মেরিনা মিতু

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি দুই শতাধিক আসনে জয় পেয়ে রাজ্য সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। রাজ্যটিতে প্রথমবারের মতো বিজেপি জয় পাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এই আলোচনার তুঙ্গে রয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তি ও পুশ ইনের বিষয়টি।
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ে বাংলাদেশ সরকার অভিনন্দন জানিয়েছে বলে খবর প্রকাশ হয়েছে ভারতীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে। এর মধ্যে ভারতীয় সংবাধমাধ্যম এনডিটিভি দেশটির সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর বরাত দিয়ে লিখেছে, বাংলাদেশ সরকার বিজেপির জয়ে অভিনন্দন জানিয়েছে। একই সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন সরকার তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তির বিষয়টি বিবেচনা করবে–এমন আশা করছে।
মমতা ব্যানার্জি তিস্তা চুক্তির ক্ষেত্রে ‘প্রতিবন্ধকতা’ তৈরি করেছিল–এমন মন্তব্য করে পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার চুক্তি চূড়ান্ত করবে বলে আশা প্রকাশ করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল।
এ ছাড়া পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ে বাংলাদেশ সরকার তিস্তা চুক্তিসহ দ্বিপক্ষীয় নানা বিষয়ে যে ‘সমস্যা’ ছিল, সেসব ব্যাপারে নতুন করে আলোচনা করবে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
এর কারণ হিসেবে এএনআইকে হেলাল বলেন, “আসলে, আগে আমরা দেখেছি যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তিস্তা ব্যারেজ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বাধা ছিলেন। এখন আমার মতে, শুভেন্দুর নেতৃত্বে বিজেপি নির্বাচন জেতায় তিস্তা ব্যারেজ চুক্তি, যা বাংলাদেশ সরকার ও মোদি সরকারের খুবই কাঙ্ক্ষিত ছিল, তা বাস্তবায়নে শুভেন্দু সহায়তা করবেন। আমি মনে করি, তৃণমূল কংগ্রেসের পরিবর্তে বিজেপি ক্ষমতায় আসায় এখন তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে।”

এই আশার একটি প্রেক্ষাপট আছে। কারণ, দেড় দশক আগে ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের আগে দুই দেশের পানি সম্পদমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে একমত হয়েছিল দুই পক্ষ। মনমোহন সিংয়ের সফরেই বহুল প্রতীক্ষিত তিস্তা চুক্তি হওয়ার কথা থাকলেও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধিতায় তা আটকে যায়।
নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার ভারতের ক্ষমতায় আসার পর তিস্তা চুক্তি নিয়ে আশার কথা শোনা গেলেও মমতার কারণেই তা হয়নি বলে এক ধরনের ভাষ্য আছে। ভারতের কেন্দ্র সরকারের তরফ থেকেও এই বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে যে, কেন্দ্র চাইলেও পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন সরকারের কারণে তারা তা পারছে না। ফলে এবার কেন্দ্র ও পশ্চিমবঙ্গে একই দল ক্ষমতায় আসাকে একটি সম্ভাবনা হিসেবে দেখছে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন দল বিএনপি।
এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান চরচাকে বলেন, “ভারত আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র। দেশের স্বার্থ রক্ষা করেই ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা হবে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বারবার বলেছেন যে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী তিস্তা চুক্তি নিয়ে সায় দিচ্ছেন না। সেক্ষেত্রে বিজেপি জয়লাভ করলে বাংলাদেশের মানুষের যে দীর্ঘদিনের আশা-আকাঙ্ক্ষা তিস্তা চুক্তি, সেটার আর কোনো বাধা থাকার কারণ নেই।”
তবে এ বিষয়ে সংশয়ী বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী। তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তি হতে পারে কি না–জানতে চাইলে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ চরচা প্রতিবেদকে পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন, “আপনার ধারণা কী? আপনিও তো অবজারভার।”
পরে সামান্য হেসে আযাদ বলেন, “ভারতে তো রাষ্ট্রীয় পরিবর্তন হয়নি। আপনি কেন এই প্রশ্ন করছেন? ন্যাশনালি পরিবর্তন না হলে পলিসি পরিবর্তন হবে কেমনে? আগে যেগুলো হয়েছে, সেগুলো বাহানা। সেগুলো বাংলাদেশকে ঠকানোর বাহানা ছিল।”
প্রায় একই অবস্থানে আছে ইসলামী আন্দোলনও। তিস্তার পানিবণ্টন নিয়ে দলটির মহাসচিব মাওলানা ইউনূস আহমাদ বলেন, “এখন যারা ক্ষমতায় আসছে, তাদের দৃষ্টিভঙ্গি যদি পরিবর্তন হয় তাহলে ওখানেও একটা সমস্যা হতে পারে। অর্থাৎ, ভারতীয় কেন্দ্র সরকারের যে দৃষ্টিভঙ্গি ছিল, তা যদি পরিবর্তন হয়, তাহলে বুঝতে হবে সমস্যা আছে। আর যদি তারা ইতিবাচক হিসেবে দেখে, তাহলে সমস্যা নাও হতে পারে। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার যদি আন্তরিক হয়, তাহলে সমস্যা দেখি না। এখন বোঝা যাবে তিস্তার পানিবণ্টন নিয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার আন্তরিক ছিল কি না। এটা আমাদের অবজারভেশনে রাখতে হবে।”
তিস্তা চুক্তিসহ পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর সমাধানের সম্ভাবনা ‘খুবই কম’ দেখছেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সহকারী সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন। চরচাকে তিনি বলেন, “এতদিন তারা (কেন্দ্রে বিজেপি সরকার) বলেছে যে, মমতা চায় না বলেই কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের বিরোধের কারণে তিস্তা চুক্তি হয়নি–বিষয়টা এমন ছিল না; এবারও তাই হবে। বরং বাংলাদেশকে পানি দিবই না–এই ধরনের একটা ঔদ্ধত্যও তৈরি করার চেষ্টা করবে। ফলে পানির ন্যায্য প্রাপ্যতার ব্যাপারে আমাদের দাবিটা অব্যাহত রাখতে হবে; আর নিজেদের পানি ব্যবস্থাপনাটাও জোরদার করতে হবে।”

এদিকে আলোচনায় উঠে এসেছে পুশ ইনের প্রসঙ্গটিও। পশ্চিমবঙ্গে ভোটের ফলাফলের আগেই সেখানে বিজেপি জিতলে বাংলাদেশে প্রভাব পড়বে বলে সংসদে আশঙ্কা প্রকাশ করছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের বিরোধী সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন।
সংসদের প্রথম অধিবেশন চলাকালে পশ্চিমবঙ্গের ভোটের উল্লেখ না করে আখতার হোসেন বলেন, “আঞ্চলিক বিষয়গুলো আমাদের খেয়াল রাখা প্রয়োজন। আমরা এমন একটা আঞ্চলিক অবস্থায়, পৃথিবীর এমন একটা স্থানে আমাদের অবস্থান, যেখানে আমরা অনেকগুলো বাস্তবতার সঙ্গে জড়িয়ে আছি। এই বাংলাদেশে শরণার্থীদের ঢল নামানো হতে পারে। এই চক্রান্ত আশপাশে চলছে। বিভিন্ন জায়গায় রোহিঙ্গারা অলরেডি চলে এসেছে। আমাদের প্রতিবেশী দেশ থেকে আবার যে মুসলমানদেরকে বের করে দিয়ে, আমাদের দেশে শরণার্থী হিসেবে ঢল নামানো হবে না, তার কোনো গ্যারান্টি নেই।”
একই ধরনের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ইউনূস আহমাদ। চরচাকে তিনি বলেন, “যে খবর পাচ্ছি, তাতে তো প্রভাব পড়ার আশঙ্কা আছে।”
কী ধরনের প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সেখানে মুসলিম বিদ্বেষী একটি বিষয় তো আগে থেকেই আছে। বিজেপির নেতা-কর্মীরা যারা আছেন, তাদের মধ্য থেকে মুসলিম বিদ্বেষ ছড়ানোর কিছু খবর কিন্তু এখনই আসতেছে। এটা আমাদের দেশের জন্য একটি আশঙ্কা থেকে যায়। ভারত সরকার যদি এ বিষয়ে নজর না দেয়, যারা উশৃঙ্খল তাদের নিয়ন্ত্রণ না করে, তাহলে আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।” এই প্রেক্ষাপটে ‘পুশ ইনের’ আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বলে জানান ইউনূস আহমাদ।
তবে এখনই এ নিয়ে শঙ্কিত নন বলে জানালেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ে দেশটির বাঙালিদের বাংলাদেশে ‘পুশ ইন’ করার কোনো শঙ্কা রয়েছে কি না–জানতে চাইলে চরচাকে তিনি বলেন, “এ নিয়ে এখনই সংশয় প্রকাশ করার সুযোগ নেই আসলে। আমরা ভাবছিও না।”

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি দুই শতাধিক আসনে জয় পেয়ে রাজ্য সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। রাজ্যটিতে প্রথমবারের মতো বিজেপি জয় পাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এই আলোচনার তুঙ্গে রয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তি ও পুশ ইনের বিষয়টি।
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ে বাংলাদেশ সরকার অভিনন্দন জানিয়েছে বলে খবর প্রকাশ হয়েছে ভারতীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে। এর মধ্যে ভারতীয় সংবাধমাধ্যম এনডিটিভি দেশটির সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর বরাত দিয়ে লিখেছে, বাংলাদেশ সরকার বিজেপির জয়ে অভিনন্দন জানিয়েছে। একই সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন সরকার তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তির বিষয়টি বিবেচনা করবে–এমন আশা করছে।
মমতা ব্যানার্জি তিস্তা চুক্তির ক্ষেত্রে ‘প্রতিবন্ধকতা’ তৈরি করেছিল–এমন মন্তব্য করে পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার চুক্তি চূড়ান্ত করবে বলে আশা প্রকাশ করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল।
এ ছাড়া পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ে বাংলাদেশ সরকার তিস্তা চুক্তিসহ দ্বিপক্ষীয় নানা বিষয়ে যে ‘সমস্যা’ ছিল, সেসব ব্যাপারে নতুন করে আলোচনা করবে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
এর কারণ হিসেবে এএনআইকে হেলাল বলেন, “আসলে, আগে আমরা দেখেছি যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তিস্তা ব্যারেজ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বাধা ছিলেন। এখন আমার মতে, শুভেন্দুর নেতৃত্বে বিজেপি নির্বাচন জেতায় তিস্তা ব্যারেজ চুক্তি, যা বাংলাদেশ সরকার ও মোদি সরকারের খুবই কাঙ্ক্ষিত ছিল, তা বাস্তবায়নে শুভেন্দু সহায়তা করবেন। আমি মনে করি, তৃণমূল কংগ্রেসের পরিবর্তে বিজেপি ক্ষমতায় আসায় এখন তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে।”

এই আশার একটি প্রেক্ষাপট আছে। কারণ, দেড় দশক আগে ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের আগে দুই দেশের পানি সম্পদমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে একমত হয়েছিল দুই পক্ষ। মনমোহন সিংয়ের সফরেই বহুল প্রতীক্ষিত তিস্তা চুক্তি হওয়ার কথা থাকলেও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধিতায় তা আটকে যায়।
নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার ভারতের ক্ষমতায় আসার পর তিস্তা চুক্তি নিয়ে আশার কথা শোনা গেলেও মমতার কারণেই তা হয়নি বলে এক ধরনের ভাষ্য আছে। ভারতের কেন্দ্র সরকারের তরফ থেকেও এই বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে যে, কেন্দ্র চাইলেও পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন সরকারের কারণে তারা তা পারছে না। ফলে এবার কেন্দ্র ও পশ্চিমবঙ্গে একই দল ক্ষমতায় আসাকে একটি সম্ভাবনা হিসেবে দেখছে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন দল বিএনপি।
এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান চরচাকে বলেন, “ভারত আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র। দেশের স্বার্থ রক্ষা করেই ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা হবে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বারবার বলেছেন যে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী তিস্তা চুক্তি নিয়ে সায় দিচ্ছেন না। সেক্ষেত্রে বিজেপি জয়লাভ করলে বাংলাদেশের মানুষের যে দীর্ঘদিনের আশা-আকাঙ্ক্ষা তিস্তা চুক্তি, সেটার আর কোনো বাধা থাকার কারণ নেই।”
তবে এ বিষয়ে সংশয়ী বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী। তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তি হতে পারে কি না–জানতে চাইলে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ চরচা প্রতিবেদকে পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন, “আপনার ধারণা কী? আপনিও তো অবজারভার।”
পরে সামান্য হেসে আযাদ বলেন, “ভারতে তো রাষ্ট্রীয় পরিবর্তন হয়নি। আপনি কেন এই প্রশ্ন করছেন? ন্যাশনালি পরিবর্তন না হলে পলিসি পরিবর্তন হবে কেমনে? আগে যেগুলো হয়েছে, সেগুলো বাহানা। সেগুলো বাংলাদেশকে ঠকানোর বাহানা ছিল।”
প্রায় একই অবস্থানে আছে ইসলামী আন্দোলনও। তিস্তার পানিবণ্টন নিয়ে দলটির মহাসচিব মাওলানা ইউনূস আহমাদ বলেন, “এখন যারা ক্ষমতায় আসছে, তাদের দৃষ্টিভঙ্গি যদি পরিবর্তন হয় তাহলে ওখানেও একটা সমস্যা হতে পারে। অর্থাৎ, ভারতীয় কেন্দ্র সরকারের যে দৃষ্টিভঙ্গি ছিল, তা যদি পরিবর্তন হয়, তাহলে বুঝতে হবে সমস্যা আছে। আর যদি তারা ইতিবাচক হিসেবে দেখে, তাহলে সমস্যা নাও হতে পারে। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার যদি আন্তরিক হয়, তাহলে সমস্যা দেখি না। এখন বোঝা যাবে তিস্তার পানিবণ্টন নিয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার আন্তরিক ছিল কি না। এটা আমাদের অবজারভেশনে রাখতে হবে।”
তিস্তা চুক্তিসহ পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর সমাধানের সম্ভাবনা ‘খুবই কম’ দেখছেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সহকারী সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন। চরচাকে তিনি বলেন, “এতদিন তারা (কেন্দ্রে বিজেপি সরকার) বলেছে যে, মমতা চায় না বলেই কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের বিরোধের কারণে তিস্তা চুক্তি হয়নি–বিষয়টা এমন ছিল না; এবারও তাই হবে। বরং বাংলাদেশকে পানি দিবই না–এই ধরনের একটা ঔদ্ধত্যও তৈরি করার চেষ্টা করবে। ফলে পানির ন্যায্য প্রাপ্যতার ব্যাপারে আমাদের দাবিটা অব্যাহত রাখতে হবে; আর নিজেদের পানি ব্যবস্থাপনাটাও জোরদার করতে হবে।”

এদিকে আলোচনায় উঠে এসেছে পুশ ইনের প্রসঙ্গটিও। পশ্চিমবঙ্গে ভোটের ফলাফলের আগেই সেখানে বিজেপি জিতলে বাংলাদেশে প্রভাব পড়বে বলে সংসদে আশঙ্কা প্রকাশ করছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের বিরোধী সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন।
সংসদের প্রথম অধিবেশন চলাকালে পশ্চিমবঙ্গের ভোটের উল্লেখ না করে আখতার হোসেন বলেন, “আঞ্চলিক বিষয়গুলো আমাদের খেয়াল রাখা প্রয়োজন। আমরা এমন একটা আঞ্চলিক অবস্থায়, পৃথিবীর এমন একটা স্থানে আমাদের অবস্থান, যেখানে আমরা অনেকগুলো বাস্তবতার সঙ্গে জড়িয়ে আছি। এই বাংলাদেশে শরণার্থীদের ঢল নামানো হতে পারে। এই চক্রান্ত আশপাশে চলছে। বিভিন্ন জায়গায় রোহিঙ্গারা অলরেডি চলে এসেছে। আমাদের প্রতিবেশী দেশ থেকে আবার যে মুসলমানদেরকে বের করে দিয়ে, আমাদের দেশে শরণার্থী হিসেবে ঢল নামানো হবে না, তার কোনো গ্যারান্টি নেই।”
একই ধরনের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ইউনূস আহমাদ। চরচাকে তিনি বলেন, “যে খবর পাচ্ছি, তাতে তো প্রভাব পড়ার আশঙ্কা আছে।”
কী ধরনের প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সেখানে মুসলিম বিদ্বেষী একটি বিষয় তো আগে থেকেই আছে। বিজেপির নেতা-কর্মীরা যারা আছেন, তাদের মধ্য থেকে মুসলিম বিদ্বেষ ছড়ানোর কিছু খবর কিন্তু এখনই আসতেছে। এটা আমাদের দেশের জন্য একটি আশঙ্কা থেকে যায়। ভারত সরকার যদি এ বিষয়ে নজর না দেয়, যারা উশৃঙ্খল তাদের নিয়ন্ত্রণ না করে, তাহলে আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।” এই প্রেক্ষাপটে ‘পুশ ইনের’ আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বলে জানান ইউনূস আহমাদ।
তবে এখনই এ নিয়ে শঙ্কিত নন বলে জানালেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ে দেশটির বাঙালিদের বাংলাদেশে ‘পুশ ইন’ করার কোনো শঙ্কা রয়েছে কি না–জানতে চাইলে চরচাকে তিনি বলেন, “এ নিয়ে এখনই সংশয় প্রকাশ করার সুযোগ নেই আসলে। আমরা ভাবছিও না।”