Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১৫ অক্টোবর, ২০২৬
১৫ অক্টোবর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১৫ অক্টোবর, ২০২৬
১৫ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> ভাবনা

মুক্তির যাত্রা অব্যাহত রাখতে দরকার শিক্ষা সংস্কার

মো. ফজলুল করিম

মো. ফজলুল করিম

প্রকাশ : ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৬: ২৬
মুক্তির যাত্রা অব্যাহত রাখতে দরকার শিক্ষা সংস্কার

২০২৬ সালের স্বাধীনতা দিবস একটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। এ বছর একটি অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরেছে। বাকস্বাধীনতা, বিচার বিভাগ ও আইনের শাসন নিয়ে দেশের মানুষ নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে। সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় বিচারহীনতার যুগের অবসান হবে—এই প্রত্যাশাও বেড়েছে। বৈষম্যহীন একটি সমাজ গড়ার আকাঙ্ক্ষা এই নির্বাচনের মাধ্যমে আরও দৃঢ় হয়েছে। তাই ২০২৬ সালকে বলা যায়–মুক্তির স্বাদ নতুন করে পাওয়ার বছর।

Advertisement

এই মুক্তির আকাঙ্ক্ষা থেকেই আমাদের রাষ্ট্রীয় যাত্রার সূচনা। কিন্তু পাকিস্তান থেকে মুক্ত হয়ে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম হলেও আমাদের মুক্তির সংগ্রাম এখনো শেষ হয়নি। আমরা গণতান্ত্রিক পথে বারবার হোঁচট খেয়েছি। বাকস্বাধীনতা নিয়ে আমাদের অস্বস্তি কাটেনি। বিচারহীনতা, আইনের শাসনের অভাব এবং এসব ক্ষেত্রে বৈষম্য আমাদের প্রতিনিয়ত মনে করিয়ে দেয়—রাষ্ট্র হিসেবে স্বাধীন হলেও আমরা নিজেদের ভেতরের বৈপরীত্য এখনো কাটিয়ে উঠতে পারিনি।

স্বাধীন বাংলাদেশের একটি বড় শক্তি হলো–আমাদের বিশাল জনসংখ্যা। অনেকে এটিকে চাপ হিসেবে দেখলেও আমার কাছে এটি আশীর্বাদ। এই জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করতে পারলে দেশ এগিয়ে যাবে প্রবল গতিতে—আমাদের আর থামিয়ে রাখা যাবে না।

অভিন্ন শিক্ষা ব্যবস্থা: সময়ের দাবিstudent

জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করতে হলে প্রয়োজন স্পষ্ট পরিকল্পনা। আর এই পরিকল্পনার কেন্দ্রে থাকতে হবে শিক্ষা। গত ইন্টেরিম সময়ে আমরা আশা করেছিলাম, তরুণদের প্রত্যাশার সাথে সামঞ্জস্য রেখে একটি যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। কিন্তু শিক্ষা সংস্কারের মাধ্যমে শিক্ষাকে আরও বাজারমুখী করার ক্ষেত্রে তেমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তবে সময় এখনো শেষ হয়ে যায়নি। বর্তমান সরকারের সামনে শিক্ষাকে ঢেলে সাজানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ এসেছে। এই স্বাধীনতা দিবসে আমাদের প্রত্যাশা—গতানুগতিক শিক্ষা থেকে বের হয়ে কার্যকর, বাস্তবমুখী শিক্ষাব্যবস্থার দিকে সরকার মনোযোগী হবে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

‘বৈষম্য’ শব্দটি স্বাধীনতার সঙ্গে একেবারেই বেমানান। অথচ আমাদের দেশে শিক্ষার্থীরা শিক্ষালাভের ক্ষেত্রেই স্তরে স্তরে বৈষম্যের শিকার হয়। গ্রামীণ ও শহুরে শিক্ষার মধ্যে রয়েছে ব্যাপক পার্থক্য। ফলে আমাদের উচ্চারণ আলাদা, ইংরেজি দক্ষতা আলাদা, মানসিকতা আলাদা—এমনকি চেতনাবোধও ভিন্ন। স্বাধীনতার যে অর্থ–শৃঙ্খল ভেঙে মুক্তির মিছিলে যোগ দেওয়ার সাহস—সেটিও সবার মধ্যে সমানভাবে বিকশিত হয় না। আমরা অনেকেই স্বপ্ন দেখতে ভয় পাই, নিজেদের সংকুচিত রাখি। দেয়ালে পিঠ না ঠেকা পর্যন্ত নিজেদের শক্তি বিশ্বাস করতে পারি না। এর ওপর বহুধারার শিক্ষাব্যবস্থা এই বৈষম্যকে আরও প্রকট করেছে। ফলে আমাদের দেশপ্রেমও একরকম নয়।

পরীক্ষা চলাকালীন শিক্ষার্থীরা। ছবি: চরচা
পরীক্ষা চলাকালীন শিক্ষার্থীরা। ছবি: চরচা

এভাবে একটি জাতি একক সত্তার জাতি হিসেবে গড়ে উঠতে পারে না। ফলে আমরা চরম ডান বা বামপন্থায় বিভক্ত হয়ে পড়ি, কিন্তু ‘বাংলাদেশপন্থী’ হয়ে উঠতে পারি না। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই মৌলিক সত্যটি আমরা প্রায়ই ভুলে যাই।

তরুণদের আত্মহত্যা: উন্নয়নের আড়ালে অদৃশ্য সংকটai

বর্তমান সরকারের স্লোগান ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ বাস্তবে রূপ দিতে হলে শিক্ষাব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তন আনতে হবে। একমুখী শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষার ওপর জোর দিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা না বাড়িয়ে বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশ্বমানের করে গড়ে তুলতে হবে। যেখানে উচ্চতর ডিগ্রির প্রয়োজন নেই, সেখানে অপ্রয়োজনীয় ডিগ্রি অর্জনের প্রবণতা কমাতে হবে। তবে যেখানে গবেষণা অপরিহার্য, সেখানে সর্বোচ্চ গুরুত্ব ও বরাদ্দ দিতে হবে।

গবেষণার জন্য আন্তর্জাতিক মানের অন্তত পাঁচটি কেন্দ্র গড়ে তুলতে হবে, যেখানে প্রয়োজনভিত্তিক গবেষণা পরিচালিত হবে এবং গবেষকদের উচ্চমানের বেতন নিশ্চিত করা হবে। এতে ‘ব্রেইন ড্রেইন’ কমে ‘ব্রেইন গেইন’ বাড়বে। বিদেশ থেকে উচ্চশিক্ষা নেওয়া গবেষকরা দেশে ফিরে আসতে উৎসাহিত হবেন। তাদের মাধ্যমে গড়ে উঠবে শক্তিশালী পাবলিক-প্রাইভেট অংশীদারত্ব। শুধু সরকার নয়, বড় বড় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও জ্ঞানভিত্তিক উন্নয়নে অংশীদার হবে।

স্বাধীনতার অর্থ যদি হয় পরাধীনতা থেকে মুক্তি, তবে বাংলাদেশকে অবশ্যই শিক্ষাক্ষেত্রে পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙতে হবে। সবক্ষেত্রে বিদেশ নির্ভরতা কমিয়ে নিজেদের পণ্য ও জ্ঞানকে উচ্চমূল্যসম্পন্ন করে তুলতে হবে। এতে একদিকে জনসংখ্যা জনসম্পদে রূপান্তরিত হবে, অন্যদিকে আয় বৃদ্ধি পেয়ে সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য কমবে।

এটি করতে পারলে আমাদের গল্প হবে–নিজেদের মেরুদণ্ডে দাঁড়ানো একটি জাতির গল্প। আমাদের প্রতিরক্ষা হবে জ্ঞাননির্ভর, শিল্প হবে বিশ্বমানের। কিন্তু যদি আমরা আবারও একই ভুলের পুনরাবৃত্তি করি, তবে স্বাধীনতার অর্থ কেবল একটি দিনেই সীমাবদ্ধ হয়ে যাবে। তাই এই স্বাধীনতা দিবসে আমাদের শপথ হোক–মুক্তির স্লোগান শুরু হোক শিক্ষা সংস্কারের মাধ্যমে।

লেখক: অধ্যাপক, বিজিই বিভাগ, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

বিষয়: পাকিস্তানবাংলাদেশনির্বাচনশিক্ষাবৈষম্যঅধ্যাপকআইনমহান স্বাধীনতা দিবসজনসংখ্যা
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    সিজিএসের আন্তর্জাতিক উপদেষ্টা পরিষদে যারা রয়েছেন

  • ২

    উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে উত্তাল চুয়েট, বন্ধ ক্লাস-পরীক্ষা

  • ৩

    মবের শিকার ৪৫০০ শিক্ষক কেমন আছেন?

  • ৪

    বিসিএসের সাফল্য ছাপিয়ে নায়লার স্বপ্ন শিশুদের গড়া

  • ৫

    নিজ দেশেই কেন নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হচ্ছে ভারতীয়দের?

সম্পর্কিত
  • সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা: যেখানে তলে তলে টেম্পু চলে!

    সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা: যেখানে তলে তলে টেম্পু চলে!

    সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা। প্রতি শব্দের অদ্যাক্ষর নিয়ে মজা করে সংক্ষেপ করতে চাইলে হয়ে যায়, ‘স–স্বা’। এখন এটিকে উচ্চারণের কিঞ্চিৎ সমতার হিসাবে যদি ‘শসা’ হিসেবে চিহ্নিত করতে চান, তাতেও খুব একটা ভুল হবে না। কারণ আমাদের দেশে যেভাবে লবণের বিজ্ঞাপনে অবলীলায় শসা কচকচিয়ে খেয়ে ফেলার দৃশ্য দেখানো হয়

  • ব্যারিকেড গণতন্ত্রের কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ করতে পারে না

    ব্যারিকেড গণতন্ত্রের কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ করতে পারে না

    গত কয়েক মাসে যন্তর মন্তর এলাকায় বেশ জোরদার আন্দোলন-বিক্ষোভ দেখা গেছে। ভারতের নির্বাচন কমিশনের কার্যকলাপ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনের জেরে নতুন করে বিক্ষোভের ঢেউ উঠেছে।

  • পাকিস্তান: স্থিতিশীলতা কেন আজও অধরা

    পাকিস্তান: স্থিতিশীলতা কেন আজও অধরা

    সাম্প্রতিক ঘটনাবলি আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা কতটা অধরা। পারস্পরিক দোষারোপের মধ্য দিয়ে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর পিটিআই ও সরকারের মধ্যকার সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করে।

  • গাইড বইয়ের বিপরীতে একটা নির্মোহ প্রস্তাবনা

    গাইড বইয়ের বিপরীতে একটা নির্মোহ প্রস্তাবনা

    বর্তমানে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জনের অনেক মাধ্যম চোখে পড়ে। এখন শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে পাঠ্যপুস্তক, গাইড বই, রেফারেন্স বই ও শিক্ষকের পাশাপাশি রয়েছে ইন্টারনেট, জার্নাল, মাল্টিমিডিয়া, ইউটিউবসহ নানা পরিসর। তবে এখন পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সহজলভ্য মাধ্যম হয়ে আছে গাইড বই