গণ মামলায় আটক বুদ্ধিজীবী–সাংবাদিকদের মুক্তির আহ্বান নাগরিক সমাজের

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
গণ মামলায় আটক বুদ্ধিজীবী–সাংবাদিকদের মুক্তির আহ্বান নাগরিক সমাজের
প্রতীকী ছবি

রাজনৈতিক বিবেচনায় দায়ের করা গণ মামলায় আটক বুদ্ধিজীবী, লেখক, সাংবাদিক, শিক্ষক ও বিভিন্ন পেশার নাগরিকদের বিনা বিচারে দীর্ঘদিন আটক রেখে জামিন না দেওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে দেশের বিশিষ্ট ৩০ জন নাগরিক। আজ শনিবার প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে তারা এসব ব্যক্তিদের দ্রুত জামিনে মুক্তি ও মামলার পূর্ণাঙ্গ পুনর্মূল্যায়নের আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর অসংখ্য গণ মামলা দায়ের করা হয়েছে, যেগুলোর অনেকটিতে ১,২০০ থেকে ২,০০০ জন পর্যন্ত নাম-ঠিকানা না-জানা নাগরিককে একত্রে আসামি করা হয়েছে। এদের মধ্যে বুদ্ধিজীবী, আইনজীবী, রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত নয় এমন লেখক–শিক্ষক এবং দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকও রয়েছেন। অধিকাংশের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট প্রমাণ নেই, তবুও দেড় বছরের বেশি সময় কারাগারে থাকা সত্ত্বেও তারা জামিন পাননি।

নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, এসব মামলার বড় অংশই প্রতিশোধপরায়ণতা বা হয়রানির উদ্দেশ্যে দায়ের করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। অনেক আসামির বয়স ৭০ থেকে ৮০ বছরের বেশি, কেউ কেউ গুরুতর অসুস্থ কিন্তু চিকিৎসা সেবা পর্যাপ্ত নয়। মামলা দায়েরের এতদিন পরও অধিকাংশেরই তদন্ত শেষ হয়নি, চার্জশিটও দেওয়া হয়নি–যা কার্যত বিনা বিচারে আটক রাখার শামিল।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, অন্তবর্তীকালীন সরকার বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও কালাকানুন বাতিলের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন পাওয়া যায়নি। সাংবাদিকদের ক্ষেত্রেও একই চিত্র–এক মামলায় জামিন পেলেও সঙ্গে সঙ্গে আরেক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর ঘটনা ঘটছে।

বিবৃতিদাতারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্য উল্লেখ করেন, যেখানে তিনি গণ মামলার অপব্যবহার স্বীকার করেছেন এবং পুনর্মূল্যায়নের আশ্বাস দিয়েছেন। তারা বলেন, সরকারের এই অবস্থান ইতিবাচক হলেও বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি।

তারা অবিলম্বে অসুস্থ ও জামিনবিহীন সকল নাগরিককে মানবিক বিবেচনায় মুক্তি দেওয়ার এবং যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আছে তাদের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

বিবৃতিতেস্বাক্ষর করেন– অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. জোবাইদা নাসরীন প্রমুখ ব্যক্তিগণ।

সম্পর্কিত