Advertisement Banner

ঈদে বাড়ি ফেরা: ট্রেনে স্বস্তি, জ্বালানি সংকটের দুশ্চিন্তায় বাসচালকরা

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
ঈদে বাড়ি ফেরা: ট্রেনে স্বস্তি, জ্বালানি সংকটের দুশ্চিন্তায় বাসচালকরা
ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরায় কোথাও স্বস্তি কোথাও সংকট। ছবি: চরচা

টানা এক সপ্তাহের ঈদের ছুটি শুরু হয়েছে আজ মঙ্গলবার। ছুটির প্রথম দিনেই কমলাপুরে যাত্রীদের ভিড় দেখা গেলেও উল্টো চিত্র সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ডে। সেখানে তেমন ভিড় নেই। ট্রেনের শিডিউল ঠিকঠাক থাকায় স্বস্তি প্রকাশ করছেন যাত্রীরা। তবে বাসে জ্বালানি নিয়ে দুশ্চিন্তার কথা বলছেন বাসচালকরা। কোথাও কোথাও ভাড়া বেশি নেওয়ার অভিযোগ যাত্রীদের। জ্বালানি সংকটের কথা জানিয়েছেন বাস কন্ট্রাক্টররা।

কমলাপুরে সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত নীলসাগর এক্সপ্রেস ছাড়া ২১টি ট্রেন নির্ধারিত সময়ে ছেড়েছে। এবার বিনা টিকিটে ভ্রমণ ঠেকাতে এবং যাত্রীদের স্বস্তি দিতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। নির্ধারিত সময়ে ট্রেন ছাড়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন অনেকে।

এক যাত্রী বলেন, “ঈদে নির্ধারিত সময়ে ট্রেন এলে সবচেয়ে বেশি খুশি লাগে। ট্রেনের মধ্যে স্ট্যান্ডিং টিকিটের ভিড় থাকলেও সঠিক সময়ে যাচ্ছি–এটাই আনন্দের।”

তবে এবার শতভাগ টিকিট অনলাইনে দেওয়ার বিষয়ে কিছু অভিযোগও পাওয়া গেছে। এ ছাড়া অতিরিক্ত বাস ভাড়া নিয়ে অভিযোগ করেছে যাত্রীরা।

স্টেশন সূত্রে জানা যায়, আজ মঙ্গলবার প্রথম ট্রেন ছেড়েছে ভোর ৬টায় (রাজশাহীগামী ধুমকেতু এক্সপ্রেস)। এরপর ৬টা ৪৫ মিনিটের ট্রেন ৪৫ মিনিট দেরিতে সাড়ে ৭টায় (চিলাহাটিগামী নীলনাগর এক্সপ্রেস), সোয়া ৭টায় খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস, সাড়ে ৭টায় কিশোরগঞ্জগামী এগারো সিন্দুর প্রভাতী, ৮টায় দেওয়ানগঞ্জগামী তিস্তা এক্সপ্রেসসহ দুপুর ১টা পর্যন্ত ২২টি ট্রেন ছেড়েছে।

তিন ধাপে টিকিট চেক, নন-এসি বগিতে ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং টিকিট

বিনা টিকিটে ট্রেন ভ্রমণ ঠেকাতে বেশ কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। টিকিট না থাকায় ১০ জনের বেশি যাত্রীকে জরিমানা করেছে রেলওয়ে ম্যাজিস্ট্রেট। অন্যদিকে স্টেশনে প্রবেশের শুরু থেকে ট্রেনে উঠা পর্যন্ত তিন ধাপে যাত্রীদের টিকিট চেক করা হচ্ছে।

একটি পরিবারের তিনটি টিকিট থাকলে অন্য সদস্যদের জন্য স্ট্যান্ডিং টিকিট স্টেশনে পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া নন-এসি বগির জন্য ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং টিকিট দেওয়া হচ্ছে।

কমলাপুরে ট্রেনের জন্য অপেক্ষায় যাত্রীরা। ছবি: চরচা
কমলাপুরে ট্রেনের জন্য অপেক্ষায় যাত্রীরা। ছবি: চরচা

প্ল্যাটফর্মে দেখা হয় আল–আমিন নামের একজন যাত্রীর সঙ্গে। তিনি বলেন, এবার টিকিট চেকিং সবেচেয়ে কড়াভাবে দেখা হচ্ছে। আগে কোনো বার এত চেকিং দেখিনি।

মঞ্জিল মিয়া স্ট্যান্ডিং টিকিট নিয়ে সিলেট যাচ্ছেন। ট্রেনে উঠার আগে তিনি বলেন, “পরিবারের সদস্যদের আরও এক সপ্তাহ আগেই বাড়ি পাঠিয়েছি। পরে আমি আর টিকিট করতে পারিনি। তাই স্ট্যান্ডিং টিকিট নিয়ে বাড়ি যাচ্ছি।”

অনলাইন টিকিটের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ে ট্রেন ছাড়ার উচ্ছ্বাস

এবার ইদযাত্রার ট্রেনের টিকিটের শতভাগ অনলাইনে বিক্রির বিষয়ে অনেকে অভিযোগ জানিয়েছেন। একাধিক ট্রেনের টিকিট ছাড়ার কয়েক মিনিটে সব শেষ হওয়ায় কালোবাজারির অভিযোগ করেছেন। তবে ছুটির প্রথম দিনে কোনো ট্রেনের সিডিউল সেভাবে বিপর্যয় না হওয়ায় যাত্রীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, “রাজশাহী যাওয়ার জন্য আমি অনলাইনে দুদিন টিকিট কাটার চেষ্টা করেছি। কিন্তু কয়েক মিনিটের মধ্যে ট্রেনের টিকিট শেষ হয়ে গেছে। তাই বাধ্য হয়ে আজ এসে স্ট্যান্ডিং টিকিট নিয়ে যাচ্ছি।”

সিলেটগামী জয়ন্তিকা এক্সপ্রেসের যাত্রী উসমান বিল্লা বলেন, “আমার পরিবারের সবাই বাড়ি যাচ্ছি। আগেই টিকিট কাটা ছিল, প্ল্যাটফর্মে আসার পর নির্ধারিত সময়ে ট্রেন ছেড়েছে–এটা আনন্দের। সব নির্ধারিত সময়ে গেলেই যাত্রীদের স্বস্তি।”

কমলাপুর স্টেশনের ম্যানেজার মো. সাজেদুল ইসলাম বলেন, “এবার ইদের যাত্রা আরামদায়ক করতে আমরা সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। ইদের মধ্যে ৫ জোড়া অতিরিক্ত ট্রেন চলবে, যার মধ্যে এখন তিন জোড়া চলছে। আর ইদের দিন আরও ২টি যুক্ত হবে।”

তিনি আরও বলেন, “বিনা টিকিটে ভ্রমণ ঠেকাতে আমরা তিন স্তরে চেকিং ব্যবস্থা চালু করেছি। একই সঙ্গে স্ট্যান্ডিং টিকিট বিক্রি চলছে। ফলে টিকিট ছাড়া এবার কোথাও যাওয়ার সুযোগ নাই।”

আজ বাসে তেমন ভিড় নেই। ছবি: চরচা
আজ বাসে তেমন ভিড় নেই। ছবি: চরচা

এ ছাড়া উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীদের দাবির প্রেক্ষিতে ফিরতি কোনো ট্রেন রাজধানীর বিমানবন্দর স্টেশনে থামবে না বলেও জানান তিনি।

সায়েদাবাদে ডেকে ডেকে যাত্রী তুলছে বাস কন্ট্রাক্টররা

ছুটির প্রথম দিনে রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কেউ সিএনজিচালিত অটোরিকশায়, কেউ রিকশায়, আবার কেউ নগর পরিবহণের বাসে করে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে আসছেন। আর বিভিন্ন পরিবহনের কন্ট্রাক্টররা গন্তব্যের নাম ধরে ডেকে ডেকে যাত্রীদের জানান দিচ্ছেন।

তবে বাড়ি যাওয়ার আনন্দে কিছুটা মলিন করছে অতিরিক্ত ভাড়া। অন্যদিকে বাসের তেলের সংকটও জানিয়েছে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।

কুমিল্লাগামী যাত্রী আজাদ ইসলাম বলেন, ঢাকা থেকে কুমিল্লার বাস ভাড়া ৩০০ টাকা। কিন্তু এখন ৫০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। ইদ এলেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে পরিবহন খাতের লোকজন। সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় প্রশাসন আসে কিন্তু তারা যাওয়ার পর আবার ভাড়া বেড়ে যায়।

এদিকে তিশা ট্রাভেলসের একজন কন্ট্রাক্টর বলেন, “ঈদের সময় ট্রিপের চাপ থাকে। কিন্তু এবার সেটি নিয়ে চিন্তায় আছি। এখন একটা ট্রিপের জন্য তিনবার তেল নিতে হয়। এতে অনেক সময় চলে যাচ্ছে। তেলের চাহিদা ঠিকমতো পেলে ঈদযাত্রা আরও ভালো হবে।”

সম্পর্কিত