
আওয়ামী লীগ, জামায়াতে ইসলাম ও ইসলামী ছাত্র শিবিরের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, জুলাই বিপ্লবকে যত বেশি আক্রমণ করা হবে, এটি দিন দিন তত বড় ইন্ডাস্ট্রিতে পরিণত হবে।

জামায়াত-শিবিরের বিরোধিতা করায় অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কোণঠাসা হতে হয়েছে বলে দাবি করেছেন সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। তিনি বলেন, নিজের জীবন ও সম্মান বাঁচাতে চুপ করে গেছেন তিনি। একইসঙ্গে গালিবাজির রাজনীতি কেন থামছে না,তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

অনেক আগে থেকেই সরকারের ভেতরের শক্তিশালী একটি অংশের কথা শোনা যাচ্ছিল। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে নানা জায়গায় আলোচনা চললেও বিষয়টি নিয়ে কেউ মুখ খুলছিল না।

অর্থনৈতিক বন্দোবস্ত পুনর্গঠন, শিক্ষা, জনস্বাস্থ্য, বিচার ও পুলিশ ব্যবস্থার সংস্কার, কৃষক-শ্রমিকের জন্য ন্যায্য আর্থ-রাজনৈতিক ব্যবস্থা, তরুণদের কর্মসংস্থান,নাগরিকদের জন্য নিরাপদ বায়ু,পানি, খাদ্য, আবাসন ও পরিবহন নিশ্চিত করা দেশের রাজনৈতিক চর্চার মূল ক্ষেত্র বলে জানান সাবেক তথ্য উপদেষ্টা।

আওয়ামী লীগকে রাজনীতিকে ফিরে আসতে হলে প্রথমত সবকিছুর পেছনে ষড়যন্ত্র না খুঁজে চব্বিশের বাস্তবতা মেনে নিতে হবে। দ্বিতীয়ত কাদের ভুলে ও অবিমৃশ্যকারিতায় এই বিপর্যয় ঘটেছে, তাও খুঁজে বের করতে হবে

ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে মাহফুজ আলম শুধু আওয়ামী লীগের ফেরার কথাই বলেননি, বরং দোষারোপ করেছেন ডানপন্থা, মব রাজনীতি, উগ্রবাদ, এমনকি অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরের ‘কিচেন ক্যাবিনেটকেও’।

'আওয়ামী লীগ ব্যাক করেছে' বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের 'মাস্টারমাইন্ড' খ্যাত মাহফুজ আলম। আজ মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তবে অন্তর্বর্তী সরকারের একাধিক উপদেষ্টা ডিপ স্টেটের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তারা জানান, উপদেষ্টা পরিষদের সিনিয়র সদস্যরা সব সময় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন দেওয়ার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন।

ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য উইক-কে মাহফুজ আলম
আমি পুরনো দলগুলোর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার বদলে নতুন শক্তিগুলোর একটি বৃহত্তর জোটের অপেক্ষায় ছিলাম। এনসিপি যখন জামায়াতের সঙ্গে জোট করল, তখন আমার কাছে স্পষ্ট হলো–তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও কৌশলের ঘাটতি রয়েছে।

অতীতের কিছু হঠকারী সিদ্ধান্ত ও উগ্র কথাবার্তার জন্যই এনসিপি অনেকটা একঘরে হয়ে যায় বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। শুরুতে তারা জনমনে আশা জাগালেও সেটি ধরে রাখতে পারেনি।

এনসিপিতে নেই বলে জানিয়েছেন জুলাই আন্দোলনের ‘মাস্টারমাইন্ড’ খ্যাত মাহফুজ আলম। এ নিয়ে দেওয়া পোস্টে নতুন কিছুর ইঙ্গিত কি দিলেন মাহফুজ? এনসিপি জামায়াতের সঙ্গে জোট করায় তাদের একের পর এক শীর্ষ নেতা পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। জামায়াতের সঙ্গে জোটের কারণেই কি তবে ভেঙে পড়বে তরুণদের রাজনৈতিক দল এনসিপি?

অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করা মাহফুজ আলম বলেছেন, ‘‘খুবই সংকটময় পরিস্থিতি সামনে। আমাদের গায়ে হাত দেওয়া যাবে না। আমাদের একটা লাশ পড়লে আমরা কিন্তু লাশ নেব। এত সুশীলতা করে লাভ নেই। অনেক ধৈর্য ধরা হয়েছে।’’

প্রধান উপদেষ্টার অধীনে থাকা মন্ত্রণালয়গুলো হচ্ছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়।

প্রেস সচিব বলেন, “বিকেল পাঁচটা নাগাদ তারা প্রধান উপদেষ্টার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তাদের পদত্যাগপত্র নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সাথে সাথেই কার্যকর হবে।”

প্রেস সচিব বলেন, “বিকেল পাঁচটা নাগাদ তারা প্রধান উপদেষ্টার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তাদের পদত্যাগপত্র নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সাথে সাথেই কার্যকর হবে।”