জেমস পামার

গত রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এই সংঘাতের অবসান ঘটাতে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে এবং এর ফলে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দ্রুতই পুনরায় উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে। যদিও এই চুক্তির বিশদ বিবরণ এখনো খুব একটা প্রকাশ করা হয়নি, তবুও এই যুদ্ধাবস্থার অবসানকে সামনে রেখে বেইজিং কীভাবে নিজের স্বার্থ রক্ষায় প্রতিক্রিয়া জানাবে এবং কোন কোন বিষয়কে তাদের ভবিষ্যৎ নীতির জন্য পাঠ হিসেবে গ্রহণ করবে, তা দেখা দরকার। চীন এই যুদ্ধ থেকে তাদের জ্বালানি নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলা, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং আঞ্চলিক জোট গঠনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা গ্রহণ করছে, যা তাদের আগামী দিনের বৈশ্বিক নীতিকে প্রভাবিত করবে।
ইরানের নতুন ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু এবং বেইজিংয়ের কূটনৈতিক চাল
ইরান যুদ্ধের সমাপ্তির পর বেইজিংয়ের প্রথম এবং প্রধান পদক্ষেপ হবে ইরানের নতুন ক্ষমতার অংশীদারদের সাথে সম্পর্ক জোরদার করা। যুদ্ধের আগে তেহরানের মূল রাজনৈতিক কাঠামোর সাথে চীনের অত্যন্ত শক্তিশালী সম্পর্ক ছিল। তবে ইরানের ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)’ বা ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সাথে তাদের যোগাযোগ তুলনামূলকভাবে দুর্বল ছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে এটি স্পষ্ট যে, যুদ্ধের পর আইআরজিসি দেশটির সবচেয়ে প্রভাবশালী শক্তিতে পরিণত হয়েছে। যদিও চীনা কোম্পানিগুলোর সাথে আইআরজিসির আগে থেকেই বিভিন্ন স্তরে যোগাযোগ ছিল। দুই দেশের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের পথও চালু ছিল। তবুও চীন এখন এই নতুন ব্যবস্থার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে একজন বিশ্বস্ত মধ্যস্থতাকারীর সন্ধান করবে। এই মধ্যস্থতাকারী হতে পারেন এমন কোনো অভিজ্ঞ ইরানি কূটনীতিক যিনি সফলভাবে এই নতুন শাসনব্যবস্থার সাথে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছেন। এই বছরের শেষ নাগাদ আইআরজিসির শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের অত্যন্ত গোপনে বেইজিংয়ে আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে, যাতে দ্বিপক্ষীয় কৌশলগত সম্পর্কের একটি নতুন রূপরেখা তৈরি করা যায়।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অগ্রাহ্য করার প্রবণতা এবং অর্থনৈতিক কূটনীতি
এই যুদ্ধের একটি বড় শিক্ষা হিসেবে চীন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতাকে নতুনভাবে মূল্যায়ন করছে। যদি যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত ইরানের ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাগুলো প্রত্যাহার করে নেয়, তবে তা বৈশ্বিক মঞ্চে মার্কিন চাপকে অগ্রাহ্য করার ক্ষেত্রে চীনের সাহস আরও বাড়িয়ে দেবে। চীনা কোম্পানিগুলো ভবিষ্যতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞাগুলো আরও খোলামেলাভাবে অমান্য করার হিসাব-নিকাশ করতে পারে। কারণ তারা নিশ্চিত যে কোনো প্রকার আন্তর্জাতিক সংঘাত বা বিরোধের সৃষ্টি হলে বেইজিংয়ের কেন্দ্রীয় সরকার তাদের পূর্ণ সমর্থন দেবে। চীন ইতিমধ্যে তাদের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ আইন প্রয়োগের মাধ্যমে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেছে এবং অর্থনৈতিক প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য তাদের নিজস্ব হাতিয়ার ও কৌশলের পরিধি ক্রমাগত প্রসারিত করছে। যদিও চীন হরমুজ প্রণালির মতো কোনো সংকীর্ণ জলপথ বা চোকপয়েন্টের সীমান্তে অবস্থিত নয়, তাই ইরানের মতো নৌ চলাচলের স্বাধীনতা ব্যাহত করার পথ তারা বেছে নেবে না, তবে বৈশ্বিক গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ চেইনের ওপর নিজেদের যে নিয়ন্ত্রণ রয়েছে, তা তারা নিজেদের স্বার্থে আরও কঠোরভাবে ব্যবহার করতে পারে।
জ্বালানি নিরাপত্তা: কৌশলগত তেল মজুদ এবং উৎসের বহুমুখীকরণ
ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে নবায়নযোগ্য বা পরিবেশবান্ধব শক্তির দিকে রূপান্তরের প্রক্রিয়া দ্রুততর হলেও, চীন বিপরীতভাবে আগের চেয়ে তেলের আমদানির প্রতি বেশি আগ্রহী হয়ে উঠবে। এর কারণ হলো, চীন ইতিমধ্যে নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসারে তাদের সর্বোচ্চ সাধ্যমতো চেষ্টা করে ফেলেছে, কিন্তু তা সত্ত্বেও চীনা অর্থনীতির একটি বিশাল অংশ এখনো জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল। ইরান যুদ্ধের কারণে ইরানের তেল আমদানিতে যে বিঘ্ন ঘটেছিল, তা চীন বেশ ভালোভাবেই মোকাবিলা করেছে এবং এই সংকটের মধ্যেও নিজেদের জ্বালানি রপ্তানি সচল রাখতে পেরেছে। তবে চীনের এই স্থিতিস্থাপকতা বা সক্ষমতার মূল চাবিকাঠি ছিল তাদের বিশাল এবং অত্যন্ত গোপনীয় কৌশলগত তেল মজুত। এই মজুত থেকে তেল ব্যবহারের ফলেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছিল। যদিও যুদ্ধ শুরুর আগে এই মজুতের প্রকৃত পরিমাণ কত ছিল এবং বর্তমানে তা কতটা হ্রাস পেয়েছে তা নিয়ে এখনো প্রশ্ন রয়ে গেছে।
অধিকাংশ হিসাব মতে, চীনের কৌশলগত তেলের মজুত প্রায় ১.৩ বিলিয়ন ব্যারেল। ২০২৫ সালে চীনের দৈনিক তেল আমদানি ছিল প্রায় ১১.৬ মিলিয়ন ব্যারেল, যা এই যুদ্ধের কারণে চলতি বছরের মে মাসে হ্রাস পেয়ে ৭.৮ মিলিয়ন ব্যারেলে নেমে আসে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, আগামী মাসগুলোতে চীন তার এই সংকট কাটাতে মজুত থেকে দৈনিক প্রায় ১ মিলিয়ন ব্যারেল তেল উত্তোলন করবে। এর অর্থ হলো চীন এখনো পর্যাপ্ত তেলের মজুত ধরে রেখেছে এবং বাজারে তেলের দাম পুরোপুরি হ্রাস পাওয়া পর্যন্ত তারা নতুন করে তেল কিনে মজুত পূরণ করার জন্য অপেক্ষা করতে পারে। তা সত্ত্বেও, এই যুদ্ধ চীনকে তাদের তেলের উৎস বহুমুখীকরণের শিক্ষা দিয়েছে। যার ফলে তারা এখন রাশিয়া এবং লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর ওপর বেশি নির্ভর করতে পারে। একই সাথে, ইরানের বর্তমান গভীর অর্থনৈতিক সংকটকে কাজে লাগিয়ে চীন তেলের দামে বড় ধরনের ছাড় পাওয়ার চেষ্টা করবে। ঠিক যেভাবে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রায় আক্রমণের পর রাশিয়ার সাথে এনার্জি বা জ্বালানি আলোচনায় বেইজিং নিজেদের অর্থনৈতিক ফায়দা হাসিল করেছিল।
গোয়েন্দা তৎপরতা এবং সামরিক মজুতের ওপর নজরদারি
বেইজিং এখন খুব ঘনিষ্ঠভাবে নজর রাখবে যে এই যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রকে তার সামরিক অস্ত্রের মজুত পুনরায় পূরণ করতে ঠিক কতদিন সময় লাগে। যদিও বিভিন্ন গণমাধ্যমে মার্কিন সামরিক উৎপাদন এবং সরবরাহ ব্যবস্থা কতটা ধীরগতির হতে পারে তা নিয়ে প্রচুর প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তবে চীনের শীর্ষ নেতারা সাধারণত সাংবাদিক বা উন্মুক্ত উৎসের তথ্যের ওপর সহজে আস্থা রাখেন না। তারা মনে করেন যে, চীনের মতো পশ্চিমা বিশ্বেও এই সমস্ত তথ্য কঠোরভাবে সরকার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও সেন্সর করা হয়। তাই এই বিষয়ে প্রকৃত সত্য জানার জন্য চীন ডিজিটাল এবং মানব উভয় মাধ্যম ব্যবহার করে সাইবার ও প্রথাগত গুপ্তচরবৃত্তি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করবে। বর্তমান সময়ে মার্কিন কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স ব্যবস্থা বিগত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল অবস্থানে থাকায় এই ধরণের গুপ্তচরবৃত্তি চালানো চীনের জন্য আরও সহজ হতে পারে।
মিয়ানমারের জান্তা সরকারের প্রতি সি চিনপিংয়ের নতুন নীতি
চীনের এই আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক কৌশলগত পরিবর্তনের আরেকটি বড় উদাহরণ দেখা গেছে তাদের প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারের ক্ষেত্রে। গত মঙ্গলবার চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং বেইজিংয়ে মিয়ানমারের জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইংকে স্বাগত জানান। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর এবং বিশেষ করে চীন-সমর্থিত নির্বাচনের মাধ্যমে মিন অং হ্লাইং গত এপ্রিলে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর এটিই তার প্রথম বেইজিং সফর। সামরিক অভ্যুত্থানের শুরুর দিকে চীন কিছুটা সতর্ক নীতি অবলম্বন করেছিল এবং চলমান গৃহযুদ্ধের মধ্যে মিয়ানমারের জাতিগত সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সাথেও সম্পর্ক বজায় রেখেছিল। তবে সি চিনপিংয়ের এই সাম্প্রতিক আনুষ্ঠানিক সমর্থন ইঙ্গিত করে যে চীন এখন পুরোপুরিভাবে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকারের দিকেই ঝুঁকে পড়েছে।
এই সফরটির আগে গত এপ্রিলে চীনের শীর্ষ কূটনীতিক ওয়াং ই মিয়ানমার সফর করেন এবং গত বছর বেইজিং বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করে তাদের যুদ্ধবিরতিতে বাধ্য করার জন্য চাপ সৃষ্টি করেছিল। এই অঞ্চলে চীনের মূল অগ্রাধিকার অপরিবর্তিত রয়েছে, যা হলো তাদের নিজস্ব নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষা করা এবং সীমান্ত অঞ্চলের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। এই সীমান্ত সুরক্ষার জন্য চীনকে একদিকে যেমন মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর সাথে চুক্তি করতে হচ্ছে– যারা মাদক, জুয়া এবং অনলাইন স্ক্যাম নেটওয়ার্কের সাথে জড়িত; তেমনি অন্যদিকে সীমান্তের নিয়ন্ত্রণকারী প্রধানত চীনা জাতিগত অপরাধী চক্রগুলোর সাথেও ভারসাম্য বজায় রাখতে হচ্ছে। এমনকি চীন এই বছর তাদের সীমান্ত প্রাচীর নির্মাণের কাজ এত আগ্রাসীভাবে বাড়িয়েছে যে তা কিছু কিছু জায়গায় মিয়ানমারের ভূখণ্ডের ভেতরেও প্রবেশ করেছে।
‘স্পাই টার্টল’ বা সামুদ্রিক গুপ্তচরবৃত্তির মনস্তাত্ত্বিক আতঙ্ক
চীনের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় সম্প্রতি একটি সতর্কবার্তা জারি করেছে। সেখানে বলা হয়েছে যে, বিদেশি শত্রুরা ইলেকট্রনিক সেন্সরযুক্ত ‘স্পাই টার্টল’ (গুপ্তচর কচ্ছপ) এবং ‘স্পাই ফিশ’ (গুপ্তচর মাছ) ব্যবহার করে চীনের উপকূলরেখার মানচিত্র তৈরি করার চেষ্টা করছে এবং এই বছর তারা এই ধরনের বেশ কিছু জলজ প্রাণী আটকও করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া অতীতে সামরিক উদ্দেশ্যে প্রশিক্ষিত ডলফিন বা সিল ব্যবহার করায় বিষয়টি পুরোপুরি অসম্ভব মনে না হলেও, কচ্ছপ বা মাছকে এই ধরনের জটিল মিশনের জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্পূর্ণ অবাস্তব।
উপকূলীয় তথ্য সংগ্রহের জন্য আধুনিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে আন্ডারওয়াটার ড্রোন বা পানির নিচের ড্রোনের মতো অনেক কার্যকর প্রযুক্তি রয়েছে। এর আসল ব্যাখ্যা হলো, স্থানীয় চীনা কর্তৃপক্ষ সম্ভবত কোনো বৈজ্ঞানিক গবেষণা বা সামুদ্রিক প্রাণী ট্র্যাকিং কর্মসূচির ইলেকট্রনিক ট্যাগকে সিআইএ-এর গোপন চক্রান্ত বলে ভুল করেছে, যা আসলে চীনা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর গভীর মনস্তাত্ত্বিক আতঙ্কেরই বহিঃপ্রকাশ।
অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক মন্দা এবং মার্কিন প্রযুক্তির টানাপোড়েন
এই ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব চীনের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি এবং প্রযুক্তি খাতের ওপরও পড়েছে। মার্কিন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক তাদের শক্তিশালী নতুন এআই মডেলের কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করেছে। কারণ মার্কিন কর্তৃপক্ষ তাদের নির্দেশ দিয়েছে যেন কোনো বিদেশি নাগরিক এই প্রযুক্তির অ্যাক্সেস না পায়। এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে এআই প্রযুক্তির প্রতিযোগিতা এখন মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার মূল বিষয়ে পরিণত হয়েছে। সাবেক মার্কিন কূটনীতিক ক্রিস ম্যাকগুয়ারের মতে, এই বিশৃঙ্খল সিদ্ধান্তটি নীতি নির্ধারকদের এই বিশ্বাস থেকেই এসেছে যে অ্যানথ্রোপিকের সর্বশেষ মডেলগুলো প্রকৃত নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন এনভিডিয়ার মতো বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর লবিংয়ের প্রতি নমনীয় হওয়ায় এই নিষেধাজ্ঞা কতদিন কার্যকর থাকবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
অন্যদিকে, চীনের নিজস্ব অর্থনীতিতেও বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। মে মাসে চীনের খুচরা বিক্রি ২০২২ সালের পর প্রথমবারের মতো অপ্রত্যাশিতভাবে সংকুচিত হয়েছে। বেইজিংয়ের শত চেষ্টা সত্ত্বেও চীনা পরিবারগুলো কেনাকাটা না করে উচ্চ হারে অর্থ সঞ্চয় করে চলেছে। এই প্রবণতা মূলত যুদ্ধ, এআই-ভিত্তিক চাকরি হারানোর ভয় এবং কোভিড-পরবর্তী অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে তৈরি হয়েছে। এই সতর্কতার প্রভাব চীনের বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারেও পড়েছে, যেখানে টানা পাঁচ মাস ধরে অভ্যন্তরীণ বিক্রি হ্রাস পাওয়ায় কোম্পানিগুলো আবার এক বিধ্বংসী মূল্যযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে, যা নিয়ন্ত্রণ করতে বেইজিং গত কয়েক মাস ধরে আপ্রাণ চেষ্টা করছিল।
লেখক: ডেপুটি এডিটর, ফরেন পলিসি পত্রিকা।
(এই লেখাটি ফরেন পলিসির সৌজন্যে।)

গত রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এই সংঘাতের অবসান ঘটাতে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে এবং এর ফলে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দ্রুতই পুনরায় উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে। যদিও এই চুক্তির বিশদ বিবরণ এখনো খুব একটা প্রকাশ করা হয়নি, তবুও এই যুদ্ধাবস্থার অবসানকে সামনে রেখে বেইজিং কীভাবে নিজের স্বার্থ রক্ষায় প্রতিক্রিয়া জানাবে এবং কোন কোন বিষয়কে তাদের ভবিষ্যৎ নীতির জন্য পাঠ হিসেবে গ্রহণ করবে, তা দেখা দরকার। চীন এই যুদ্ধ থেকে তাদের জ্বালানি নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলা, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং আঞ্চলিক জোট গঠনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা গ্রহণ করছে, যা তাদের আগামী দিনের বৈশ্বিক নীতিকে প্রভাবিত করবে।
ইরানের নতুন ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু এবং বেইজিংয়ের কূটনৈতিক চাল
ইরান যুদ্ধের সমাপ্তির পর বেইজিংয়ের প্রথম এবং প্রধান পদক্ষেপ হবে ইরানের নতুন ক্ষমতার অংশীদারদের সাথে সম্পর্ক জোরদার করা। যুদ্ধের আগে তেহরানের মূল রাজনৈতিক কাঠামোর সাথে চীনের অত্যন্ত শক্তিশালী সম্পর্ক ছিল। তবে ইরানের ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)’ বা ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সাথে তাদের যোগাযোগ তুলনামূলকভাবে দুর্বল ছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে এটি স্পষ্ট যে, যুদ্ধের পর আইআরজিসি দেশটির সবচেয়ে প্রভাবশালী শক্তিতে পরিণত হয়েছে। যদিও চীনা কোম্পানিগুলোর সাথে আইআরজিসির আগে থেকেই বিভিন্ন স্তরে যোগাযোগ ছিল। দুই দেশের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের পথও চালু ছিল। তবুও চীন এখন এই নতুন ব্যবস্থার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে একজন বিশ্বস্ত মধ্যস্থতাকারীর সন্ধান করবে। এই মধ্যস্থতাকারী হতে পারেন এমন কোনো অভিজ্ঞ ইরানি কূটনীতিক যিনি সফলভাবে এই নতুন শাসনব্যবস্থার সাথে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছেন। এই বছরের শেষ নাগাদ আইআরজিসির শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের অত্যন্ত গোপনে বেইজিংয়ে আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে, যাতে দ্বিপক্ষীয় কৌশলগত সম্পর্কের একটি নতুন রূপরেখা তৈরি করা যায়।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অগ্রাহ্য করার প্রবণতা এবং অর্থনৈতিক কূটনীতি
এই যুদ্ধের একটি বড় শিক্ষা হিসেবে চীন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতাকে নতুনভাবে মূল্যায়ন করছে। যদি যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত ইরানের ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাগুলো প্রত্যাহার করে নেয়, তবে তা বৈশ্বিক মঞ্চে মার্কিন চাপকে অগ্রাহ্য করার ক্ষেত্রে চীনের সাহস আরও বাড়িয়ে দেবে। চীনা কোম্পানিগুলো ভবিষ্যতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞাগুলো আরও খোলামেলাভাবে অমান্য করার হিসাব-নিকাশ করতে পারে। কারণ তারা নিশ্চিত যে কোনো প্রকার আন্তর্জাতিক সংঘাত বা বিরোধের সৃষ্টি হলে বেইজিংয়ের কেন্দ্রীয় সরকার তাদের পূর্ণ সমর্থন দেবে। চীন ইতিমধ্যে তাদের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ আইন প্রয়োগের মাধ্যমে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেছে এবং অর্থনৈতিক প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য তাদের নিজস্ব হাতিয়ার ও কৌশলের পরিধি ক্রমাগত প্রসারিত করছে। যদিও চীন হরমুজ প্রণালির মতো কোনো সংকীর্ণ জলপথ বা চোকপয়েন্টের সীমান্তে অবস্থিত নয়, তাই ইরানের মতো নৌ চলাচলের স্বাধীনতা ব্যাহত করার পথ তারা বেছে নেবে না, তবে বৈশ্বিক গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ চেইনের ওপর নিজেদের যে নিয়ন্ত্রণ রয়েছে, তা তারা নিজেদের স্বার্থে আরও কঠোরভাবে ব্যবহার করতে পারে।
জ্বালানি নিরাপত্তা: কৌশলগত তেল মজুদ এবং উৎসের বহুমুখীকরণ
ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে নবায়নযোগ্য বা পরিবেশবান্ধব শক্তির দিকে রূপান্তরের প্রক্রিয়া দ্রুততর হলেও, চীন বিপরীতভাবে আগের চেয়ে তেলের আমদানির প্রতি বেশি আগ্রহী হয়ে উঠবে। এর কারণ হলো, চীন ইতিমধ্যে নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসারে তাদের সর্বোচ্চ সাধ্যমতো চেষ্টা করে ফেলেছে, কিন্তু তা সত্ত্বেও চীনা অর্থনীতির একটি বিশাল অংশ এখনো জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল। ইরান যুদ্ধের কারণে ইরানের তেল আমদানিতে যে বিঘ্ন ঘটেছিল, তা চীন বেশ ভালোভাবেই মোকাবিলা করেছে এবং এই সংকটের মধ্যেও নিজেদের জ্বালানি রপ্তানি সচল রাখতে পেরেছে। তবে চীনের এই স্থিতিস্থাপকতা বা সক্ষমতার মূল চাবিকাঠি ছিল তাদের বিশাল এবং অত্যন্ত গোপনীয় কৌশলগত তেল মজুত। এই মজুত থেকে তেল ব্যবহারের ফলেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছিল। যদিও যুদ্ধ শুরুর আগে এই মজুতের প্রকৃত পরিমাণ কত ছিল এবং বর্তমানে তা কতটা হ্রাস পেয়েছে তা নিয়ে এখনো প্রশ্ন রয়ে গেছে।
অধিকাংশ হিসাব মতে, চীনের কৌশলগত তেলের মজুত প্রায় ১.৩ বিলিয়ন ব্যারেল। ২০২৫ সালে চীনের দৈনিক তেল আমদানি ছিল প্রায় ১১.৬ মিলিয়ন ব্যারেল, যা এই যুদ্ধের কারণে চলতি বছরের মে মাসে হ্রাস পেয়ে ৭.৮ মিলিয়ন ব্যারেলে নেমে আসে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, আগামী মাসগুলোতে চীন তার এই সংকট কাটাতে মজুত থেকে দৈনিক প্রায় ১ মিলিয়ন ব্যারেল তেল উত্তোলন করবে। এর অর্থ হলো চীন এখনো পর্যাপ্ত তেলের মজুত ধরে রেখেছে এবং বাজারে তেলের দাম পুরোপুরি হ্রাস পাওয়া পর্যন্ত তারা নতুন করে তেল কিনে মজুত পূরণ করার জন্য অপেক্ষা করতে পারে। তা সত্ত্বেও, এই যুদ্ধ চীনকে তাদের তেলের উৎস বহুমুখীকরণের শিক্ষা দিয়েছে। যার ফলে তারা এখন রাশিয়া এবং লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর ওপর বেশি নির্ভর করতে পারে। একই সাথে, ইরানের বর্তমান গভীর অর্থনৈতিক সংকটকে কাজে লাগিয়ে চীন তেলের দামে বড় ধরনের ছাড় পাওয়ার চেষ্টা করবে। ঠিক যেভাবে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রায় আক্রমণের পর রাশিয়ার সাথে এনার্জি বা জ্বালানি আলোচনায় বেইজিং নিজেদের অর্থনৈতিক ফায়দা হাসিল করেছিল।
গোয়েন্দা তৎপরতা এবং সামরিক মজুতের ওপর নজরদারি
বেইজিং এখন খুব ঘনিষ্ঠভাবে নজর রাখবে যে এই যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রকে তার সামরিক অস্ত্রের মজুত পুনরায় পূরণ করতে ঠিক কতদিন সময় লাগে। যদিও বিভিন্ন গণমাধ্যমে মার্কিন সামরিক উৎপাদন এবং সরবরাহ ব্যবস্থা কতটা ধীরগতির হতে পারে তা নিয়ে প্রচুর প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তবে চীনের শীর্ষ নেতারা সাধারণত সাংবাদিক বা উন্মুক্ত উৎসের তথ্যের ওপর সহজে আস্থা রাখেন না। তারা মনে করেন যে, চীনের মতো পশ্চিমা বিশ্বেও এই সমস্ত তথ্য কঠোরভাবে সরকার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও সেন্সর করা হয়। তাই এই বিষয়ে প্রকৃত সত্য জানার জন্য চীন ডিজিটাল এবং মানব উভয় মাধ্যম ব্যবহার করে সাইবার ও প্রথাগত গুপ্তচরবৃত্তি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করবে। বর্তমান সময়ে মার্কিন কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স ব্যবস্থা বিগত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল অবস্থানে থাকায় এই ধরণের গুপ্তচরবৃত্তি চালানো চীনের জন্য আরও সহজ হতে পারে।
মিয়ানমারের জান্তা সরকারের প্রতি সি চিনপিংয়ের নতুন নীতি
চীনের এই আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক কৌশলগত পরিবর্তনের আরেকটি বড় উদাহরণ দেখা গেছে তাদের প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারের ক্ষেত্রে। গত মঙ্গলবার চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং বেইজিংয়ে মিয়ানমারের জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইংকে স্বাগত জানান। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর এবং বিশেষ করে চীন-সমর্থিত নির্বাচনের মাধ্যমে মিন অং হ্লাইং গত এপ্রিলে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর এটিই তার প্রথম বেইজিং সফর। সামরিক অভ্যুত্থানের শুরুর দিকে চীন কিছুটা সতর্ক নীতি অবলম্বন করেছিল এবং চলমান গৃহযুদ্ধের মধ্যে মিয়ানমারের জাতিগত সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সাথেও সম্পর্ক বজায় রেখেছিল। তবে সি চিনপিংয়ের এই সাম্প্রতিক আনুষ্ঠানিক সমর্থন ইঙ্গিত করে যে চীন এখন পুরোপুরিভাবে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকারের দিকেই ঝুঁকে পড়েছে।
এই সফরটির আগে গত এপ্রিলে চীনের শীর্ষ কূটনীতিক ওয়াং ই মিয়ানমার সফর করেন এবং গত বছর বেইজিং বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করে তাদের যুদ্ধবিরতিতে বাধ্য করার জন্য চাপ সৃষ্টি করেছিল। এই অঞ্চলে চীনের মূল অগ্রাধিকার অপরিবর্তিত রয়েছে, যা হলো তাদের নিজস্ব নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষা করা এবং সীমান্ত অঞ্চলের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। এই সীমান্ত সুরক্ষার জন্য চীনকে একদিকে যেমন মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর সাথে চুক্তি করতে হচ্ছে– যারা মাদক, জুয়া এবং অনলাইন স্ক্যাম নেটওয়ার্কের সাথে জড়িত; তেমনি অন্যদিকে সীমান্তের নিয়ন্ত্রণকারী প্রধানত চীনা জাতিগত অপরাধী চক্রগুলোর সাথেও ভারসাম্য বজায় রাখতে হচ্ছে। এমনকি চীন এই বছর তাদের সীমান্ত প্রাচীর নির্মাণের কাজ এত আগ্রাসীভাবে বাড়িয়েছে যে তা কিছু কিছু জায়গায় মিয়ানমারের ভূখণ্ডের ভেতরেও প্রবেশ করেছে।
‘স্পাই টার্টল’ বা সামুদ্রিক গুপ্তচরবৃত্তির মনস্তাত্ত্বিক আতঙ্ক
চীনের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় সম্প্রতি একটি সতর্কবার্তা জারি করেছে। সেখানে বলা হয়েছে যে, বিদেশি শত্রুরা ইলেকট্রনিক সেন্সরযুক্ত ‘স্পাই টার্টল’ (গুপ্তচর কচ্ছপ) এবং ‘স্পাই ফিশ’ (গুপ্তচর মাছ) ব্যবহার করে চীনের উপকূলরেখার মানচিত্র তৈরি করার চেষ্টা করছে এবং এই বছর তারা এই ধরনের বেশ কিছু জলজ প্রাণী আটকও করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া অতীতে সামরিক উদ্দেশ্যে প্রশিক্ষিত ডলফিন বা সিল ব্যবহার করায় বিষয়টি পুরোপুরি অসম্ভব মনে না হলেও, কচ্ছপ বা মাছকে এই ধরনের জটিল মিশনের জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্পূর্ণ অবাস্তব।
উপকূলীয় তথ্য সংগ্রহের জন্য আধুনিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে আন্ডারওয়াটার ড্রোন বা পানির নিচের ড্রোনের মতো অনেক কার্যকর প্রযুক্তি রয়েছে। এর আসল ব্যাখ্যা হলো, স্থানীয় চীনা কর্তৃপক্ষ সম্ভবত কোনো বৈজ্ঞানিক গবেষণা বা সামুদ্রিক প্রাণী ট্র্যাকিং কর্মসূচির ইলেকট্রনিক ট্যাগকে সিআইএ-এর গোপন চক্রান্ত বলে ভুল করেছে, যা আসলে চীনা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর গভীর মনস্তাত্ত্বিক আতঙ্কেরই বহিঃপ্রকাশ।
অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক মন্দা এবং মার্কিন প্রযুক্তির টানাপোড়েন
এই ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব চীনের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি এবং প্রযুক্তি খাতের ওপরও পড়েছে। মার্কিন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক তাদের শক্তিশালী নতুন এআই মডেলের কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করেছে। কারণ মার্কিন কর্তৃপক্ষ তাদের নির্দেশ দিয়েছে যেন কোনো বিদেশি নাগরিক এই প্রযুক্তির অ্যাক্সেস না পায়। এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে এআই প্রযুক্তির প্রতিযোগিতা এখন মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার মূল বিষয়ে পরিণত হয়েছে। সাবেক মার্কিন কূটনীতিক ক্রিস ম্যাকগুয়ারের মতে, এই বিশৃঙ্খল সিদ্ধান্তটি নীতি নির্ধারকদের এই বিশ্বাস থেকেই এসেছে যে অ্যানথ্রোপিকের সর্বশেষ মডেলগুলো প্রকৃত নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন এনভিডিয়ার মতো বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর লবিংয়ের প্রতি নমনীয় হওয়ায় এই নিষেধাজ্ঞা কতদিন কার্যকর থাকবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
অন্যদিকে, চীনের নিজস্ব অর্থনীতিতেও বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। মে মাসে চীনের খুচরা বিক্রি ২০২২ সালের পর প্রথমবারের মতো অপ্রত্যাশিতভাবে সংকুচিত হয়েছে। বেইজিংয়ের শত চেষ্টা সত্ত্বেও চীনা পরিবারগুলো কেনাকাটা না করে উচ্চ হারে অর্থ সঞ্চয় করে চলেছে। এই প্রবণতা মূলত যুদ্ধ, এআই-ভিত্তিক চাকরি হারানোর ভয় এবং কোভিড-পরবর্তী অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে তৈরি হয়েছে। এই সতর্কতার প্রভাব চীনের বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারেও পড়েছে, যেখানে টানা পাঁচ মাস ধরে অভ্যন্তরীণ বিক্রি হ্রাস পাওয়ায় কোম্পানিগুলো আবার এক বিধ্বংসী মূল্যযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে, যা নিয়ন্ত্রণ করতে বেইজিং গত কয়েক মাস ধরে আপ্রাণ চেষ্টা করছিল।
লেখক: ডেপুটি এডিটর, ফরেন পলিসি পত্রিকা।
(এই লেখাটি ফরেন পলিসির সৌজন্যে।)