গত ১১ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়। এর পর আগে থেকে সামাজিক মাধ্যমে ব্যস্ত থাকা রাজনৈতিক নেতারা আরও জোরেশোরে নামেন প্রচারে। নির্বাচনের আচরণবিধির ধারা-১৮ অনুযায়ী ২২ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করতে পারার কথা সবাই।
প্রার্থীরা প্রচার শুরুর জন্য এতদিন অপেক্ষা করতে রাজি হননি। তফসিল পরবর্তী ৩০ দিনে মেটায় (ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা থ্রেডসে) বাংলাদেশে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনে ৪১ হাজার ৩৭২ ডলার বা ৫০ লাখ ২১ হাজার টাকার বেশি ব্যয় হয়েছে। ১০০ ডলারের কম অঙ্কের বিজ্ঞাপনের হিসাব মেটা অ্যাড লাইব্রেরিতে সরাসরি দেওয়া হয় না। অর্থাৎ, রাজনৈতিক দলগুলোর বিজ্ঞাপন ব্যয় এর চেয়েও অনেক বেশি।
মেটা অ্যাড লাইব্রেরির রিপোর্ট অনুযায়ী, ১২ ডিসেম্বর থেকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশি রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনে ন্যূনতম ১০০ ডলার ব্যয় করা হয়েছে ১২১টি পেজ থেকে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বাইরে আরও পাঁচটি দল এ সময় রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনে কোনো পেজ থেকে ন্যূনতম ১০০ ডলার ব্যয় করেছে।
এর মধ্যে ১৫টি পেজ কোনো নির্দিষ্ট আসন কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন দেয়নি, নিজ রাজনৈতিক আদর্শ বা অবস্থানের কথা জানিয়েছে। এবং এ কাজে ৫ হাজার ৯৪৭ ডলার ব্যয় করা হয়েছে।
বাকি ১০৬টি পেজই আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নির্দিষ্ট কোনো প্রার্থীর প্রচারে ব্যস্ত ছিল। এই ১০৬টি পেজ থেকে ৩০ দিন সময়সীমায় ৩৫ হাজার ৪২৫ ডলার ব্যয় করা হয়েছে। আবারও স্পষ্ট করে দেওয়া ভালো, অন্তত ১০০ ডলার ব্যয় করেছে–এমন পেজগুলোই শুধু এই পর্যবেক্ষণে স্থান পেয়েছে।
এই ১০৬টি পেজ থেকে ৩৫টি জেলার মোট ৭৭টি আসনের প্রার্থীর জন্য সমর্থন চাওয়া হয়েছে। ১৩টি আসনে অন্তত দুজন প্রার্থী ফেসবুক প্রচারণায় ১০০ ডলার ব্যয় করেছেন। আর ঢাকা-১৭ ও সিলেট-১ আসনে এ সংখ্যা তিনজন।
১১ জন প্রার্থীর পক্ষে একাধিক পেজ থেকে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। ঢাকা-১৬ ও মেহেরপুর-২ আসনের একজন করে প্রার্থীর প্রচারণায় ভিন্ন তিনটি পেজ থেকে ন্যূনতম ১০০ ডলার ব্যয় করা হয়েছে। তিনজন প্রার্থী দুই শতাধিক বিজ্ঞাপন দিয়েছেন ৩০ দিনে। সাতজন প্রার্থী অন্তত ১০০০ ডলার ব্যয় করেছেন। একটি কেন্দ্রে দুই প্রার্থীকেই ১০০০ ডলারের বেশি ব্যয় করতে দেখা গেছে।
দাপট যাদের
১২১টি পেজ থেকে রাজনৈতিক বার্তা ছড়াতে অন্তত ১০০ ডলার ব্যয় করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৬২টি পেজ বিএনপির হয়ে প্রচার চালিয়েছে। সর্বোচ্চ ১,৭৫৫ ডলার ব্যয় করা বিএনপি মিডিয়া সেল (BNP Media Cell) দলের পক্ষে বার্তা দিয়েছে। বিএনপির অফিশিয়াল পেজ (Bangladesh Nationalist Party-BNP) থেকে ১,১৭০ ডলারের বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে।
৫০টি পেজ থেকে নির্দিষ্ট কোনো আসনের প্রার্থীর পক্ষে বার্তা দেওয়া হয়েছে। একজন প্রার্থী দলের মনোনয়ন না পেয়ে পরে সরে দাঁড়িয়েছেন। আরেকজন প্রার্থী মনোনয়ন না পেয়ে নিজের পিতার হয়ে প্রচার চালাচ্ছেন।
ওদিকে ৩৩টি পেজ থেকে জামায়াতের প্রচার করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু একটি পেজ নির্দিষ্ট কোনো আসন বা প্রার্থীর হয়ে কথা বলেনি। এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষে ৬টি পেজ থেকে প্রচার করতে দেখা গেছে। এবি পার্টি, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি, জাসদ-বিসিএল ও গণঅধিকারের মাত্র একটি করে পেজ থেকে ১০০ ডলারের বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে ভিন্ন ১০ স্বতন্ত্র প্রার্থীর হয়ে বিজ্ঞাপন দেখা গেছে। এদের মধ্যে তিনজন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী।
political parties advertisementকোন দলের কত ব্যয়
সংসদ নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী বিএনপির। ফেসবুকে ব্যয়েও এগিয়ে তারা। তফসিল ঘোষণার পর ৩০ দিনে ন্যূনতম ১০০ ডলার ব্যয় করা পেজগুলোতে বিএনপির পক্ষে প্রচারে ২৫ হাজার ৩৯০ ডলার ব্যয় হয়েছে। ৯ হাজার ৫১১ ডলার ব্যয় করে জামাত আছে দুইয়ে। তাদের জোটসঙ্গী এনসিপি খরচ করেছে ১ হাজার ৮১১ ডলার। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১ হাজার ৪০৫ ডলার ব্যয় করেছে। এর বাইরে বিভিন্ন স্বতন্ত্র প্রার্থীর পেজ থেকে ২ হাজার ৩০২ ডলার ব্যয় করা হয়েছে।
political parties Social media advertisement expenses
বিজ্ঞাপন সংখ্যায়ও বিএনপির ধারেকাছে নেই কেউ। বিএনপি ১,৮৪৮টি বিজ্ঞাপন দিয়েছে। জামায়াত দিয়েছে এর অর্ধেকেরও কম, ৭৭২টি। দল হিসেবে এরপরই আছে ইসলামী আন্দোলন। তাদের ৮৯টি বিজ্ঞাপন পরের দুই স্থানে থাকা এবি পার্টি (৪৪) ও এনসিপির (৪৩) বিজ্ঞাপন সংখ্যার যোগফলের চেয়ে বেশি।
political parties advertisementঢাকাতেই নজর
ঢাকার ২০টি আসনের ১৫টিতেই কোনো না কোনো প্রার্থীর ক্ষেত্রে ফেসবুক বিজ্ঞাপনে ৩০ দিনে অন্তত ১০০ ডলার ব্যয় করতে দেখা গেছে। ২৪ জন প্রার্থীর হয়ে ১১,৯৫০ ডলার ব্যয় করা হয়েছে। অর্থাৎ, মোট ব্যয়ের ৩৩.৭% বা এক-তৃতীয়াংশের বেশি। সংসদ নির্বাচনে আলোচনায় এগিয়ে থাকা তিন দলই–বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি ঢাকায় বেশি অর্থ ব্যয় করেছে। বিএনপি ৬,৬৪১ ডলারের বিজ্ঞাপন দিয়েছে, যা তাদের আসনকেন্দ্রিক মোট ব্যয়ের ৩৩%। জামায়াত ৩৯% বা ৩,৫৬৬ ডলার বিজ্ঞাপন দিয়েছে ঢাকার আসনগুলোকে লক্ষ্য করে। আর এনসিপি ৯০৬ ডলার ব্যয় করেছে ঢাকায়, যা তাদের আসনভিত্তিক ব্যয়ের ৫০%-এর বেশি।
political parties advertisementবাকি জেলার কী হাল
ঢাকার বাইরে বাকি ৩৪টি জেলায় ব্যয় হয়েছে ৩৩,৪৭৫ ডলার। সর্বোচ্চ ২,২০৫ ডলার খরচ করা হয়েছে সিলেটে। এর পর আছে কুমিল্লা (১,৭৪২ ডলার), নোয়াখালী (১,৬৬২ ডলার) ও টাঙ্গাইল (১,৬৩৭ ডলার)। ১,৫৮৫ ডলার ব্যয় হয়েছে পাঁচে থাকা দিনাজপুর জেলায়। দলভিত্তিক ব্যয়ে ঢাকার বাইরে বিএনপির সবচেয়ে বেশি ব্যয় কুমিল্লা, দিনাজপুর, টাঙ্গাইল ও সুনামগঞ্জে। জামায়াতের ক্ষেত্রে মেহেরপুর, সিলেট, পাবনা ও ময়মনসিংহে প্রাধান্য ছিল। আর এনসিপি রংপুর, সিলেট, নোয়াখালী ও খুলনায় নজর দিয়েছে।
political parties advertisement
ব্যয়ে এগিয়ে কারা
পর্যবেক্ষণের ৩০ দিনে কোনো নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে সবচেয়ে বেশি ব্যয় করতে দেখা গেছে মো. আবুল কালামের ক্ষেত্রে। বিএনপির এই প্রার্থী কুমিল্লা-৯ আসনে দাঁড়িয়েছেন। এর বাইরে আরও ছয় প্রার্থী অন্তত ১ হাজার ডলার ব্যয় করেছেন। এদের মধ্যে শুধু একজন জামায়াতের প্রার্থী, দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান।
political parties advertisementমূল দুই দলের বাইরে এনসিপির এক প্রার্থী ৯০০ ডলারের বেশি ব্যয় করেছেন। ইসলামী আন্দোলনের এক প্রার্থী প্রায় ৬০০ ডলার ব্যয় করেছেন। আর স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে টাংগাইল-৮ আসনের সালাউদ্দিন আলমগীরকে ৪০০ ডলারের বেশি ব্যয় করতে দেখা গেছে ফেসবুক বিজ্ঞাপনে।
political parties advertisementবিজ্ঞাপন দেওয়ার হার কেমন
বিজ্ঞাপন দেওয়ার ক্ষেত্রে কৌতুহল জাগানো কিছু বিষয় দেখা গেছে। ৯২ জন প্রার্থীর হয়ে ২৬৫৮টি বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, গড়ে ২৮টি। তবে, চট্টগ্রাম-৫ আসনের বিএনপি প্রার্থী মাত্র একটি বিজ্ঞাপনে ৪৩০ ডলার ব্যয় করেছেন। নেত্রকোনা-১ ও মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থীরাও মাত্র একটি বিজ্ঞাপন দিয়েছেন ৩০ দিনে। ওদিকে ঢাকা-১৬ আসনের জামায়াত ও বিএনপির দুই প্রার্থীই আড়াই শর আশপাশে বিজ্ঞাপন দিয়েছেন। কুমিল্লার বিএনপি প্রার্থীও দুই শর বেশি বিজ্ঞাপন দিয়েছেন। আরও তিন প্রার্থীর ক্ষেত্রে অন্তত ১০০ বিজ্ঞাপন দেখা গেছে। আরও ৯ জন প্রার্থী অন্তত ৫০টি বিজ্ঞাপন দিয়েছেন। এই ১৫ জন প্রার্থীর মধ্যে শুধু একজন বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে।
political parties advertisement
বিজ্ঞাপনের লড়াই
ফেসবুক বিজ্ঞাপনে লড়াইটা সবচেয়ে জমেছে ঢাকার মিরপুরের দুটি আসনে। এর একটি ঢাকা-১৫ আসন। এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী ডা. শফিকুর রহমান ও বিএনপির প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। শফিকুর রহমানের হয়ে দুটি পেজ থেকে ১,২৬০ ডলারের বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। ওদিকে শফিকুল ইসলামের পক্ষ থেকে ১০২৫ ডলার ব্যয় করা হয়েছে। ওদিকে ঢাকা-১৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক। আর জামায়াতের প্রার্থী কর্নেল মো. আব্দুল বাতেন (অব.)। ফেসবুক বিজ্ঞাপন তিনটি পেজ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বীর চারগুণেরও বেশি ব্যয় করেছেন আমিনুল।
কিন্তু বিএনপি প্রার্থী যেখানে ২৪৯টি বিজ্ঞাপন দিয়েছেন, সেখানে জামায়াতের প্রার্থী দিয়েছেন ২৫৬টি বিজ্ঞাপন। নোয়াখালী-৩ আসনেও ব্যয়ের দিক থেকে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখা গেছে। বিএনপি প্রার্থী ৪২৯ ডলার ব্যয় করেছেন, ওদিকে জামায়াতের প্রার্থী দিয়েছেন ৪৮৪ ডলারের বিজ্ঞাপন।
বিজ্ঞাপনে আছেন হাদি, আছে ইসরায়েল-ফিলিস্তিনও
প্রার্থীর গুণ, প্রতিশ্রুতি ও দলের প্রচারের পাশাপাশি ফেসবুক ব্যবহারকারীদের টানতে ভিন্ন কিছু পদ্ধতিও দেখা গেছে। ১২১টি পেজের ১৮টি পেজেই ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদির ছবি ব্যবহার করে বিজ্ঞাপন দিতে দেখা গেছে। সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন গত ১২ ডিসেম্বর বেলা ২টা ২০ মিনিটের দিকে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে ওসমান হাদিকে মাথায় গুলি করে দুর্বৃত্তরা। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর মারা যান জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম মুখ। তার হত্যাকারীদের বিচারের দাবির কথা জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর ছয় ও বিএনপির পাঁচ প্রার্থীকে অন্তত একবার বিজ্ঞাপন দিতে দেখা যায়।
political parties advertisement
এ ছাড়া ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত নিয়ে পাঁচ প্রার্থী বিজ্ঞাপন দিয়েছেন। ইসলাম ধর্মানুসারীদের পবিত্র স্থান পবিত্র কাবা শরীফ নিয়েও ছয় প্রার্থী বিজ্ঞাপন দিয়েছেন। ভারতের সঙ্গে চলমান বৈরী সম্পর্ক নিয়ে বিজ্ঞাপন দিয়েছেন তিন প্রার্থী। ফুটবল দলের সাফল্য প্রত্যাশা করে বিজ্ঞাপন দিয়েছেন তিনজন। বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের বিশ্বকাপ খেলা উচিত কি উচিত নয়–এ নিয়েও বিজ্ঞাপন দিয়েছেন তিন প্রার্থী। এ ছাড়া ডিবি হারুন, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদের বিচার চেয়েও বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। হাদির বিচারের বাইরে অন্য সব বিজ্ঞাপন শুধু বিএনপি প্রার্থীদের ক্ষেত্রে দেখা গেছে।
পণ্যের প্রসারে রাজনৈতিক প্রচার
তিনটি পেজ পাওয়া গেছে, যারা সরাসরি কোনো দল বা প্রার্থীর হয়ে প্রচার করেনি। কিন্তু তারা বিজ্ঞাপন দেওয়ার সময় বিএনপির সমর্থকদের লক্ষ্য বানিয়েছে। এ কাজে বিএনপির প্রতীক বা নেতৃত্বকে ব্যবহার করেছে। যেমন “মার্টসেক্টর” (MartSector) এবং “BNP - ধানের শীষ” পেজ দুটি ই-শপ। কিন্তু তাদের পণ্য একদম পরিষ্কারভাবে বিএনপির সমর্থকদের উদ্দেশ্য করে বানানো। আবার “পলিটিকাল পোস্টার ল্যাব” (Political Poster Lab) পেজটি নির্বাচনের প্রচারণার ভিডিও বানিয়ে দেওয়ার বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। কিন্তু তাদের বিজ্ঞাপনের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে সবসময় বিএনপিকেই পাওয়া গেছে।
শেষ দিকে দৌড়
নির্বাচনের আচরণবিধি অনুযায়ী ২২ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করতে পারবেন। তাই ১৪ থেকে ২১ জানুয়ারি–৭ দিনের ডেটা পর্যবেক্ষণ করে দেখার চেষ্টা করা হয়েছে। যেহেতু নির্বাচনের সময় আরও এগিয়ে এসেছে, তাই এ ক্ষেত্রে ন্যূনতম ২০০ ডলার ব্যয় করেছে, এমন ফেসবুক পেজকে হিসেবে নেওয়া হয়েছে।
এ ক্ষেত্রে ২৮টি পেজ পাওয়া গেছে, যেখানে রাজনৈতিক বার্তা ছিল। এতে মোট ১৬ হাজার ৩৬৭ ডলার ব্যয় করা হয়েছে। সীমা কমিয়ে ১০০ ডলারে নামালে ৬১টি পেজ পাওয়া যায়, যারা রাজনৈতিক বার্তায় ২০ হাজার ৯৬৮ ডলার খরচ করেছে। অর্থাৎ, তফসিল ঘোষণার পরের ৩০ দিনের অর্ধেক ব্যয় এবারের সময়সীমায় ৭ দিনেই হয়ে গেছে। ২০০ ডলার ব্যয় করা পেজগুলোর মধ্যে ১৭টি থেকে বিএনপির সমর্থনে বার্তা দেওয়া হয়েছে। আর জামায়াতের পক্ষে ৫টি পেজে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। এনসিপির ছিল একটি।
এই ৭ দিনে সর্বোচ্চ ৩,৪৯০ ডলার ব্যয় করেছেন চট্টগ্রাম-৭ আসনের বিএনপি প্রার্থী হুমাম কাদের চৌধুরী। ঢাকা-১৫ এর বিএনপি প্রার্থী ১,১৬৩ ডলার ব্যয় করেছেন। বাগেরহাট-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ এইচ সেলিম ১,০৮৪ ডলার বিজ্ঞাপনে ব্যয় করেছেন। জামায়াতের পক্ষে সর্বোচ্চ ব্যয় ঢাকা-১৬ আসনে, কর্নেল মো. আব্দুল বাতেনের (অব.) পক্ষে ৫৩৪ ডলারের বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। আর ঢাকা-১৫ আসনে দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমানের পক্ষে ৪৩৫ ডলার ব্যয় করা হয়েছে।
গবেষণা পদ্ধতি
এই প্রতিবেদনে ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ১০ জানুয়ারি–তফসিল ঘোষণার পরের ৩০ দিনে মেটার অ্যাড লাইব্রেরিতে কারা বিজ্ঞাপন দিয়েছে, তা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ন্যূনতম ১০০ ডলার ব্যয় করেছে–এমন ১৮৫টি পেজ থেকে রাজনৈতিক বার্তা ছিল–এমন ১২১টি পেজ বিশ্লেষণের জন্য বেছে নেওয়া হয়। সাম্প্রতিক ট্রেন্ড দেখতে আবার ২০২৬ সালের ১৫ থেকে ২১ জানুয়ারির ডেটা নেওয়া হয়েছে। তবে নির্বাচনের সময় এগিয়ে আসায় ন্যূনতম ২০০ ডলার ব্যয় করেছে–এমন পেজগুলোই এক্ষেত্রে বিবেচনা করা হয়েছে।
লেখক: উপব্যবস্থাপক, ডিসমিসল্যাব