আব্দুস সবুর

‘ডিপ স্টেট’ ২০২৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার ব্যাপারে সহযোগিতা করতে চেয়েছিল–এই মন্তব্য করার পর আবারও আলোচনায় এসেছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। এর পর থেকে ডিপ স্টেট নিয়ে সামাজিক মাধ্যমসহ রাজনৈতিক অঙ্গনে এক ধরনের কৌতূহল তৈরি হয়েছে। যদিও এ ধরনের কোনো যোগাযোগের কথা অস্বীকার করেছেন একাধিক উপদেষ্টা।
গত বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাজধানীর বাংলামোটরে নিজেদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এতে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, “আমরা যখন সরকারের দায়িত্বে ছিলাম, শুরুর দিকে আমাদের বিভিন্ন শক্তিশালী ইনস্টিটিউশন, যাদের আসলে ‘ডিপ স্টেট’ বলা হয়, তাদের থেকে আমাদের অফার করা হয়েছিল যে, আপনারা শেখ হাসিনা সরকারের যে মেয়াদ আছে ২০২৯ সাল পর্যন্ত, সেটা শেষ করেন। আপনারা শেষ করেন, আমরা আপনাদের সহযোগিতা করি।”
তবে অন্তর্বর্তী সরকারের একাধিক উপদেষ্টা ডিপ স্টেটের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তারা জানান, উপদেষ্টা পরিষদের সিনিয়র সদস্যরা সব সময় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন দেওয়ার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যে ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে উপদেষ্টাদের সঙ্গে ডিপ স্টেটের কারো যোগাযোগ হলে হতেও পারে বলে জানিয়েছেন সাবেক এক উপদেষ্টা।
সাবেক পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান চরচাকে বলেন, “আসলে এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে চাই না। জাতির ক্রান্তিলগ্নে একটা প্রয়োজনে দেশের দায়িত্ব নিয়েছিলাম, এমন আর কোনো দায়িত্ব ভবিষ্যতেও নিতে চাই না।”
রিজওয়ানা বলেন, “আর এসব বিষয়ে যিনি মন্তব্য করেছেন তিনিই ভালো জানেন। এ ছাড়া তিনি একটা পত্রিকায় নিজের বক্তব্যের বিষয়ে এক ধরনের ব্যাখ্যা দিয়েছেন যেখানে বলেছেন, ছাত্র প্রতিনিধিদের সঙ্গে ডিপ স্টেটের যোগাযোগ নাকি হয়েছিল।”

আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ২৬ মার্চ ‘ডিপ স্টেট’ নিয়ে কথা বলার পর অনেকেই নড়েচড়ে বসেন। পরে এ নিয়ে তিনি ব্যাখ্যা দেন। ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, ডিপ স্টেটে বিদেশিসহ অনেকগুলো পক্ষ ছিল। তাই সুনির্দিষ্ট করে কারো নাম তিনি উল্লেখ করতে চান না।
তবে আসিফ জানান, ডিপ স্টেট কিছু নির্দিষ্ট শর্ত দিয়েছিল, যা মূলত তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট। এমনকি বিএনপি নেতাদের সাজা বা তাদের নামে চলমান বিচারকাজ প্রলম্বিত করে ২০২৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার একটি রাস্তাও দেখিয়েছিল ডিপ স্টেট। এমনকি এ তালিকায় তারেক রহমানের প্রসঙ্গও ছিল। কিন্তু তারা এমন প্রস্তাবে সায় দেননি বলে জানান তিনি। এর প্রমাণ হিসেবে তিনি নির্বাচন হওয়া এবং শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রসঙ্গটি উল্লেখ করেন।
অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা হস্তান্তর করেছে গত ফেব্রুয়ারিতে। আর এই সময়ের মধ্যে আসিফ মাহমুদ ছাড়া ওই সরকারের আর কোনো উপদেষ্টা এখন পর্যন্ত ডিপ স্টেট বা ২০২৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার প্রস্তাব নিয়ে এমন কিছু বলেননি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন চরচাকে বলেন, “আমি ডিপ স্টেট কী, জানিও না। কে কী বলছে, সেটা তাকে জিজ্ঞেস করলেই ভালো বলতে পারবে। তবে অন্তর্বর্তী সরকারে (আমরা) কয়েকজন সিনিয়র ব্যক্তি ছিলাম, যারা চলতি বছরের এপ্রিলের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের ব্যাপারে সব সময় স্ট্রিক্ট সিদ্ধান্তে ছিলাম। এমনকি এই সময়ের মধ্যে নির্বাচন না হলে আমরা উপদেষ্টা হিসেবেও আর দায়িত্বে থাকতাম না।”

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, “আমি আর কোনো সংবাদের শিরোনাম হতে চাই না। তাই জানাশোনা নেই–এমন কোনো বিষয়ে কথাও বলতে চাই না।”
তবে অন্তর্বর্তী সরকারের পুরো সময়জুড়েই কোনো না কোনোভাবে ডিপ স্টেটের প্রসঙ্গ সামনে এসেছে। বিভিন্ন সময় সরকারের উপদেষ্টাদের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের নানা বক্তব্যে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার কথা এসেছে। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের ঘনিষ্ঠ যেমন, তেমনি বিরোধী ব্যক্তিদের নানা ভাষ্যেও উঠে এসেছে ডিপ স্টেট প্রসঙ্গ। আর অবধারিতভাবেই বারবার সামনে এসেছে অন্তত ৫ বছর এই সরকার থাকা দরকার–এমন বক্তব্য।
এমনকি জিটিওতে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস স্বয়ং এ ধরনের একটি কথা বলেছিলেন। গত বছরের সেপ্টেম্বরে জিটিওর মেহেদি হাসান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাক্ষাৎকার নেন। সে সময় নির্বাচন দিতে কেন ১৮ মাস সময় লাগছে–এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আপনি বললেন, মানুষ বলছে অনেক সময় লাগছে। এমন মানুষও আছে, যারা বলছে ৫ বছর থাকুন, ১০ বছর থাকুন, ৫০ বছর থাকুন। সুতরাং মানুষ সব ধরনের কথা বলছে। আপনি থাকুন, নির্বাচন কেন? কার নির্বাচন দরকার?”
ওই সাক্ষাৎকারে মুহাম্মদ ইউনূস তিনটি কাজের কথা উল্লেখ করেন–সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন। এ নিয়ে তিনি বলেন, “আমরা সংস্কারের এজেন্ডা নিয়ে কাজ করছি। এটি একটি বড় এজেন্ডা। আপনি যদি শুধু একটি নির্বাচন করেন, তবে সেই পুরোনো জিনিসগুলো আবার ঘটবে। ভিন্ন নামে, ভিন্ন চিত্রে, আরও অনেকভাবে। আমাদের সংস্কার প্রয়োজন। আপনি যদি শুধু নির্বাচন করেন, তবে সবকিছুর একই পুনরাবৃত্তি হবে। কারণ, আইন, নিয়ম, পদ্ধতি একই থেকে যাবে। তাই ছাত্রদের নেতৃত্বে জনগণের একটি দাবি ছিল সংস্কার করা।”
মেহেদি হাসানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অন্তর্বর্তী সরকারকে কেউ কেউ দীর্ঘ সময় দেখতে চায়–এমন বললেও এই কেউ কেউ বলতে কারা, সেটা বলেননি ড. ইউনূস। এমনকি সেখানে ডিপ স্টেটের প্রসঙ্গও সরাসরি আসেনি। তবে কাছাকাছি সময়ে নানা গুঞ্জনের মধ্যেই বারবার এই প্রসঙ্গ সামনে এসেছে। সাবেক উপদেষ্টাদের মধ্যে আসিফ মাহমুদ এ নিয়ে কথা বলায় তাই বিষয়টি নিয়ে সবার আগ্রহ তৈরি হয়।
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো উপদেষ্টার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে ডিপ স্টেটের কারো কোনো যোগাযোগ বা আলাপ হয়েছে কি না জানতে চাইলে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “ডিপ স্টেট কী, সেটা জানেন? তারা কি কোনো সরকারের সবার সঙ্গে যোগাযোগ করবে বা আসিফের কথার মতো প্রস্তাব ভরা মজলিসে দিতে পারে? কারো সঙ্গে তাদের ব্যক্তিগত যোগাযোগ ছিল কি না, জানা নেই।”

ইঙ্গিতটি সুস্পষ্টভাবে যারা বলছে, তাদের দিকে; অর্থাৎ, ছাত্র উপদেষ্টাদের দিকে। এর আগে এনসিপির আহ্বায়ক ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম গত ১০ মার্চ রাজশাহীতে এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, “শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনে জড়িত ছিল ডিপ স্টেট।” তিনিও ডিপ স্টেট কারা, সেটা স্পষ্ট করে বলেননি।
সাধারণত সরকারের বাইরে থেকেও রাষ্ট্রের নীতি ও ক্ষমতার ওপর প্রভাব খাটাতে সক্ষম প্রভাবশালী গোষ্ঠীকে বোঝাতে ‘ডিপ স্টেট’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়। এটি কোনো আনুষ্ঠানিক কাঠামো নয়, রাজনৈতিক আলোচনায় ব্যবহৃত একটি ধারণা।
এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম, যাকে জুলাই আন্দোলনের ‘মাস্টারমাইন্ড’ বলে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন অধ্যাপক ইউনূস। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম চরচাকে বলেন, “আমি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দায়িত্বে ছিলাম। তবে তৎকালীন সময়ের কোনো ব্যক্তিকে নিয়ে কোনো ধরনের মন্তব্য করতে চাই না।”

‘ডিপ স্টেট’ ২০২৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার ব্যাপারে সহযোগিতা করতে চেয়েছিল–এই মন্তব্য করার পর আবারও আলোচনায় এসেছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। এর পর থেকে ডিপ স্টেট নিয়ে সামাজিক মাধ্যমসহ রাজনৈতিক অঙ্গনে এক ধরনের কৌতূহল তৈরি হয়েছে। যদিও এ ধরনের কোনো যোগাযোগের কথা অস্বীকার করেছেন একাধিক উপদেষ্টা।
গত বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাজধানীর বাংলামোটরে নিজেদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এতে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, “আমরা যখন সরকারের দায়িত্বে ছিলাম, শুরুর দিকে আমাদের বিভিন্ন শক্তিশালী ইনস্টিটিউশন, যাদের আসলে ‘ডিপ স্টেট’ বলা হয়, তাদের থেকে আমাদের অফার করা হয়েছিল যে, আপনারা শেখ হাসিনা সরকারের যে মেয়াদ আছে ২০২৯ সাল পর্যন্ত, সেটা শেষ করেন। আপনারা শেষ করেন, আমরা আপনাদের সহযোগিতা করি।”
তবে অন্তর্বর্তী সরকারের একাধিক উপদেষ্টা ডিপ স্টেটের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তারা জানান, উপদেষ্টা পরিষদের সিনিয়র সদস্যরা সব সময় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন দেওয়ার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যে ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে উপদেষ্টাদের সঙ্গে ডিপ স্টেটের কারো যোগাযোগ হলে হতেও পারে বলে জানিয়েছেন সাবেক এক উপদেষ্টা।
সাবেক পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান চরচাকে বলেন, “আসলে এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে চাই না। জাতির ক্রান্তিলগ্নে একটা প্রয়োজনে দেশের দায়িত্ব নিয়েছিলাম, এমন আর কোনো দায়িত্ব ভবিষ্যতেও নিতে চাই না।”
রিজওয়ানা বলেন, “আর এসব বিষয়ে যিনি মন্তব্য করেছেন তিনিই ভালো জানেন। এ ছাড়া তিনি একটা পত্রিকায় নিজের বক্তব্যের বিষয়ে এক ধরনের ব্যাখ্যা দিয়েছেন যেখানে বলেছেন, ছাত্র প্রতিনিধিদের সঙ্গে ডিপ স্টেটের যোগাযোগ নাকি হয়েছিল।”

আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ২৬ মার্চ ‘ডিপ স্টেট’ নিয়ে কথা বলার পর অনেকেই নড়েচড়ে বসেন। পরে এ নিয়ে তিনি ব্যাখ্যা দেন। ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, ডিপ স্টেটে বিদেশিসহ অনেকগুলো পক্ষ ছিল। তাই সুনির্দিষ্ট করে কারো নাম তিনি উল্লেখ করতে চান না।
তবে আসিফ জানান, ডিপ স্টেট কিছু নির্দিষ্ট শর্ত দিয়েছিল, যা মূলত তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট। এমনকি বিএনপি নেতাদের সাজা বা তাদের নামে চলমান বিচারকাজ প্রলম্বিত করে ২০২৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার একটি রাস্তাও দেখিয়েছিল ডিপ স্টেট। এমনকি এ তালিকায় তারেক রহমানের প্রসঙ্গও ছিল। কিন্তু তারা এমন প্রস্তাবে সায় দেননি বলে জানান তিনি। এর প্রমাণ হিসেবে তিনি নির্বাচন হওয়া এবং শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রসঙ্গটি উল্লেখ করেন।
অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা হস্তান্তর করেছে গত ফেব্রুয়ারিতে। আর এই সময়ের মধ্যে আসিফ মাহমুদ ছাড়া ওই সরকারের আর কোনো উপদেষ্টা এখন পর্যন্ত ডিপ স্টেট বা ২০২৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার প্রস্তাব নিয়ে এমন কিছু বলেননি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন চরচাকে বলেন, “আমি ডিপ স্টেট কী, জানিও না। কে কী বলছে, সেটা তাকে জিজ্ঞেস করলেই ভালো বলতে পারবে। তবে অন্তর্বর্তী সরকারে (আমরা) কয়েকজন সিনিয়র ব্যক্তি ছিলাম, যারা চলতি বছরের এপ্রিলের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের ব্যাপারে সব সময় স্ট্রিক্ট সিদ্ধান্তে ছিলাম। এমনকি এই সময়ের মধ্যে নির্বাচন না হলে আমরা উপদেষ্টা হিসেবেও আর দায়িত্বে থাকতাম না।”

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, “আমি আর কোনো সংবাদের শিরোনাম হতে চাই না। তাই জানাশোনা নেই–এমন কোনো বিষয়ে কথাও বলতে চাই না।”
তবে অন্তর্বর্তী সরকারের পুরো সময়জুড়েই কোনো না কোনোভাবে ডিপ স্টেটের প্রসঙ্গ সামনে এসেছে। বিভিন্ন সময় সরকারের উপদেষ্টাদের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের নানা বক্তব্যে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার কথা এসেছে। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের ঘনিষ্ঠ যেমন, তেমনি বিরোধী ব্যক্তিদের নানা ভাষ্যেও উঠে এসেছে ডিপ স্টেট প্রসঙ্গ। আর অবধারিতভাবেই বারবার সামনে এসেছে অন্তত ৫ বছর এই সরকার থাকা দরকার–এমন বক্তব্য।
এমনকি জিটিওতে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস স্বয়ং এ ধরনের একটি কথা বলেছিলেন। গত বছরের সেপ্টেম্বরে জিটিওর মেহেদি হাসান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাক্ষাৎকার নেন। সে সময় নির্বাচন দিতে কেন ১৮ মাস সময় লাগছে–এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আপনি বললেন, মানুষ বলছে অনেক সময় লাগছে। এমন মানুষও আছে, যারা বলছে ৫ বছর থাকুন, ১০ বছর থাকুন, ৫০ বছর থাকুন। সুতরাং মানুষ সব ধরনের কথা বলছে। আপনি থাকুন, নির্বাচন কেন? কার নির্বাচন দরকার?”
ওই সাক্ষাৎকারে মুহাম্মদ ইউনূস তিনটি কাজের কথা উল্লেখ করেন–সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন। এ নিয়ে তিনি বলেন, “আমরা সংস্কারের এজেন্ডা নিয়ে কাজ করছি। এটি একটি বড় এজেন্ডা। আপনি যদি শুধু একটি নির্বাচন করেন, তবে সেই পুরোনো জিনিসগুলো আবার ঘটবে। ভিন্ন নামে, ভিন্ন চিত্রে, আরও অনেকভাবে। আমাদের সংস্কার প্রয়োজন। আপনি যদি শুধু নির্বাচন করেন, তবে সবকিছুর একই পুনরাবৃত্তি হবে। কারণ, আইন, নিয়ম, পদ্ধতি একই থেকে যাবে। তাই ছাত্রদের নেতৃত্বে জনগণের একটি দাবি ছিল সংস্কার করা।”
মেহেদি হাসানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অন্তর্বর্তী সরকারকে কেউ কেউ দীর্ঘ সময় দেখতে চায়–এমন বললেও এই কেউ কেউ বলতে কারা, সেটা বলেননি ড. ইউনূস। এমনকি সেখানে ডিপ স্টেটের প্রসঙ্গও সরাসরি আসেনি। তবে কাছাকাছি সময়ে নানা গুঞ্জনের মধ্যেই বারবার এই প্রসঙ্গ সামনে এসেছে। সাবেক উপদেষ্টাদের মধ্যে আসিফ মাহমুদ এ নিয়ে কথা বলায় তাই বিষয়টি নিয়ে সবার আগ্রহ তৈরি হয়।
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো উপদেষ্টার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে ডিপ স্টেটের কারো কোনো যোগাযোগ বা আলাপ হয়েছে কি না জানতে চাইলে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “ডিপ স্টেট কী, সেটা জানেন? তারা কি কোনো সরকারের সবার সঙ্গে যোগাযোগ করবে বা আসিফের কথার মতো প্রস্তাব ভরা মজলিসে দিতে পারে? কারো সঙ্গে তাদের ব্যক্তিগত যোগাযোগ ছিল কি না, জানা নেই।”

ইঙ্গিতটি সুস্পষ্টভাবে যারা বলছে, তাদের দিকে; অর্থাৎ, ছাত্র উপদেষ্টাদের দিকে। এর আগে এনসিপির আহ্বায়ক ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম গত ১০ মার্চ রাজশাহীতে এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, “শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনে জড়িত ছিল ডিপ স্টেট।” তিনিও ডিপ স্টেট কারা, সেটা স্পষ্ট করে বলেননি।
সাধারণত সরকারের বাইরে থেকেও রাষ্ট্রের নীতি ও ক্ষমতার ওপর প্রভাব খাটাতে সক্ষম প্রভাবশালী গোষ্ঠীকে বোঝাতে ‘ডিপ স্টেট’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়। এটি কোনো আনুষ্ঠানিক কাঠামো নয়, রাজনৈতিক আলোচনায় ব্যবহৃত একটি ধারণা।
এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম, যাকে জুলাই আন্দোলনের ‘মাস্টারমাইন্ড’ বলে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন অধ্যাপক ইউনূস। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম চরচাকে বলেন, “আমি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দায়িত্বে ছিলাম। তবে তৎকালীন সময়ের কোনো ব্যক্তিকে নিয়ে কোনো ধরনের মন্তব্য করতে চাই না।”