Advertisement Banner

কে এই লারিজানি

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
কে এই লারিজানি
আলী লারিজানি। ছবি: রয়টার্স

ইরানের রাজনীতির অন্যতম কুশলী ও বাস্তববাদী ব্যক্তিত্ব ছিলেন আলি লারিজানি। কাতার-ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইসরায়েল দাবি করেছে এক হামলায় তিনি নিহত হয়েছেন। যদিও এ বিষয়ে ইরান এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।

২০২৫ সালের আগস্ট মাসে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের সচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন লারিজানি। তিনি যখন দায়িত্ব নেন, তখন ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে উত্তেজনার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ইরানের শাসনব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা লারিজানিকে দেশটির অন্যতম প্রভাবশালী ‘পাওয়ার ব্রোকার’ হিসেবে বিবেচনা করা হতো।

১৯৫৮ সালে ইরাকের নাজাফে জন্ম নেওয়া আলি লারিজানি ইরানের বিখ্যাত ‘লারিজানি’ পরিবারের সদস্য। টাইম ম্যাগাজিন একবার এই পরিবারকে ‘ইরানের কেনেডি পরিবার’ হিসেবে অভিহিত করেছিল। লারিজানির পিতা ছিলেন একজন বিশিষ্ট ধর্মীয় নেতা। পারিবারিক আভিজাত্য এবং রাজনৈতিক সংযোগ তাকে শুরু থেকেই ক্ষমতার কেন্দ্রে অবস্থান করতে সাহায্য করেছে। মাত্র ২০ বছর বয়সে তিনি আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির ঘনিষ্ঠ সহযোগী মোতাহারির কন্যা ফারিদাহ মোতাহারিকে বিয়ে করেন।

সাধারণত ইরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ধর্মীয় ব্যাকগ্রাউন্ড থাকলেও লারিজানি এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। তার শিক্ষাগত জীবন ছিল বেশ বৈচিত্র্যময়। লারিজানি গণিত ও কম্পিউটার সায়েন্স বিষয়ে স্নাতক পাশ করেন। পরবর্তীতে পশ্চিমা দর্শনের ( ইমানুয়েল কান্টের দর্শন) ওপর পিএইচডি করেন।

১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর তিনি রেভল্যুশনারি গার্ডসে যোগ দেন। পরবর্তীতে তিনি সংস্কৃতি মন্ত্রী এবং রাষ্ট্রীয় প্রচারমাধ্যম ‘আইআরআইবি’-এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তিনি পরিচিতি পান ২০০৫ সালে ইরানের প্রধান পারমাণবিক আলোচক হিসেবে। যদিও ২০০৭ সালে তিনি সেই পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন।

২০০৮ সাল থেকে টানা তিন মেয়াদে তিনি ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৫ সালের ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তিতে (জেসিপিওএ) পার্লামেন্টের অনুমোদন আদায়ে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলী ভূমিকা রেখেছিলেন।

সম্পর্কিত