শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের ডাকা প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচিতে সংঘর্ষ ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। গুরুতর আহত হয়েছেন ঢাকা-১৮ আসনের প্রার্থী মহিউদ্দিন রনি। একই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীও। প্রশ্ন উঠেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে এ ধরনের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ কি আচরণবিধি ভঙ্গের আওতায় পড়ে?
রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা ২০২৫’র ৬ ধারায় প্রার্থী ও তার সমর্থকদের জনদূর্ভোগ সৃষ্টিকারী যেকোনো ধরনের সভা-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ওই ধারায় বলা হয়েছে, “জনগণের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করিতে পারে এমন কোনো স্থান, সড়ক, মহাসড়ক ও জনপথে জনসভা, পথসভা কিংবা কোনো ধরনের সভা-সমাবেশ করিতে পারিবেন না এবং প্রার্থী বা দলের পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তিও অনুরূপভাবে জনসভা বা পথসভা বা সভা-সমাবেশ করিতে পারিবেন না।”
জাতিসংঘের অধীনে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র প্রয়াত হাদিকে হত্যার ঘটনা তদন্তের দাবিতে বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে অবস্থান নিয়েছিলেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মীরা। পরদিন শুক্রবার দুপুরে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের মোড় ও শাহবাগ এলকায় অবরোধ করেন।
অবরোধ একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় আন্দোলনাকারীরা। সন্ধ্যার দিকে আন্দোলনকারীরা পুনরায় শাহবাগে অবস্থান নেন। আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ তাদের ওপর লাঠিচার্জ করে এবং কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে।
পরে রাত পৌনে ৮টার দিকে একবার পুরো এলাকার নিয়ন্ত্রণে নেয় পুলিশ। পরে রাতে আবারও শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন আন্দোলনকারীরা। সবশেষ রাত সাড়ে ১০টার দিকে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে শাহবাগ ছাড়ে তারা।
হাসপাতালে রনি, মন্তব্য পাওয়া যায়নি নাসীরের
গতকাল শুক্রবার রাতে হাদি হত্যার বিচার দাবিতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের দ্বিতীয় দফার সংঘর্ষের সময় আহত হন ঢাকা-১৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মহিউদ্দিন রনি। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, শাহবাগ আজিজ সুপার মার্কেটের সামনে আন্দোলনকারীদের পুলিশের লাঠিচার্জ থেকে বাঁচাতে ঢাল হয়ে দাঁড়ান রনি। এ সময় বেধড়ক লাঠিচার্জের শিকার হন তিনি।
আহত রনিকে নেওয়া হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে। পরে মধ্যরাতে তাকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান গণমাধ্যমকে জানান, মহিউদ্দিন রনিকে ভর্তি দেওয়া হয়েছে। তার সারা শরীর স্ক্যান করা হয়েছে, তবে কোনো গুরুতর জখম পাওয়া যায়নি।
ইনকিলাব মঞ্চের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণে আচরণবিধি ভঙ্গ হয়েছে কি না, জানতে মহিউদ্দিন রনির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তার ব্যক্তিগত নম্বরে যোগাযোগ করা হলে রনির মা পরিচয়ে একজন নারী জানান, রনি গুরুতর আহত, কথা বলার অবস্থায় নেই।
এদিকে শুক্রবার রাতে শাহবাগে ইনকিলাব মঞ্চের কর্মসূচিতে অংশ নেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে শাহবাগ পুলিশ বক্সের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেন ১১ দলীয় জোট মনোনীত ঢাকা-৮ আসনের এ প্রার্থী। একপর্যায়ে রমনা জোনের অতিরিক্ত কমিশনার মাসুদ আলম নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মীদের শাহবাগ ছেড়ে দিতে অনুরোধ করার আহবান জানান।
ইনকিলাব মঞ্চের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে সাড়া পাওয়া যায়নি। বার্তা পাঠালেও তিনি তার উত্তর দেননি।
ইসি ও বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য
ইনকিলাব মঞ্চের কর্মসূচি প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমিন টুলি জানান, নির্বাচন ব্যহত করে কিংবা জনদূর্ভোগ সৃষ্টি করে–এমন কর্মসূচিতে কোনো প্রার্থী অংশ নিতে পারেন না। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন ব্যবস্থা নিতে পারে বল মত তার।
জেসমিন টুলি চরচাকে বলেন, “ইলেকশনকে ব্যহত করবে এবং জনদুর্ভোগ বাড়াবে এবং এই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মাধ্যমে যে ইলেকশনের পরিবেশটা নষ্ট করা–এটা হতে পারে না। দুজন প্রার্থী এমন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করলেন। এখন নির্বাচন কমিশন তাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নিতে পারে অথবা কী করা উচিত, তা দেখতে আমরা অপেক্ষা করব।”
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ চরচাকে জানিয়েছেন, ইনকিলাব মঞ্চের কর্মসূচি এবং তাতে একজন প্রার্থী আহত হওয়ার সামগ্রিক ঘটনাটি ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটি তদন্ত করছে। তিনি বলেন, “ইনকোয়ারি কমিটির তদন্ত শেষে সুপারিশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে কমিশন। আর ওই কর্মসূচিতে সংঘর্ষের ঘটনার বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা নেবে।”