এবার তেলের ট্যাঙ্কার নিয়ে আমেরিকা-রাশিয়া উত্তেজনা

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
এবার তেলের ট্যাঙ্কার নিয়ে আমেরিকা-রাশিয়া উত্তেজনা
র্কিন বাহিনীর ধাওয়ার মুখে থাকা একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারকে পাহারা দেওয়ার জন্য রাশিয়া এগিয়ে এসেছে। ছবি: রয়টার্স

আটলান্টিক মহাসাগরের উত্তর অংশে একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে তীব্র সামরিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ‘মেরিনেরা’ (সাবেক বেলা ১) নামক এই জাহাজটিকে মার্কিন বাহিনী ধাওয়া করলে রাশিয়ার নৌবাহিনী সেটি রক্ষায় সাবমেরিন ও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে। বর্তমানে জাহাজটি আইসল্যান্ড ও ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জের মাঝামাঝি অবস্থানে রয়েছে।

সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, জাহাজটি ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল পরিবহন করলেও বর্তমানে এতে কোনো তেল নেই বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি, জাহাজটি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইরানি তেল পরিবহন করেছে।

এই আইনি জটিলতা এড়াতে জাহাজটি সম্প্রতি গায়ানার পরিবর্তে রাশিয়ার পতাকাবাহী জাহাজ হিসেবে নিবন্ধন করে। তবে মেরিটাইম ইন্টেলিজেন্স সংস্থা 'কেপলার'-এর সিনিয়র রিস্ক অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স অ্যানালিস্ট দিমিত্রিস আম্পাৎজিদিস বিবিসিকে জানান যে, জাহাজের নাম বা পতাকা পরিবর্তন খুব একটা কাজে নাও আসতে পারে।

মার্কিন কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, তারা জাহাজটি ডুবিয়ে দেওয়ার চেয়ে জব্দ করাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ওই এলাকায় ১০টি মার্কিন সামরিক পরিবহন বিমান ও হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে। মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড জানিয়েছে, তারা নিষেধাজ্ঞা প্রাপ্ত জাহাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সদা প্রস্তুত। এর আগে গত মাসেও ‘দ্য স্কিপার’ নামক একটি ট্যাঙ্কারকে একইভাবে জব্দ করেছিল মার্কিন মেরিন ও কোস্ট গার্ড।

অন্যদিকে, রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ঘটনাকে ‘অসামঞ্জস্যপূর্ণ নজরদারি’ হিসেবে অভিহিত করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের দাবি, জাহাজটি আন্তর্জাতিক আইন মেনেই শান্তিপূর্ণভাবে চলাচল করছে। মস্কো আশা করে যে, পশ্চিমা দেশগুলো সমুদ্রে অবাধ নৌ চলাচলের নীতি নিজেরাও মেনে চলবে।

উল্লেখ্য, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে রাজধানী কারাকাস থেকে মার্কিন বাহিনীর নাটকীয়ভাবে আটকের মাত্র কয়েক দিনের মাথায় এই নতুন উত্তেজনা শুরু হলো। মাদুরো ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক সংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগ এনেছে ওয়াশিংটন। এই প্রেক্ষাপটে মেরিনেরা ট্যাঙ্কারকে কেন্দ্র করে দুই পরাশক্তির মুখোমুখি অবস্থান বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সম্পর্কিত