আর্জেন্টিনা ২: ০ অস্ট্রিয়া
চরচা ডেস্ক

বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় যখন ম্যাচটা শুরু, ততক্ষণেই আগামীকাল সকালে অফিস কিংবা স্কুল-কলেজ-ভার্সিটি যেতে হওয়া দর্শকের ‘ম্যাচ দেখব না ঘুমাব, দুটির মধ্যে কোনটা কতক্ষণ পাবে’ হিসাব-নিকাশ শুরু হয়ে যাওয়ার কথা।
বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় যখন ম্যাচটা শেষ, পাঁড় আর্জেন্টিনাভক্ত আর নিদ্রাহীনতায় ভোগা লোক ছাড়া অনেকেই হয়তো ঘুমিয়ে পড়েছেন।
যারা ঘুমাতে পারেননি, তাদের আজ রাতে আর ঘুমের ওষুধের দরকার পড়ার কথা নয়। আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়া ম্যাচই যথেষ্ট।
ক্লাসিকের বিপরীত শব্দ কী, সেটা ঠিক স্পষ্ট নয় অভিধানে। তবে শব্দটা যা-ই হোক, আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়া ম্যাচটা ওই ক্যাটাগরিতেই পড়বে।
লিওনেল মেসির বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা বনে যাওয়া, শেষ মুহূর্তে পাল্টা আক্রমণে উঠেও ভজকট পাকাতে বসা আর্জেন্টিনার হয়ে মেসিরই দ্বিতীয় গোল, আর ম্যাচের একেবারে শুরুতে মেসির বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি পেনাল্টি নেওয়া ও সবচেয়ে বেশি পেনাল্টি মিস করার রেকর্ড গড়া – এর বাইরে এই ম্যাচে দ্বিতীয়বার ঘুরে তাকানোর মতো মুহূর্ত কটি আছে? স্মৃতিতে ম্যাচটা রিওয়াইন্ড করে দেখুন, হাতের কর লাগবে না, আঙুলেই অমন মুহূর্ত গোনা যাবে।
যা গুণে শেষ করতে পারবেন না, তা হলো, বাকি সময়ে কতগুলো ফাউল হয়েছে, কে কয়বার ধাক্কাধাক্কি করেছে, রেফারি কতবার বাঁশি বাজিয়েছেন, আর কোন দল কতবার ৩০ সেকেন্ডের মধ্যেই বলের দখল হারিয়েছে। কে কেমন খেলল, সে হিসাবের চেয়ে ডালাসে এই ম্যাচে যেন বড় হয়ে উঠেছে, কে কার খেলা কতটা নষ্ট করল!
আর্জেন্টিনার অবশ্য অত হিসাব করার সময় এই মুহূর্তে সম্ভবত হবে না। ডালাসে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটা তাদের জন্য চ্যালেঞ্জ হবে জানাই ছিল, তাতে মেসির জোড়া গোলে ২-০ ব্যবধানে জয়টা অন্তত এসেছে, এতেই আর্জেন্টিনা খুশি হওয়ার কথা। রাতে গ্রুপের অন্য ম্যাচে জর্ডান না জিতলে পরের রাউন্ডে ওঠা তো বটেই, গ্রুপ সেরা হয়েও ওঠা নিশ্চিত হয়ে যাবে আর্জেন্টিনার – এমন নিশ্চয়তা দেওয়া ফলের পর আর্জেন্টিনার আর অন্য কিছু নিয়ে ভাবতে খুব বেশি ইচ্ছা হওয়ার কথা নয়।
আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনির সে সুযোগ নেই। দুই ম্যাচে আর্জেন্টিনার যেমন পারফরম্যান্স, তাতে তার কপালে ভাঁজ বেড়ে যাওয়ার কথা। একে তো এখন পর্যন্ত দুই ম্যাচে আর্জেন্টিনার খেলা এতটুকু নিশ্চিত করে দিয়েছে যে, এমন পারফরম্যান্স দিয়ে নকআউট পর্বে বড় দলের বিপক্ষে আর্জেন্টিনাকে ভাগ্য ছাড়া আর কারও পক্ষে - এমনকি মেসি নামের মহামানবের পক্ষেও - জেতানো কঠিনই হবে। তারওপর আর্জেন্টিনার মেসিতে-অতি-নির্ভরতা ফেরার ইঙ্গিতও ভাবাবে স্কালোনিকে। এখন পর্যন্ত দুই ম্যাচে আর্জেন্টিনা ৫ গোল করেছে, পাঁচটিই আগামীকাল ৩৯তম জন্মদিন পালন করতে যাওয়া মেসির! ভাবা যায়!
শুধু গোলই নয়, আলজেরিয়ার বিপক্ষে মেসির হ্যাটট্রিকে উদ্ধার আর্জেন্টিনার আজ অস্ট্রিয়ার বিপক্ষেও যা কিছু ভালো, তা মেসির পায়েই প্রাণ পেয়েছে। শুরুটা যদিও হয়েছে দুঃস্বপ্নের মতো।
৯ মিনিটে লওতারো মার্তিনেসকে বক্সে অস্ট্রিয়ার দুই ডিফেন্ডার ফাউল করায় পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। পেনাল্টি নেন মেসি, তাতে এক রেকর্ড - বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৭টি পেনাল্টি নিলেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। আরেকটি দারুণ রেকর্ডের অপেক্ষায় তখন ডালাসের গ্যালারি এবং পুরো বিশ্ব - পেনাল্টি থেকে গোলটা হলেই যে মিরোস্লাভ ক্লোসাকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা বনে যান মেসি!
রেকর্ড হলো বটে, তবে মেসির জন্য অস্বস্তির এক রেকর্ড। পেনাল্টি মিস করলেন মেসি, বনে গেলেন বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশিবার (৩) পেনাল্টিতে ব্যর্থ ফুটবলার!
পাতাল দেখা হলো মেসির।
ম্যাচের প্রথম পানি পানের বিরতি পর্যন্ত আর্জেন্টিনা যেভাবে খেলেছে, তাতে হয়তো প্রমাদই গুনছিলেন দলটার সমর্থকেরা। মেসি পেনাল্টির পর দারুণ একটা সুযোগ তৈরি করেও গোল করতে পারেননি অস্ট্রিয়ান গোলকিপারের দৃঢ়তায়। আর্জেন্টিনা তখনো ছন্নছাড়া।
পানির সঙ্গে কোচ স্কালোনিরও কড়কানি খেয়ে এসে বুঝি হুঁশ ফিরল আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের। মাঝমাঠে খেলা গোছাতে শুরু করলেন দে পল, ম্যাকঅ্যালিস্টাররা। মেসির সঙ্গে সংযোগ স্থাপিত হলো। প্রাণ পেল আর্জেন্টিনার ফুটবল। মেসি জাগতে শুরু করেছেন ততক্ষণে।
আর্জেন্টিনার অতটুকুই দরকার ছিল।
ঘড়িতে সময় তখন ৩৮ মিনিট। মাঝমাঠে বল পেলেন মেসি। বাড়িয়ে দিলেন সামনে। বল গেল বাঁ দিকে মেদিনার পায়ে। বক্সের দিকে কাটব্যাক করলেন মেদিনা। বলের গতিপথে দাঁড়িয়ে আলমাদা, মেসি ঠিক একই রেখায় আরেকটু পেছনে, বক্সের ঠিক মাথায়। আলমাদা দারুণ খেল দেখালেন কিছুই না করে! বলটা ধরবেন মনে হচ্ছিল, শেষ মুহূর্তে বলে স্পর্শ না করেই ছেড়ে দিলেন। বল মেসির পায়ে!
এবং ডালাসের গ্যালারি ছাড়িয়ে পুরো বিশ্ব সাক্ষী হলো সেই রেকর্ডের, যার অপেক্ষা শুরু ম্যাচের নবম মিনিট থেকে।
বল মেসির পায়ে গেল। এবং জাদুকরী বাঁ পা আরেকবার খেল দেখাল! বক্সের বাইরে থেকেই প্রথম স্পর্শে বাঁ পায়ের বাঁকানো শট। এবার আর ভুল নয়। অস্ট্রিয়ান গোলকিপারের সাধ্য হলো না সে শট ঠেকানোর।
মেসি বনে গেলেন বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। মেসি ১৭! জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসা ১৬ গোল নিয়ে নেমে গেলেন দুই নম্বরে।
মেসি আকাশ ছুঁলেন।
ওই এক গোলেই এগিয়ে বিরতিতে যাওয়া আর্জেন্টিনা বিরতির পর আবার ছন্নছাড়া। অস্ট্রিয়া তাদের খেলতে দেয়নি, তবে আক্রমণে প্রাণ জোগানোর মতো সৃষ্টিশীলতার অভাব অস্ট্রিয়াকে আর্জেন্টিনার জন্য বড় মাথাব্যথাও হতে দেয়নি। যা একটু মাথাব্যথা হওয়ার চেষ্টা করেছে, তা ঠেকিয়েছে আর্জেন্টিনার ডিফেন্স। মেসির বাইরে ওই একটাই প্রাপ্তি হতে পারে আর্জেন্টিনার।
এক গোলেই জয় আর তৃপ্তি দিতে না পারা পারফরম্যান্স নিয়েই যখন আর্জেন্টিনার মাঠ ছাড়া ভবিতব্য বলে মনে হচ্ছিল, আরেকবার দৃশ্যপটে মেসি। পাল্টা আক্রমণ থেকেই কিছুক্ষণ আগেই গোল করার বিরল সুযোগ তৈরি করা আর্জেন্টিনা আবার যখন দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণে উঠছে, ৯০ মিনিটের পরের যোগ করা সময় চলছে। হুলিয়ান আলভারেস পাল্টা আক্রমণে গতি জুগিয়েও শটটা জালে ঠেলতে পারেননি, বল এ পা-ও পা ঘুরে গেল মেসির কাছে। মেসির প্রথম শট ঠেকাল অস্ট্রিয়ার ডিফেন্স। কিন্তু বল পড়বি তো পড় মেসির পায়েই! ফুটবল জিনিয়াসের দ্বিতীয় শট জালে।
গোলটা তার বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের ১৮ গোলের মধ্যে সেরা ১৫-তেই পড়বে না, কিন্তু অল্প কিছু স্বস্তি তো দিয়েছে আলবিসেলেস্তে সমর্থকদের!

বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় যখন ম্যাচটা শুরু, ততক্ষণেই আগামীকাল সকালে অফিস কিংবা স্কুল-কলেজ-ভার্সিটি যেতে হওয়া দর্শকের ‘ম্যাচ দেখব না ঘুমাব, দুটির মধ্যে কোনটা কতক্ষণ পাবে’ হিসাব-নিকাশ শুরু হয়ে যাওয়ার কথা।
বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় যখন ম্যাচটা শেষ, পাঁড় আর্জেন্টিনাভক্ত আর নিদ্রাহীনতায় ভোগা লোক ছাড়া অনেকেই হয়তো ঘুমিয়ে পড়েছেন।
যারা ঘুমাতে পারেননি, তাদের আজ রাতে আর ঘুমের ওষুধের দরকার পড়ার কথা নয়। আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়া ম্যাচই যথেষ্ট।
ক্লাসিকের বিপরীত শব্দ কী, সেটা ঠিক স্পষ্ট নয় অভিধানে। তবে শব্দটা যা-ই হোক, আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়া ম্যাচটা ওই ক্যাটাগরিতেই পড়বে।
লিওনেল মেসির বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা বনে যাওয়া, শেষ মুহূর্তে পাল্টা আক্রমণে উঠেও ভজকট পাকাতে বসা আর্জেন্টিনার হয়ে মেসিরই দ্বিতীয় গোল, আর ম্যাচের একেবারে শুরুতে মেসির বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি পেনাল্টি নেওয়া ও সবচেয়ে বেশি পেনাল্টি মিস করার রেকর্ড গড়া – এর বাইরে এই ম্যাচে দ্বিতীয়বার ঘুরে তাকানোর মতো মুহূর্ত কটি আছে? স্মৃতিতে ম্যাচটা রিওয়াইন্ড করে দেখুন, হাতের কর লাগবে না, আঙুলেই অমন মুহূর্ত গোনা যাবে।
যা গুণে শেষ করতে পারবেন না, তা হলো, বাকি সময়ে কতগুলো ফাউল হয়েছে, কে কয়বার ধাক্কাধাক্কি করেছে, রেফারি কতবার বাঁশি বাজিয়েছেন, আর কোন দল কতবার ৩০ সেকেন্ডের মধ্যেই বলের দখল হারিয়েছে। কে কেমন খেলল, সে হিসাবের চেয়ে ডালাসে এই ম্যাচে যেন বড় হয়ে উঠেছে, কে কার খেলা কতটা নষ্ট করল!
আর্জেন্টিনার অবশ্য অত হিসাব করার সময় এই মুহূর্তে সম্ভবত হবে না। ডালাসে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটা তাদের জন্য চ্যালেঞ্জ হবে জানাই ছিল, তাতে মেসির জোড়া গোলে ২-০ ব্যবধানে জয়টা অন্তত এসেছে, এতেই আর্জেন্টিনা খুশি হওয়ার কথা। রাতে গ্রুপের অন্য ম্যাচে জর্ডান না জিতলে পরের রাউন্ডে ওঠা তো বটেই, গ্রুপ সেরা হয়েও ওঠা নিশ্চিত হয়ে যাবে আর্জেন্টিনার – এমন নিশ্চয়তা দেওয়া ফলের পর আর্জেন্টিনার আর অন্য কিছু নিয়ে ভাবতে খুব বেশি ইচ্ছা হওয়ার কথা নয়।
আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনির সে সুযোগ নেই। দুই ম্যাচে আর্জেন্টিনার যেমন পারফরম্যান্স, তাতে তার কপালে ভাঁজ বেড়ে যাওয়ার কথা। একে তো এখন পর্যন্ত দুই ম্যাচে আর্জেন্টিনার খেলা এতটুকু নিশ্চিত করে দিয়েছে যে, এমন পারফরম্যান্স দিয়ে নকআউট পর্বে বড় দলের বিপক্ষে আর্জেন্টিনাকে ভাগ্য ছাড়া আর কারও পক্ষে - এমনকি মেসি নামের মহামানবের পক্ষেও - জেতানো কঠিনই হবে। তারওপর আর্জেন্টিনার মেসিতে-অতি-নির্ভরতা ফেরার ইঙ্গিতও ভাবাবে স্কালোনিকে। এখন পর্যন্ত দুই ম্যাচে আর্জেন্টিনা ৫ গোল করেছে, পাঁচটিই আগামীকাল ৩৯তম জন্মদিন পালন করতে যাওয়া মেসির! ভাবা যায়!
শুধু গোলই নয়, আলজেরিয়ার বিপক্ষে মেসির হ্যাটট্রিকে উদ্ধার আর্জেন্টিনার আজ অস্ট্রিয়ার বিপক্ষেও যা কিছু ভালো, তা মেসির পায়েই প্রাণ পেয়েছে। শুরুটা যদিও হয়েছে দুঃস্বপ্নের মতো।
৯ মিনিটে লওতারো মার্তিনেসকে বক্সে অস্ট্রিয়ার দুই ডিফেন্ডার ফাউল করায় পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। পেনাল্টি নেন মেসি, তাতে এক রেকর্ড - বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৭টি পেনাল্টি নিলেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। আরেকটি দারুণ রেকর্ডের অপেক্ষায় তখন ডালাসের গ্যালারি এবং পুরো বিশ্ব - পেনাল্টি থেকে গোলটা হলেই যে মিরোস্লাভ ক্লোসাকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা বনে যান মেসি!
রেকর্ড হলো বটে, তবে মেসির জন্য অস্বস্তির এক রেকর্ড। পেনাল্টি মিস করলেন মেসি, বনে গেলেন বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশিবার (৩) পেনাল্টিতে ব্যর্থ ফুটবলার!
পাতাল দেখা হলো মেসির।
ম্যাচের প্রথম পানি পানের বিরতি পর্যন্ত আর্জেন্টিনা যেভাবে খেলেছে, তাতে হয়তো প্রমাদই গুনছিলেন দলটার সমর্থকেরা। মেসি পেনাল্টির পর দারুণ একটা সুযোগ তৈরি করেও গোল করতে পারেননি অস্ট্রিয়ান গোলকিপারের দৃঢ়তায়। আর্জেন্টিনা তখনো ছন্নছাড়া।
পানির সঙ্গে কোচ স্কালোনিরও কড়কানি খেয়ে এসে বুঝি হুঁশ ফিরল আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের। মাঝমাঠে খেলা গোছাতে শুরু করলেন দে পল, ম্যাকঅ্যালিস্টাররা। মেসির সঙ্গে সংযোগ স্থাপিত হলো। প্রাণ পেল আর্জেন্টিনার ফুটবল। মেসি জাগতে শুরু করেছেন ততক্ষণে।
আর্জেন্টিনার অতটুকুই দরকার ছিল।
ঘড়িতে সময় তখন ৩৮ মিনিট। মাঝমাঠে বল পেলেন মেসি। বাড়িয়ে দিলেন সামনে। বল গেল বাঁ দিকে মেদিনার পায়ে। বক্সের দিকে কাটব্যাক করলেন মেদিনা। বলের গতিপথে দাঁড়িয়ে আলমাদা, মেসি ঠিক একই রেখায় আরেকটু পেছনে, বক্সের ঠিক মাথায়। আলমাদা দারুণ খেল দেখালেন কিছুই না করে! বলটা ধরবেন মনে হচ্ছিল, শেষ মুহূর্তে বলে স্পর্শ না করেই ছেড়ে দিলেন। বল মেসির পায়ে!
এবং ডালাসের গ্যালারি ছাড়িয়ে পুরো বিশ্ব সাক্ষী হলো সেই রেকর্ডের, যার অপেক্ষা শুরু ম্যাচের নবম মিনিট থেকে।
বল মেসির পায়ে গেল। এবং জাদুকরী বাঁ পা আরেকবার খেল দেখাল! বক্সের বাইরে থেকেই প্রথম স্পর্শে বাঁ পায়ের বাঁকানো শট। এবার আর ভুল নয়। অস্ট্রিয়ান গোলকিপারের সাধ্য হলো না সে শট ঠেকানোর।
মেসি বনে গেলেন বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। মেসি ১৭! জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসা ১৬ গোল নিয়ে নেমে গেলেন দুই নম্বরে।
মেসি আকাশ ছুঁলেন।
ওই এক গোলেই এগিয়ে বিরতিতে যাওয়া আর্জেন্টিনা বিরতির পর আবার ছন্নছাড়া। অস্ট্রিয়া তাদের খেলতে দেয়নি, তবে আক্রমণে প্রাণ জোগানোর মতো সৃষ্টিশীলতার অভাব অস্ট্রিয়াকে আর্জেন্টিনার জন্য বড় মাথাব্যথাও হতে দেয়নি। যা একটু মাথাব্যথা হওয়ার চেষ্টা করেছে, তা ঠেকিয়েছে আর্জেন্টিনার ডিফেন্স। মেসির বাইরে ওই একটাই প্রাপ্তি হতে পারে আর্জেন্টিনার।
এক গোলেই জয় আর তৃপ্তি দিতে না পারা পারফরম্যান্স নিয়েই যখন আর্জেন্টিনার মাঠ ছাড়া ভবিতব্য বলে মনে হচ্ছিল, আরেকবার দৃশ্যপটে মেসি। পাল্টা আক্রমণ থেকেই কিছুক্ষণ আগেই গোল করার বিরল সুযোগ তৈরি করা আর্জেন্টিনা আবার যখন দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণে উঠছে, ৯০ মিনিটের পরের যোগ করা সময় চলছে। হুলিয়ান আলভারেস পাল্টা আক্রমণে গতি জুগিয়েও শটটা জালে ঠেলতে পারেননি, বল এ পা-ও পা ঘুরে গেল মেসির কাছে। মেসির প্রথম শট ঠেকাল অস্ট্রিয়ার ডিফেন্স। কিন্তু বল পড়বি তো পড় মেসির পায়েই! ফুটবল জিনিয়াসের দ্বিতীয় শট জালে।
গোলটা তার বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের ১৮ গোলের মধ্যে সেরা ১৫-তেই পড়বে না, কিন্তু অল্প কিছু স্বস্তি তো দিয়েছে আলবিসেলেস্তে সমর্থকদের!