Advertisement Banner

ট্রাম্প বলছেন, চুক্তিতে লাভবান আমেরিকান কৃষকেরা, অস্বীকার তেহরানের

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
ট্রাম্প বলছেন, চুক্তিতে লাভবান আমেরিকান কৃষকেরা, অস্বীকার তেহরানের
ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে হওয়া অন্তর্বর্তী চুক্তি আমেরিকান কৃষকদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক সুবিধা বয়ে আনবে। বার্তা সংস্থা ইউএনবির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

তবে ইরান এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। একইসঙ্গে বিশেষজ্ঞরাও নিশ্চিত নন, বহু বছর ধরে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে বিভিন্ন এসক্রো (নিরাপত্তা তহবিল) হিসাবে আটকে থাকা ইরানের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের অর্থ কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি খাতে প্রবাহিত হবে।

গত সপ্তাহে হওয়া একটি প্রাথমিক সমঝোতা অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানকে ৬০ দিনের আলোচনা চলার সময়ে অবাধে তেল বিক্রির সুযোগ দেওয়া হবে। সমঝোতা স্মারকে ইরানের জব্দকৃত অর্থ মুক্ত করার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তবে সমালোচকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই চুক্তি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং হিজবুল্লাহ ও হামাসের মতো গোষ্ঠীগুলোর প্রতি তেহরানের সমর্থনের মতো মূল ইস্যুগুলো সমাধান করতে পারেনি—যেগুলোকে ট্রাম্প যুদ্ধ শুরুর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।

সমালোচনার জবাবে ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, আমেরিকান অর্থ মন্ত্রণালয় ইরানের জব্দকৃত অর্থ মুক্ত করবে, যা যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং সেগুলো কেবলমাত্র যুক্তরাষ্ট্র থেকে খাদ্য ও চিকিৎসা সামগ্রী কেনার জন্য ব্যবহার করা হবে।

ট্রাম্প জানান, এর মধ্যে আমেরিকান কৃষকদের উৎপাদিত ভুট্টা, গম ও সয়াবিনও থাকবে, যেগুলোর ইরানে ব্যাপক প্রয়োজন রয়েছে।

ভ্যান্সও সুইজারল্যান্ডে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর একই ধরনের বক্তব্য দেন। তাদের দাবি, ইরানের বাইরে থাকা জব্দকৃত অর্থ ও সম্পদ মার্কিন কৃষিপণ্য কেনার কাজে ব্যয় করা হবে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি বলেন, কৃষিপণ্য কেনার সিদ্ধান্ত মূল্য ও মানের ভিত্তিতে নেওয়া হবে, ওয়াশিংটনের নির্দেশে নয়। তিনি বলেন, “যে যুদ্ধের ঘোষিত লক্ষ্য ছিল ইরানি সভ্যতাকে ধ্বংস করা এবং ইরানকে দুর্বল করা, সেটিই এখন আমেরিকান কৃষকদের সমৃদ্ধ করার প্রকল্পে পরিণত হয়েছে।”

জেনেভায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আলি বাহরেইনিও ভ্যান্সের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি জানান, সম্পদ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত একমাত্র ইরানই নেবে।

অন্যদিকে এক আমেরিকান কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ইরানি নেতারা মূলত নিজেদের অভ্যন্তরীণ শ্রোতাদের উদ্দেশ্যে এসব বক্তব্য দিচ্ছেন।

সম্পর্কিত