তুহিন কান্তি দাস

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলের গেট ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখাসহ তিনটি দাবি জানিয়েছেন নারী শিক্ষার্থীরা। সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে ‘বৈষম্যহীন নারী হল চাই’ নামক একটি প্ল্যাটফর্ম।
দাবি তিনটি হলো ছাত্রী হলে প্রচলিত 'সান্ধ্য আইন' বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ছাত্রী হলের গেট ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখতে হবে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত ছাত্রীদের বৈধ বিশ্ববিদ্যালয় পরিচয়পত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো ছাত্রী হলে প্রবেশ ও অনুমতি সাপেক্ষে রাত্রিযাপনের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে এবং যেকোনো ছাত্রী পরিবারের নারী সদস্যদের হলের রুম পর্যন্ত যাওয়ার অনুমতি দিতে হবে।
প্রশ্ন হলো ২৪ ঘণ্টা হলগেট খোলা রাখার এ দাবি কেন তারা তুলছেন?
বৈষম্যহীন ছাত্রী হল প্লাটফর্মের পক্ষ থেকে কবি সুফিয়া কামাল হল সংসদের সহসভাপতি (ভিপি) সানজানা চৌধুরী রাত্রি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি নারী হলে দীর্ঘদিন ধরে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু বিধিনিষেধ ও নিয়মনীতি চালু আছে, যেগুলো বৈষম্যমূলক ও হয়রানিমূলক। এ বিষয়গুলো নিয়ে গতকাল রোববার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীরা, বিভিন্ন হল সংসদের প্রতিনিধি, ডাকসু প্রতিনিধি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিয়াশীল রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর প্রায় ২৫ জনের অংশগ্রহণে ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক হয়। সেখানে বিস্তারিত আলোচনা শেষে নতুন এই প্ল্যাটফর্ম গঠন করে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

রাত্রি আরও বলেন, একবিংশ শতাব্দীতে এসে আমাদের রাত ১০টার মধ্যে হলে ঢুকতে হয়। দেখা গেছে কারো বাবা অসুস্থ হয়ে গিয়েছে কিংবা সংকটকালীন সময়ে কোনো সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তাকে বসে অ্যাপ্লিকেশন লিখতে হয়,হাউজ টিউটরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়, ফ্লোর ম্যামের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয় এতে কিন্তু দীর্ঘ একটা সময় নষ্ট হয়। এই যে নিয়ম কানুনগুলো আমরা মনে করছি এই সময়ে এসে যুক্তিযুক্ত নয়। এইগুলোর পরিবর্তন দরকার। বিশেষ বিবেচনায় আমরা ভিসি স্যারকে বলেছি যে ২৪ ঘণ্টাই যেন হল খোলা রাখা হয়। যেন আইডি কার্ড দেখিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী যে কেউ যে কোনও সময় হলে ঢুকতে পারে এবং বের হতে পারে।
এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক সানজিদা আহমেদ তন্বী, ডাকসুর সদস্য হেমা চাকমা, ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল সংসদের সাংস্কৃতিক সম্পাদক হুমায়ারা উপন্যাস এবং ছাত্রদলের নারী বিষয়ক সম্পাদক চেমম ফারিয়া ইসলাম মেঘলা উপস্থিত ছিলেন। প্লাটফর্মের পক্ষে দাবিগুলো তুলে ধরেন চেমন ফারিয়া ইসলাম মেঘলা। দাবি উপস্থাপন শেষে মেঘলা বলেন, আমার আশা করি এই যৌক্তিক দাবিগুলো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মেনে নেবে।
জানতে চাইলে ডাকসু সদস্য হেমা চাকমা চরচাকে বলেন, আপনারা নিশ্চয়ই জানেন, কুয়েত মৈত্রী হলের একজন শিক্ষার্থী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময়টা দেরি হওয়ার কারণে কিন্তু মারা গিয়েছিল। হলে কিন্তু আমরা থাকি৷ হল থেকে বের হওয়ার জন্য আমাদের যে বিষয়গুলো করা লাগে সেটা হচ্ছে, ফ্লোর ম্যামকে আগে একটা অ্যাপ্লিকেশন করতে হয়৷ এবং ফ্লোর মেম যদি পারমিশন দেয় তাহলে আমরা হল থেকে বের হতে পারবো। কিন্তু দেখেন একজন শিক্ষার্থীর গলায় হঠাৎ যদি কিছু আটকে যায়, সে যদি ইমিডিয়েট অসুস্থ হয়ে পড়ে, যদি কেউ স্ট্রোক করে; সব হল থেকে ডিএমসি কিন্তু খুব কাছে কিন্তু তারপরও মৈত্রী হলের মেয়েটার মৃত্যুর দায়বদ্ধতা আমাদের ভাবায়। আমি ডাকসুর একজন সদস্য৷ ডাকসুতে ২৮ জনের মধ্যে নারী আছে ৭ জন৷ কিন্তু যখন কোনো ইনসিডেন্ট ঘটে, কোনো একটা মেয়ে যদি অসুস্থ হয়; সেই নারী শিক্ষার্থীকে নিয়ে আমি যদি হাসপাতালে যেতে চাই; তাহলে তার বের হওয়ার জন্য এবং আমার বের হওয়ার জন্য যে সময়টা আমার ব্যয় করতে হয় সেটা কিন্তু একজন ছেলে শিক্ষার্থীকে করতে হয় না৷ একজন ছেলে শিক্ষার্থী রাত দুইটা বাজে প্রক্টরিয়াল টিমকে ফোন করে চলে যেতে পারে। আমরা কিন্তু পারি না৷
বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্রী হলগুলোয় সাধারণত রাত ১০টার মধ্যে মূল গেট দিয়ে প্রবেশ করতে হয়। এছাড়া 'লেট পার্মিশন' এর মাধ্যমে ফ্লোর শিক্ষকের অনুমতি নিয়ে বিভিন্ন হলে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত প্রবেশ করা যায়।
তাছাড়া শামসুন নাহার হলে রাত ১২টা পর্যন্ত হল কার্ড দেখিয়ে কারণ উল্লেখ করে এবং সুফিয়া কামাল হলে 'লেট পাসের' কার্ড বানিয়ে ১০টার পর প্রবেশ করা যায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলের গেট ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখাসহ তিনটি দাবি জানিয়েছেন নারী শিক্ষার্থীরা। সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে ‘বৈষম্যহীন নারী হল চাই’ নামক একটি প্ল্যাটফর্ম।
দাবি তিনটি হলো ছাত্রী হলে প্রচলিত 'সান্ধ্য আইন' বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ছাত্রী হলের গেট ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখতে হবে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত ছাত্রীদের বৈধ বিশ্ববিদ্যালয় পরিচয়পত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো ছাত্রী হলে প্রবেশ ও অনুমতি সাপেক্ষে রাত্রিযাপনের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে এবং যেকোনো ছাত্রী পরিবারের নারী সদস্যদের হলের রুম পর্যন্ত যাওয়ার অনুমতি দিতে হবে।
প্রশ্ন হলো ২৪ ঘণ্টা হলগেট খোলা রাখার এ দাবি কেন তারা তুলছেন?
বৈষম্যহীন ছাত্রী হল প্লাটফর্মের পক্ষ থেকে কবি সুফিয়া কামাল হল সংসদের সহসভাপতি (ভিপি) সানজানা চৌধুরী রাত্রি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি নারী হলে দীর্ঘদিন ধরে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু বিধিনিষেধ ও নিয়মনীতি চালু আছে, যেগুলো বৈষম্যমূলক ও হয়রানিমূলক। এ বিষয়গুলো নিয়ে গতকাল রোববার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীরা, বিভিন্ন হল সংসদের প্রতিনিধি, ডাকসু প্রতিনিধি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিয়াশীল রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর প্রায় ২৫ জনের অংশগ্রহণে ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক হয়। সেখানে বিস্তারিত আলোচনা শেষে নতুন এই প্ল্যাটফর্ম গঠন করে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

রাত্রি আরও বলেন, একবিংশ শতাব্দীতে এসে আমাদের রাত ১০টার মধ্যে হলে ঢুকতে হয়। দেখা গেছে কারো বাবা অসুস্থ হয়ে গিয়েছে কিংবা সংকটকালীন সময়ে কোনো সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তাকে বসে অ্যাপ্লিকেশন লিখতে হয়,হাউজ টিউটরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়, ফ্লোর ম্যামের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয় এতে কিন্তু দীর্ঘ একটা সময় নষ্ট হয়। এই যে নিয়ম কানুনগুলো আমরা মনে করছি এই সময়ে এসে যুক্তিযুক্ত নয়। এইগুলোর পরিবর্তন দরকার। বিশেষ বিবেচনায় আমরা ভিসি স্যারকে বলেছি যে ২৪ ঘণ্টাই যেন হল খোলা রাখা হয়। যেন আইডি কার্ড দেখিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী যে কেউ যে কোনও সময় হলে ঢুকতে পারে এবং বের হতে পারে।
এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক সানজিদা আহমেদ তন্বী, ডাকসুর সদস্য হেমা চাকমা, ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল সংসদের সাংস্কৃতিক সম্পাদক হুমায়ারা উপন্যাস এবং ছাত্রদলের নারী বিষয়ক সম্পাদক চেমম ফারিয়া ইসলাম মেঘলা উপস্থিত ছিলেন। প্লাটফর্মের পক্ষে দাবিগুলো তুলে ধরেন চেমন ফারিয়া ইসলাম মেঘলা। দাবি উপস্থাপন শেষে মেঘলা বলেন, আমার আশা করি এই যৌক্তিক দাবিগুলো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মেনে নেবে।
জানতে চাইলে ডাকসু সদস্য হেমা চাকমা চরচাকে বলেন, আপনারা নিশ্চয়ই জানেন, কুয়েত মৈত্রী হলের একজন শিক্ষার্থী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময়টা দেরি হওয়ার কারণে কিন্তু মারা গিয়েছিল। হলে কিন্তু আমরা থাকি৷ হল থেকে বের হওয়ার জন্য আমাদের যে বিষয়গুলো করা লাগে সেটা হচ্ছে, ফ্লোর ম্যামকে আগে একটা অ্যাপ্লিকেশন করতে হয়৷ এবং ফ্লোর মেম যদি পারমিশন দেয় তাহলে আমরা হল থেকে বের হতে পারবো। কিন্তু দেখেন একজন শিক্ষার্থীর গলায় হঠাৎ যদি কিছু আটকে যায়, সে যদি ইমিডিয়েট অসুস্থ হয়ে পড়ে, যদি কেউ স্ট্রোক করে; সব হল থেকে ডিএমসি কিন্তু খুব কাছে কিন্তু তারপরও মৈত্রী হলের মেয়েটার মৃত্যুর দায়বদ্ধতা আমাদের ভাবায়। আমি ডাকসুর একজন সদস্য৷ ডাকসুতে ২৮ জনের মধ্যে নারী আছে ৭ জন৷ কিন্তু যখন কোনো ইনসিডেন্ট ঘটে, কোনো একটা মেয়ে যদি অসুস্থ হয়; সেই নারী শিক্ষার্থীকে নিয়ে আমি যদি হাসপাতালে যেতে চাই; তাহলে তার বের হওয়ার জন্য এবং আমার বের হওয়ার জন্য যে সময়টা আমার ব্যয় করতে হয় সেটা কিন্তু একজন ছেলে শিক্ষার্থীকে করতে হয় না৷ একজন ছেলে শিক্ষার্থী রাত দুইটা বাজে প্রক্টরিয়াল টিমকে ফোন করে চলে যেতে পারে। আমরা কিন্তু পারি না৷
বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্রী হলগুলোয় সাধারণত রাত ১০টার মধ্যে মূল গেট দিয়ে প্রবেশ করতে হয়। এছাড়া 'লেট পার্মিশন' এর মাধ্যমে ফ্লোর শিক্ষকের অনুমতি নিয়ে বিভিন্ন হলে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত প্রবেশ করা যায়।
তাছাড়া শামসুন নাহার হলে রাত ১২টা পর্যন্ত হল কার্ড দেখিয়ে কারণ উল্লেখ করে এবং সুফিয়া কামাল হলে 'লেট পাসের' কার্ড বানিয়ে ১০টার পর প্রবেশ করা যায়।