ট্রাম্পের ঘাড়ে বড় লালচে দাগ, ‘কঠিন অসুখে’ ভুগছেন?

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
ট্রাম্পের ঘাড়ে বড় লালচে দাগ, ‘কঠিন অসুখে’ ভুগছেন?
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘাড়ের পাশে বড় ধরনের লালচে দাগ দেখা গেছে। ছবি: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস

সম্প্রতি হোয়াইট হাউসের এক অনুষ্ঠানে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘাড়ের পাশে বড় ধরনের লালচে দাগ দেখা গেছে। অনুষ্ঠান ছাপিয়ে ট্রাম্পের ঘাড়ের দাগটি জনমনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

পরে হোয়াইট হাউসের চিকিৎসক ডা. শন বারবাবেলা এক বিবৃতিতে জানান, ত্বকের যত্নে ব্যবহার করা একটি ‘খুবই সাধারণ ক্রিমের’ কারণে এ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে এবং এটি কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত থাকতে পারে।

তবে ক্রিমটি ঠিক কোন সমস্যার চিকিৎসায় ব্যবহার করা হচ্ছে বা কবে থেকে চিকিৎসা শুরু হয়েছে-সে বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, প্রেসিডেন্টের শরীরে আঘাতের দাগসহ কিছু দৃশ্যমান শারীরিক পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ায় তার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে নজর দেওয়া হচ্ছিল।

হোয়াইট হাউস এটিকে স্বাভাবিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করলেও ত্বক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেকোনো ধরনের ত্বকের ক্রিম, এমনকি চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যবহৃত হলেও মাঝে মাঝে ত্বকে জ্বালা বা অ্যালার্জি সৃষ্টি করতে পারে। এমনটা কেন হয়, এজন্য ত্বকের পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

হোয়াইট হাউস কী বলছে?

হোয়াইট হাউসের ভাষ্য, প্রতিরোধমূলক একটি সাধারণ ক্রিম ব্যবহারের প্রায় এক সপ্তাহ পর এই লালচে প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। চিকিৎসকদের মতে, এটি কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে। তবে ব্যবহৃত ক্রিমের উপাদান বা নির্দিষ্ট রোগ সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

তবে হোয়াইট হাউস স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা না দেওয়ায় এই লালচে দাগের পেছনে স্বাস্থ্যগত কারণ নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছে।

কেন ক্রিমে এমন লালচে দাগ হয়?

চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের প্রতিক্রিয়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণ কনট্যাক্ট ডার্মাটাইটিস, যা ত্বকে কোনো রাসায়নিক বা অ্যালার্জেনের সংস্পর্শে প্রদাহ সৃষ্টি হলে দেখা দেয়। এতে লালচে ভাব, চুলকানি, ফোলা বা কখনও ফোসকাও হতে পারে।

আমেরিকার ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের তথ্যমতে, দুই ধরনের কনট্যাক্ট ডার্মাটাইটিস হতে পারে।

এর মধ্যে একটি হলো ইরিট্যান্ট কনট্যাক্ট ডার্মাটাইটিস। কোনো উপাদান ত্বকের বাইরের স্তর ক্ষতিগ্রস্ত করলে হয় এমনটা হয়। সাবান, সুগন্ধি, ডিটারজেন্ট বা প্রসাধনী উপাদানও এর কারণ হতে পারে।

নির্দিষ্ট রাসায়নিকের প্রতি শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থার প্রতিক্রিয়ার ফলে ত্বকে লালচে ভাব দেখা দিতে পারে। ছবি: ফ্রিপিক
নির্দিষ্ট রাসায়নিকের প্রতি শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থার প্রতিক্রিয়ার ফলে ত্বকে লালচে ভাব দেখা দিতে পারে। ছবি: ফ্রিপিক

আরেকটি হলো অ্যালার্জিক কনট্যাক্ট ডার্মাটাইটিস। নির্দিষ্ট রাসায়নিকের প্রতি শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থার প্রতিক্রিয়ার ফলে হয়, যা ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টা পরও দেখা দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, সুরক্ষামূলক স্তর সাধারণত ত্বককে নানা প্রতিক্রিয়া থেকে রক্ষা করে। তবে এই স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হলে সাধারণ পণ্যও সংবেদনশীল ত্বকে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।

যেসব প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে

আমেরিকান কলেজ অব অ্যালার্জি, অ্যাজমা অ্যান্ড ইমিউনোলজির চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা জানান, ক্রিমজনিত প্রতিক্রিয়ায় ত্বকে লালচে ভাব, চুলকানি বা জ্বালাপোড়া, ফোলা বা ফোসকা এমনকি কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী প্রদাহের মতো প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।

তবে সব ধরনের ত্বক জ্বালা গুরুতর রোগের লক্ষণ নয় বলেও চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। তবে এগুলো অস্বস্তির কারণ হতে পারে।

কেন সবার ক্ষেত্রে প্রতিক্রিয়া এক নয়?

যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের তথ্যমতে, ত্বকের ধরন, জিনগত বৈশিষ্ট্য, আবহাওয়া, প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে এমন পণ্য বারবার ব্যবহার এবং তাপমাত্রা, আদ্রতা, সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মির মতো পরিবেশগত প্রভাবের কারণে একই পণ্য ভিন্ন ব্যক্তির ক্ষেত্রে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন?

যদি ত্বকের লালচে দাগ কয়েক সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয়, ছড়িয়ে পড়ে অথবা তীব্র চুলকানি, ব্যথা বা ফোসকা দেখা দেয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রয়োজনে অ্যালার্জি শনাক্তে পরীক্ষা করা হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘাড়ের লালচে দাগ নিয়ে হোয়াইট হাউসের ব্যাখ্যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিচিত বাস্তবতার সঙ্গে মিলে যায়। কারণ চিকিৎসায় ব্যবহৃত সাধারণ ত্বক ক্রিমও অনেক সময় ত্বকে অস্থায়ী প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে, যা সাধারণত ক্ষতিকর নয় এবং উপাদান শনাক্ত করে ব্যবহার বন্ধ করলে সেরে যায়।

সম্পর্কিত