Advertisement Banner

ক্যানসারের ‘ঝুঁকি’ কমাতে পারে বিয়ে

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
ক্যানসারের ‘ঝুঁকি’ কমাতে পারে বিয়ে
বিবাহিতদের মধ্যে ক্যান্সারের ঝুঁকি কম। ছবি: ফ্রিপিক

বিয়ে কেবল একটি সামাজিক আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং মানুষের সামগ্রিক সুস্থতার সঙ্গেও এর এক নিবিড় যোগসূত্র রয়েছে। মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ক্যানসার রিসার্চ কমিউনিকেশন্স’-এ প্রকাশিত নতুন এক গবেষণা এমন কথাই বলছে। এতে দেখা গেছে, অবিবাহিত ব্যক্তিদের তুলনায় বিবাহিতদের মধ্যে ক্যানসারের ঝুঁকি তুলনামূলক কম, যা ক্যান্সার প্রতিরোধে সামাজিক সহায়তার গুরুত্বকে নতুন করে সামনে এনেছে।

কী বলছে গবেষণা?

যেসব ব্যক্তি কখনও বিয়ে করেননি, তাদের মধ্যে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি দেখা গিয়েছে। কিছু নির্দিষ্ট ক্যানসারের ক্ষেত্রে এর মাত্রা আরও বেশি। গবেষণা অনুযায়ী, অবিবাহিত পুরুষদের মধ্যে ক্যানসারের ঝুঁকি ৬৮ শতাংশ বেশি। নারীদের ক্ষেত্রে এই হার প্রায় ৮৫ শতাংশ।

এই অনুসন্ধানগুলো ক্যানসার প্রতিরোধে দাম্পত্য জীবনের প্রভাব নিয়ে গবেষকদের মধ্যে নতুন কৌতূহল ও ব্যাপক আগ্রহের জন্ম দিয়েছে।

বিয়ে কেন ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে পারে?

গবেষকদের মতে, এর একটি প্রধান কারণ হলো সামাজিক সহায়তা। কারণ বিবাহিত ব্যক্তিদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ক্যানসার স্ক্রিনিং এবং প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণে উৎসাহ দেওয়ার মতো কেউ থাকে।

গবেষণার প্রধান লেখক পাউলো এস পিনেহেইরো বলেন, “অবিবাহিত ব্যক্তিরা তুলনামূলকভাবে বেশি সামাজিক বিচ্ছিন্নতায় ভোগেন, ফলে তারা প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবায় কম অংশ নেন।”

এ ছাড়া, বিয়ের সঙ্গে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের সম্পর্কও রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, বিবাহিত ব্যক্তিরা ধূমপান, অতিরিক্ত মদ্যপান বা ঝুঁকিপূর্ণ আচরণে কম জড়ান। এসব অভ্যাস ফুসফুস ও জরায়ুমুখ ক্যানসারের মতো রোগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।

লিঙ্গভিত্তিক চমকপ্রদ ফলাফল

মজার বিষয় হলো, আগে ধারণা ছিল পুরুষরা বিয়ে থেকে বেশি উপকার পান, কিন্তু এই গবেষণায় দেখা গেছে নারীরা আরও বেশি সুরক্ষা পেতে পারেন।

গবেষকদের মতে, যেসব নারী কখনও সন্তান জন্ম দেননি, তাদের ডিম্বাশয় ও এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি হতে পারে।

সঙ্গীরা সাধারণত প্রাথমিক রোগ নির্ণয় ও নিয়মিত চিকিৎসায় উৎসাহ দেন। ছবি: এআই দিয়ে তৈরি
সঙ্গীরা সাধারণত প্রাথমিক রোগ নির্ণয় ও নিয়মিত চিকিৎসায় উৎসাহ দেন। ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঙ্গীরা সাধারণত যত্নশীল ভূমিকা পালন করেন এবং প্রাথমিক রোগ নির্ণয় ও নিয়মিত চিকিৎসায় উৎসাহ দেন।

বিয়ে কি কারণ, নাকি একটি সূচক?

তবে সব বিশেষজ্ঞ এই বিষয়ে একমত নন। অনেকের মতে, এর পেছনে বিবাহিত জীবনের সঙ্গে যুক্ত কিছু সুবিধা কাজ করে—যেমন উন্নত স্বাস্থ্যবীমা ও চিকিৎসা সেবার সহজ প্রাপ্তি।

চিকিৎসা সেবার ক্ষেত্রে পক্ষপাতের বিষয়টি এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকট হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। অবিবাহিত রোগীদের পাশে কেউ নেই—এমন ধারণা থেকে প্রায়ই তাদের চিকিৎসার মান বা ধরনে পার্থক্য করা হয়, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সহায়তা

শেষ পর্যন্ত বিশেষজ্ঞরা একমত যে, শুধু বৈবাহিক অবস্থা নয়, সামাজিক সহায়তাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পরিবার, বন্ধু বা কমিউনিটির মাধ্যমে মানসিক ও অন্যান্য সহায়তা পাওয়া ক্যানসার প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় বড় প্রভাব ফেলে।

বিশ্বজুড়ে বিয়ের হার কমতে থাকায় গবেষকরা সবাইকে শক্তিশালী সহায়তা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করা, চিকিৎসা ব্যবস্থায় প্রতিবন্ধকতা কমানো এবং অবিবাহিতদের নিয়ে প্রচলিত ধারণা বদলানো-এসব উদ্যোগ ক্যানসারের ঝুঁকির ব্যবধান কমাতে সহায়ক হতে পারে।

সার্বিকভাবে বলা যায়, বিয়ে কিছু স্বাস্থ্যগত সুরক্ষা দিতে পারে, তবে ক্যানসার প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় আসল পার্থক্য গড়ে দেয় অর্থবহ সামাজিক সহায়তা। সেটি বিয়ের মাধ্যমেই হোক বা অন্য কোনো উপায়ে।

তথ্যসূত্র: টাইমস নাউ

সম্পর্কিত