-রাজনীতি ও নিরাপত্তা’ বিষয়ক জ্যেষ্ঠ নীতি ও প্রকল্প ব্যবস্থাপক। এশিয়ায় অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রনীতি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, মিনিলেটারালিজম এবং উন্নয়ন সহযোগিতা আগ্রহের বিষয়। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াজুড়ে উচ্চ-পর্যায়ের সংলাপ, কৌশলগত উদ্যোগ এবং নীতি গবেষণার নকশা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে গ্রেসের আট বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে।

বিষয়: বিএনপিবাংলাদেশগণতন্ত্রনির্বাচনবিশ্লেষকের চোখেজুলাই সনদজামায়াতে ইসলামীত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনভোট
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    ওয়ালটন হাই-টেকের ২০তম এজিএম সফলভাবে অনুষ্ঠিত

  • ২

    ‘এখনও অলিগলিকে নিরাপদ করতে পারে নাই সরকার, এটা সত্যি’

  • ৩

    রিয়াদ ও দাম্মামে বিমানের সব ফ্লাইট ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত

  • ৪

    ‘স্বপ্নজাল’ সিনেমায় সানির ‘আমারে উড়াইয়া দিও’ কীভাবে গেল?

  • ৫

    দুর্গাপূজায় খুলনার ৯৫৬টি মণ্ডপে চার স্তরের নিরাপত্তা জোরদার

সম্পর্কিত
  • গোগোলের ওভারকোট বনাম রাজধানীর রাঙা দেয়াল: আকাকিদের গল্প কেন মিলে যায়?

    গোগোলের ওভারকোট বনাম রাজধানীর রাঙা দেয়াল: আকাকিদের গল্প কেন মিলে যায়?

    বেওয়ারিশ কুকুরের মতন ঢাকা শহরের এই সব আকাকিরা তাহলে কোথায় যাবে? তারাও কি ফুটপাথে বা রাস্তায় সিগারেট ফুঁকতে-ফুঁকতে বা মোবাইলে কথা বলতে-বলতে চলতে থাকা মধ্যবিত্তদের পথ রোধ করে পেটে বা গলায় ছুরি ধরে বলবে, ‘দে শালা! যা আছে, দিয়ে যা! নইলে ফুটা করে দেব’?

  • জনগণ কি ‘গৌরী সেন?’, ব্যাংক লুটের দায় কেন তারা নেবে?

    জনগণ কি ‘গৌরী সেন?’, ব্যাংক লুটের দায় কেন তারা নেবে?

    বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের আর্থিক ক্ষতি কাটাতে আগামী পাঁচ থেকে আট বছর পর্যন্ত প্রতি বছর ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। পাঁচ বছরে এই অর্থের পরিমাণ দাঁড়াবে ৩ লাখ কোটি টাকা, আট বছরে ৪ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা। এখন প্রশ্ন হলো, ব্যাংক লুট

  • কংগ্রেস কি সিজেপিকে শত্রু মনে করে?

    কংগ্রেস কি সিজেপিকে শত্রু মনে করে?

    অভূতপূর্ব কিছু একটা ঘটতে চলেছে। ভারতের বিরোধী দলগুলো এবং হাজার হাজার সাধারণ নাগরিক অবশেষে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ও সোচ্চার হয়ে উঠেছে। ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা দেওয়ার চেষ্টার বিরুদ্ধে এবং ভারতের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের পক্ষে তারা একজোট হয়ে কথা বলছে।

  • সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা: যেখানে তলে তলে টেম্পু চলে!

    সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা: যেখানে তলে তলে টেম্পু চলে!

    সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা। প্রতি শব্দের অদ্যাক্ষর নিয়ে মজা করে সংক্ষেপ করতে চাইলে হয়ে যায়, ‘স–স্বা’। এখন এটিকে উচ্চারণের কিঞ্চিৎ সমতার হিসাবে যদি ‘শসা’ হিসেবে চিহ্নিত করতে চান, তাতেও খুব একটা ভুল হবে না। কারণ আমাদের দেশে যেভাবে লবণের বিজ্ঞাপনে অবলীলায় শসা কচকচিয়ে খেয়ে ফেলার দৃশ্য দেখানো হয়