চরচা ডেস্ক

আমরা যখন একজন বুদ্ধিমান মানুষের ছবি কল্পনা করি, আমাদের চোখে ভেসে ওঠে অত্যন্ত মার্জিত, শান্ত এবং পরিশীলিত এক ব্যক্তিত্বের ছবি। তিনি জনসমক্ষে মেপে কথা বলেন, শব্দ চয়নে অত্যন্ত সতর্ক থাকেন এবং নিজের আবেগ বা ভাবনাকে সবসময় নিয়ন্ত্রণে রাখেন। এই যে ‘আদর্শ বুদ্ধিমান’ মানুষের চিত্রটি আমাদের সংস্কৃতিতে গেঁথে আছে, মনস্তাত্ত্বিক গবেষণার নতুন নতুন দিগন্ত কিন্তু এই চিরচেনা ছবিটিকে বারবার ভেঙে দিচ্ছে।
গত এক দশকের ভাষাতাত্ত্বিক ও স্নায়বিক গবেষণা বলছে, বুদ্ধিমত্তা সবসময় কেবল শান্ত স্বভাব বা পরিপাটি আচরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং কিছু অদ্ভুত এবং সামাজিকভাবে অস্বস্তিকর অভ্যাসের আড়ালেও লুকিয়ে থাকতে পারে অসাধারণ বুদ্ধিমত্তা বা বিচক্ষণতা।
বিশেষ করে দুটি অভ্যাস-নিজের সাথে কথা বলা এবং গালিগালাজ বা অপশব্দের ব্যবহার—যাকে আমরা সাধারণত পাগলামি বা অশিক্ষার লক্ষণ বলে মনে করি; গবেষণায় দেখা গেছে তা আসলে উন্নত মানের মস্তিষ্কের সংকেত।
নিজের সঙ্গে কথা বলা
সুপারমার্কেটের তাকে খাবার খুঁজতে খুঁজতে কেউ যখন নিজের সাথে নিজে কথা বলেন, আমরা সাধারণত তাকে কিছুটা এড়িয়ে চলি। আমাদের সামাজিক ধারণা হলো, যারা নিজের সাথে কথা বলেন তারা হয়তো মানসিকভাবে কিছুটা অপ্রকৃতিস্থ। কিন্তু ২০১২ সালে মনোবিজ্ঞানী গ্যারি লুপিয়ান এবং ড্যানিয়েল সুইংলি একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন যেখানে এ বিষয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চিত্র উঠে এসেছে।
গবেষকরা একটি পরীক্ষার মাধ্যমে দেখিয়েছেন যে, কোনো কাজ করার সময় উচ্চস্বরে সেই কাজের বর্ণনা দিলে তা মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। পরীক্ষায় একদল মানুষকে কিছু নির্দিষ্ট বস্তুর ছবি খুঁজে বের করতে বলা হয়েছিল। যারা সেই বস্তুটির নাম জোরে উচ্চারণ করে খুঁজছিলেন, তারা নীরবে খুঁজতে থাকা ব্যক্তিদের চেয়ে অনেক দ্রুত এবং নিখুঁতভাবে কাজটি শেষ করতে পেরেছেন। বিজ্ঞানীরা একে বলছেন ‘লেবেল ফিডব্যাক হাইপোথিসিস’।
এর কারণ কী? যখন আপনি কোনো চিন্তাকে ভাষায় রূপান্তর করে উচ্চস্বরে বলেন, তখন আপনার মস্তিষ্কের ভাষা উৎপাদন কেন্দ্র এবং শ্রবণ প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র একসাথে সক্রিয় হয়ে ওঠে। উচ্চারিত শব্দটি একটি বাড়তি সংকেত হিসেবে কাজ করে, যা আপনার মনোযোগকে শাণিত করে এবং মস্তিষ্ককে লক্ষ্যের প্রতি আরও বেশি মনোযোগী করে তোলে। অর্থাৎ, যারা নিজের সাথে কথা বলেন, তারা মূলত নিজেদের চিন্তাগুলোকে ভাষার মাধ্যমে একটি কাঠামো দান করেন, যা তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সমস্যা সমাধানের ক্ষমতাকে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে রাখে।
২০২৩ সালের এক গবেষণা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এই আত্মকথন আমাদের কর্মক্ষম স্মৃতি এবং আত্ম-নিয়ন্ত্রণেও বিশাল ভূমিকা রাখে। যারা কোনো কারণ ছাড়া স্বাভাবিকভাবে নিজের সাথে কথা বলেন, তারা কোনো আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ছাড়াই নিজেদের চিন্তাভাবনাকে সঠিক পথে রাখার অন্যতম সেরা উপায়টি আয়ত্ত করে নিয়েছেন।

গালিগালাজ করা
দ্বিতীয় যে অভ্যাসটি নিয়ে আমাদের সমাজে তীব্র বিতৃষ্ণা রয়েছে, তা হলো গালিগালাজ বা অপশব্দের ব্যবহার। লোকমুখে প্রচলিত আছে যে, যারা নিজেদের মনের ভাব প্রকাশের জন্য সঠিক শব্দ খুঁজে পায় না, তারাই গালির আশ্রয় নেয়। অর্থাৎ, গালি দেওয়া হলো ভাষাগত অলসতা বা সীমিত শব্দভাণ্ডারের লক্ষণ।
কিন্তু ২০১৫ সালে মনোবিজ্ঞানী ক্রিস্টিন এবং টিমোথি জয়ের গবেষণা এই ধারণাকে পুরোপুরি পাল্টে দিয়েছে। তাদের পরীক্ষায় দেখা গেছে, যেসব অংশগ্রহণকারী এক মিনিটে সাধারণ শব্দ বেশি বলতে পেরেছেন, তারাই আবার সবচেয়ে বেশি গালি বলতে পেরেছেন। এর মানে হলো, গালি দেওয়ার ক্ষমতা শব্দভাণ্ডারের দুর্বলতা নয়, বরং এটি একটি সমৃদ্ধ শব্দভাণ্ডারেরই অংশ। যার সাধারণ শব্দের জ্ঞান যত গভীর, তার নিষিদ্ধ শব্দের ভাণ্ডারও ততটাই বিশাল।
গালি দেওয়া কেবল কিছু মুখস্ত বুলি নয়; এটি আসলে সামাজিক প্রেক্ষাপট এবং পরিস্থিতির গভীরতা বোঝার একটি মাধ্যম। কখন একটি দীর্ঘ সুসংবদ্ধ বাক্যের চেয়ে একটি গালি বেশি কার্যকর হবে, তা বুঝতে পারা এক ধরনের সূক্ষ্ম বিচারবুদ্ধির পরিচয় দেয়। একে গবেষকরা বলছেন ‘ইমোশনাল প্রিসিশন’। সাধারণ শব্দ দিয়ে যে তীব্রতা বোঝানো সম্ভব নয়, একটি গালি তা নিমেষেই প্রকাশ করতে পারে। এটি ব্যবহারের জন্য ভাষার ওপর যে দখল প্রয়োজন, তা কেবল উচ্চতর ভাষাগত মেধার অধিকারীদের পক্ষেই সম্ভব।
ধারণা ও বাস্তবতার ব্যবধান
তবে গবেষণার ফলাফল যাই হোক, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি কিন্তু বদলানো বেশ কঠিন। ২০১৮ সালের একটি গবেষণা জানাচ্ছে, মানুষ ব্যক্তিগতভাবে গালিতে আপত্তি না থাকলেও গালি দেওয়া ব্যক্তিকে অবচেতনভাবে কম বুদ্ধিমান বা কম বিশ্বাসযোগ্য বলে ধরে নেয়। একে বলা হয় ‘পারসেপশন গ্যাপ’। স্নায়বিক দিক থেকে গালি দেওয়া বা স্বগতোক্তি করা বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতার পরিচয় দিলেও, সমাজের কাছে তা এখনো একটি নেতিবাচক স্বভাব হয়ে আছে।
বুদ্ধিমত্তা সবসময় মার্জিত পোশাকে বা সুসজ্জিত ড্রয়িংরুমের আলোচনায় ধরা দেয় না। এটি কখনো কখনো অপ্রথাগত উপায়েও প্রকাশ পায়। বাইরে থেকে যা আমাদের কাছে আত্মনিয়ন্ত্রণের অভাব বলে মনে হয়, স্নায়বিক স্তরে তা আসলে মস্তিষ্কের উচ্চতর কর্মদক্ষতা বা ‘কগনিটিভ এফিসিয়েন্সি’।
নিজের সাথে কথা বলা কিংবা ভাষাগত তীব্রতা প্রকাশের জন্য নিষিদ্ধ শব্দের ব্যবহার—এই অভ্যাসগুলো ইঙ্গিত দেয় যে মস্তিষ্ক ভাষাকে কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয় বরং একটি সূক্ষ্ম চিন্তার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।
তথ্যসূত্র: ফোর্বস

আমরা যখন একজন বুদ্ধিমান মানুষের ছবি কল্পনা করি, আমাদের চোখে ভেসে ওঠে অত্যন্ত মার্জিত, শান্ত এবং পরিশীলিত এক ব্যক্তিত্বের ছবি। তিনি জনসমক্ষে মেপে কথা বলেন, শব্দ চয়নে অত্যন্ত সতর্ক থাকেন এবং নিজের আবেগ বা ভাবনাকে সবসময় নিয়ন্ত্রণে রাখেন। এই যে ‘আদর্শ বুদ্ধিমান’ মানুষের চিত্রটি আমাদের সংস্কৃতিতে গেঁথে আছে, মনস্তাত্ত্বিক গবেষণার নতুন নতুন দিগন্ত কিন্তু এই চিরচেনা ছবিটিকে বারবার ভেঙে দিচ্ছে।
গত এক দশকের ভাষাতাত্ত্বিক ও স্নায়বিক গবেষণা বলছে, বুদ্ধিমত্তা সবসময় কেবল শান্ত স্বভাব বা পরিপাটি আচরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং কিছু অদ্ভুত এবং সামাজিকভাবে অস্বস্তিকর অভ্যাসের আড়ালেও লুকিয়ে থাকতে পারে অসাধারণ বুদ্ধিমত্তা বা বিচক্ষণতা।
বিশেষ করে দুটি অভ্যাস-নিজের সাথে কথা বলা এবং গালিগালাজ বা অপশব্দের ব্যবহার—যাকে আমরা সাধারণত পাগলামি বা অশিক্ষার লক্ষণ বলে মনে করি; গবেষণায় দেখা গেছে তা আসলে উন্নত মানের মস্তিষ্কের সংকেত।
নিজের সঙ্গে কথা বলা
সুপারমার্কেটের তাকে খাবার খুঁজতে খুঁজতে কেউ যখন নিজের সাথে নিজে কথা বলেন, আমরা সাধারণত তাকে কিছুটা এড়িয়ে চলি। আমাদের সামাজিক ধারণা হলো, যারা নিজের সাথে কথা বলেন তারা হয়তো মানসিকভাবে কিছুটা অপ্রকৃতিস্থ। কিন্তু ২০১২ সালে মনোবিজ্ঞানী গ্যারি লুপিয়ান এবং ড্যানিয়েল সুইংলি একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন যেখানে এ বিষয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চিত্র উঠে এসেছে।
গবেষকরা একটি পরীক্ষার মাধ্যমে দেখিয়েছেন যে, কোনো কাজ করার সময় উচ্চস্বরে সেই কাজের বর্ণনা দিলে তা মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। পরীক্ষায় একদল মানুষকে কিছু নির্দিষ্ট বস্তুর ছবি খুঁজে বের করতে বলা হয়েছিল। যারা সেই বস্তুটির নাম জোরে উচ্চারণ করে খুঁজছিলেন, তারা নীরবে খুঁজতে থাকা ব্যক্তিদের চেয়ে অনেক দ্রুত এবং নিখুঁতভাবে কাজটি শেষ করতে পেরেছেন। বিজ্ঞানীরা একে বলছেন ‘লেবেল ফিডব্যাক হাইপোথিসিস’।
এর কারণ কী? যখন আপনি কোনো চিন্তাকে ভাষায় রূপান্তর করে উচ্চস্বরে বলেন, তখন আপনার মস্তিষ্কের ভাষা উৎপাদন কেন্দ্র এবং শ্রবণ প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র একসাথে সক্রিয় হয়ে ওঠে। উচ্চারিত শব্দটি একটি বাড়তি সংকেত হিসেবে কাজ করে, যা আপনার মনোযোগকে শাণিত করে এবং মস্তিষ্ককে লক্ষ্যের প্রতি আরও বেশি মনোযোগী করে তোলে। অর্থাৎ, যারা নিজের সাথে কথা বলেন, তারা মূলত নিজেদের চিন্তাগুলোকে ভাষার মাধ্যমে একটি কাঠামো দান করেন, যা তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সমস্যা সমাধানের ক্ষমতাকে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে রাখে।
২০২৩ সালের এক গবেষণা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এই আত্মকথন আমাদের কর্মক্ষম স্মৃতি এবং আত্ম-নিয়ন্ত্রণেও বিশাল ভূমিকা রাখে। যারা কোনো কারণ ছাড়া স্বাভাবিকভাবে নিজের সাথে কথা বলেন, তারা কোনো আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ছাড়াই নিজেদের চিন্তাভাবনাকে সঠিক পথে রাখার অন্যতম সেরা উপায়টি আয়ত্ত করে নিয়েছেন।

গালিগালাজ করা
দ্বিতীয় যে অভ্যাসটি নিয়ে আমাদের সমাজে তীব্র বিতৃষ্ণা রয়েছে, তা হলো গালিগালাজ বা অপশব্দের ব্যবহার। লোকমুখে প্রচলিত আছে যে, যারা নিজেদের মনের ভাব প্রকাশের জন্য সঠিক শব্দ খুঁজে পায় না, তারাই গালির আশ্রয় নেয়। অর্থাৎ, গালি দেওয়া হলো ভাষাগত অলসতা বা সীমিত শব্দভাণ্ডারের লক্ষণ।
কিন্তু ২০১৫ সালে মনোবিজ্ঞানী ক্রিস্টিন এবং টিমোথি জয়ের গবেষণা এই ধারণাকে পুরোপুরি পাল্টে দিয়েছে। তাদের পরীক্ষায় দেখা গেছে, যেসব অংশগ্রহণকারী এক মিনিটে সাধারণ শব্দ বেশি বলতে পেরেছেন, তারাই আবার সবচেয়ে বেশি গালি বলতে পেরেছেন। এর মানে হলো, গালি দেওয়ার ক্ষমতা শব্দভাণ্ডারের দুর্বলতা নয়, বরং এটি একটি সমৃদ্ধ শব্দভাণ্ডারেরই অংশ। যার সাধারণ শব্দের জ্ঞান যত গভীর, তার নিষিদ্ধ শব্দের ভাণ্ডারও ততটাই বিশাল।
গালি দেওয়া কেবল কিছু মুখস্ত বুলি নয়; এটি আসলে সামাজিক প্রেক্ষাপট এবং পরিস্থিতির গভীরতা বোঝার একটি মাধ্যম। কখন একটি দীর্ঘ সুসংবদ্ধ বাক্যের চেয়ে একটি গালি বেশি কার্যকর হবে, তা বুঝতে পারা এক ধরনের সূক্ষ্ম বিচারবুদ্ধির পরিচয় দেয়। একে গবেষকরা বলছেন ‘ইমোশনাল প্রিসিশন’। সাধারণ শব্দ দিয়ে যে তীব্রতা বোঝানো সম্ভব নয়, একটি গালি তা নিমেষেই প্রকাশ করতে পারে। এটি ব্যবহারের জন্য ভাষার ওপর যে দখল প্রয়োজন, তা কেবল উচ্চতর ভাষাগত মেধার অধিকারীদের পক্ষেই সম্ভব।
ধারণা ও বাস্তবতার ব্যবধান
তবে গবেষণার ফলাফল যাই হোক, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি কিন্তু বদলানো বেশ কঠিন। ২০১৮ সালের একটি গবেষণা জানাচ্ছে, মানুষ ব্যক্তিগতভাবে গালিতে আপত্তি না থাকলেও গালি দেওয়া ব্যক্তিকে অবচেতনভাবে কম বুদ্ধিমান বা কম বিশ্বাসযোগ্য বলে ধরে নেয়। একে বলা হয় ‘পারসেপশন গ্যাপ’। স্নায়বিক দিক থেকে গালি দেওয়া বা স্বগতোক্তি করা বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতার পরিচয় দিলেও, সমাজের কাছে তা এখনো একটি নেতিবাচক স্বভাব হয়ে আছে।
বুদ্ধিমত্তা সবসময় মার্জিত পোশাকে বা সুসজ্জিত ড্রয়িংরুমের আলোচনায় ধরা দেয় না। এটি কখনো কখনো অপ্রথাগত উপায়েও প্রকাশ পায়। বাইরে থেকে যা আমাদের কাছে আত্মনিয়ন্ত্রণের অভাব বলে মনে হয়, স্নায়বিক স্তরে তা আসলে মস্তিষ্কের উচ্চতর কর্মদক্ষতা বা ‘কগনিটিভ এফিসিয়েন্সি’।
নিজের সাথে কথা বলা কিংবা ভাষাগত তীব্রতা প্রকাশের জন্য নিষিদ্ধ শব্দের ব্যবহার—এই অভ্যাসগুলো ইঙ্গিত দেয় যে মস্তিষ্ক ভাষাকে কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয় বরং একটি সূক্ষ্ম চিন্তার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।
তথ্যসূত্র: ফোর্বস