চরচা ডেস্ক

মার্কিন সিনেটে এক অভূতপূর্ব মুহূর্ত তৈরি হয়েছে। ভার্মন্টের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স অস্ত্র রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬বি ১ ধারার অধীনে ইসরায়েলের কাছে নির্দিষ্ট প্রতিরক্ষা সামগ্রী ও সেবা বিক্রির প্রস্তাবিত বিদেশি সামরিক বিক্রিতে কংগ্রেসের অস্বীকৃতির প্রস্তাব সিনেট জয়েন্ট রেজোলিউশন ১৩৮ সিনেট ফরেন রিলেশনস কমিটির বিবেচনা থেকে মুক্ত করার প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। দুটি যৌথ রেজোলিউশন পেশ করা হয়েছে– প্রথমটি. ১৫ কোটি ১০ লাখ ডলারের এক হাজার পাউন্ড বোমা এবং দ্বিতীয়টি. ২৯ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বুলডোজার বিক্রি বন্ধ করবে। এই বুলডোজার দিয়ে ওয়েস্ট ব্যাংক ও গাজায় ঘরবাড়ি ভাঙতে এবং ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে ক্ষতবিক্ষত করে অসম্ভব করে তুলতে ব্যবহৃত হচ্ছে।
এই ভাষণ শুধু একটি সংসদীয় পদক্ষেপ নয়। এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েল নীতিতে এক ঐতিহাসিক ও নাটকীয় মতান্তরের প্রতিধ্বনি। স্যান্ডার্স সিনেটের ভেতর থেকে যে কথাগুলো বললেন তা বহু দশকের নিষিদ্ধ সত্যকে হয়তো প্রথমবারের মতো এত সরাসরি মার্কিন কংগ্রেসে উচ্চারিত হতে শোনাল।
২১ বিলিয়ন ডলার: করদাতার অর্থ কোথায় যাচ্ছে
স্যান্ডার্স তার ভাষণ শুরু করেন একটি অর্থনৈতিক বাস্তবতা দিয়ে। আমেরিকার ৬০ শতাংশ মানুষ বেতনের পর বেতনের অপেক্ষায় জীবন কাটান– মুদিখানার বিল, ভাড়া, স্বাস্থ্যসেবা এবং গাড়িতে পেট্রোল ভরার সামর্থ্য নিয়ে প্রতিদিন লড়াই করেন। দেশের জাতীয় ঋণ ৩৭ ট্রিলিয়ন ডলার। এই পরিস্থিতিতে ডেমোক্র্যাট, রিপাবলিকান বা স্বতন্ত্র– সকল আমেরিকানই চান তাদের করের অর্থ দায়িত্বশীলভাবে ব্যয় হোক। অথচ অক্টোবর ৭, ২০২৩ থেকে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা দিয়েছে ২১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। স্যান্ডার্সের ভাষায়, যথেষ্ট হয়েছে।
গাজায় গণহত্যা: স্যান্ডার্সের স্পষ্ট অবস্থান
স্যান্ডার্স হামাসের ৭ অক্টোবরের হামলার নিন্দা করেছেন। একটি সন্ত্রাসী সংগঠনের হামলায় ১ হাজার ২০০ নিরীহ মানুষের মৃত্যু এবং শত শত জিম্মির ঘটনাকে তিনি বর্বর বলেছেন। বলেছেন, ইসরায়েলের পাল্টা জবাব দেওয়ার অধিকার ছিল। কিন্তু তিনি সমানভাবে স্পষ্ট ছিলেন– ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে সমগ্র ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক ধ্বংসযজ্ঞের যুদ্ধ চালানোর কোনো অধিকার ছিল না। বিশেষজ্ঞরা যেটিকে গণহত্যা বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
পরিসংখ্যান তুলে ধরে স্যান্ডার্স বলেন, ২ দশমিক ২ মিলিয়ন জনসংখ্যার গাজায় ৭২ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। এটি মোট জনসংখ্যার ১০ শতাংশের বেশি। আমেরিকার অনুপাতে হিসাব করলে তা হবে ৩ কোটিরও বেশি মার্কিন নাগরিকের মৃত্যু বা আহত হওয়া। নিহত ও আহতদের মধ্যে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠই নারী, শিশু ও বৃদ্ধ। আর এই সংখ্যা সম্ভবত কম হিসাব, কারণ প্রতিদিনই ধ্বংসস্তূপ থেকে মৃতদেহ বেরিয়ে আসছে।
ভৌত অবকাঠামো ধ্বংসের তথ্যও স্যান্ডার্স সামনে রাখেন। গাজার ১২টি বিশ্ববিদ্যালযয়ের সবই এবং শত শত বিদ্যালয় ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সমগ্র শিক্ষাব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়েছে। আজ গাজার বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ শিশু স্কুলে যায় না। পানি, পয়ঃনিষ্কাশন ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছে। ৯০ শতাংশেরও বেশি আবাসিক ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। অধিকাংশ মানুষ এখন তাঁবুতে ঘুমাচ্ছেন। ৯০ শতাংশের বেশি হাসপাতাল বোমা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত এবং ১ হাজার ৭০০ স্বাস্থ্যকর্মী নিহত হয়েছেন। খাদ্য, পানি ও ওষুধের প্রবেশ রোধ করা অবরোধের কারণে হাজার হাজার মানুষ অপুষ্টিতে আক্রান্ত এবং শত শত মানুষ আক্ষরিক অর্থেই অনাহারে মারা গেছেন।
ওয়েস্ট ব্যাংক: বসতি স্থাপনের নামে দখলদারিত্ব
স্যান্ডার্স শুধু গাজার কথা বলেননি। ওয়েস্ট ব্যাংকে আন্তর্জাতিক আইনের সরাসরি লঙ্ঘনে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি সেনা ও বসতি স্থাপনকারীরা ২৩৩ জন শিশুসহ ১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে। ৬ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি ঘরবাড়ি ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং ২০০টিরও বেশি নতুন অবৈধ বসতি ও ফাঁড়ি নির্মিত হয়েছে। স্যান্ডার্স একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করে দিয়েছেন– এই কাজগুলো নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা উগ্র বসতি স্থাপনকারীদের কার্যক্রম নয়, এগুলো ইসরায়েলি সরকারের নীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। নেতানিয়াহুর নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা ১৯৬৭ সালের পর থেকে ওয়েস্ট ব্যাংকের আইনি মর্যাদায় সবচেয়ে ব্যাপক পরিবর্তন অনুমোদন করেছে, বসতি সম্প্রসারণে প্রায় সব বাধা সরিয়ে দিয়েছে।
নেতানিয়াহু নিজেই বলেছেন, কখনও ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র হবে না। অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোতরিচ গর্ব করে বলেছেন, ওয়েস্ট ব্যাংকে নতুন বসতি নির্মাণ ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের ধারণাকে কবর দেবে। স্যান্ডার্স সেই সিনেটরদের উদ্দেশে যারা এখনও দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের কথা বলেন, মনে করিয়ে দিয়েছেন এটি নেতানিয়াহু সরকারের অবস্থান নয়।
ইরান যুদ্ধ ও নেতানিয়াহুর ৪০ বছরের স্বপ্ন পূরণ
স্যান্ডার্স একটি বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন– নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে বুঝিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে একটি অসাংবিধানিক যুদ্ধে নামিয়েছেন। ৪০ বছর ধরে নেতানিয়াহু চেয়েছেন আমেরিকা ইসরায়েলের সাথে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিক। ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্টরা রাজি হননি, রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টরাও রাজি হননি। ট্রাম্পের মধ্যে তিনি শেষ পর্যন্ত এমন একজন প্রেসিডেন্ট পেয়েছেন যিনি রাজি হয়েছেন। এই যুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ইরান ও লেবাননে হাজার হাজার বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছে, যার মধ্যে শত শত শিশু আছে। ২৬ জন ইসরায়েলি নাগরিক এবং ১৩ জন মার্কিন সেনাও প্রাণ হারিয়েছেন।

স্যান্ডার্স এরপর লেবাননের প্রসঙ্গ তোলেন। ইসরায়েল সেখানে পূর্ণমাত্রার সম্প্রসারণ যুদ্ধ চালাচ্ছে। ২ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং ইসরায়েল লেবাননের ১৪ শতাংশ ভূখণ্ড দখল করে নিয়েছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, লেবানিজ সীমান্তবর্তী গ্রামগুলো ভেঙে দেওয়া হবে– গাজার মডেলে। অর্থমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, দক্ষিণ বৈরুতের উপশহর দাহিয়াহ খান ইউনুসের মতো মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া হবে। স্যান্ডার্সের ভাষায়, এগুলো হুমকি নয়, এগুলো প্রতিশ্রুতি।

মার্কিন সিনেটে এক অভূতপূর্ব মুহূর্ত তৈরি হয়েছে। ভার্মন্টের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স অস্ত্র রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬বি ১ ধারার অধীনে ইসরায়েলের কাছে নির্দিষ্ট প্রতিরক্ষা সামগ্রী ও সেবা বিক্রির প্রস্তাবিত বিদেশি সামরিক বিক্রিতে কংগ্রেসের অস্বীকৃতির প্রস্তাব সিনেট জয়েন্ট রেজোলিউশন ১৩৮ সিনেট ফরেন রিলেশনস কমিটির বিবেচনা থেকে মুক্ত করার প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। দুটি যৌথ রেজোলিউশন পেশ করা হয়েছে– প্রথমটি. ১৫ কোটি ১০ লাখ ডলারের এক হাজার পাউন্ড বোমা এবং দ্বিতীয়টি. ২৯ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বুলডোজার বিক্রি বন্ধ করবে। এই বুলডোজার দিয়ে ওয়েস্ট ব্যাংক ও গাজায় ঘরবাড়ি ভাঙতে এবং ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে ক্ষতবিক্ষত করে অসম্ভব করে তুলতে ব্যবহৃত হচ্ছে।
এই ভাষণ শুধু একটি সংসদীয় পদক্ষেপ নয়। এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েল নীতিতে এক ঐতিহাসিক ও নাটকীয় মতান্তরের প্রতিধ্বনি। স্যান্ডার্স সিনেটের ভেতর থেকে যে কথাগুলো বললেন তা বহু দশকের নিষিদ্ধ সত্যকে হয়তো প্রথমবারের মতো এত সরাসরি মার্কিন কংগ্রেসে উচ্চারিত হতে শোনাল।
২১ বিলিয়ন ডলার: করদাতার অর্থ কোথায় যাচ্ছে
স্যান্ডার্স তার ভাষণ শুরু করেন একটি অর্থনৈতিক বাস্তবতা দিয়ে। আমেরিকার ৬০ শতাংশ মানুষ বেতনের পর বেতনের অপেক্ষায় জীবন কাটান– মুদিখানার বিল, ভাড়া, স্বাস্থ্যসেবা এবং গাড়িতে পেট্রোল ভরার সামর্থ্য নিয়ে প্রতিদিন লড়াই করেন। দেশের জাতীয় ঋণ ৩৭ ট্রিলিয়ন ডলার। এই পরিস্থিতিতে ডেমোক্র্যাট, রিপাবলিকান বা স্বতন্ত্র– সকল আমেরিকানই চান তাদের করের অর্থ দায়িত্বশীলভাবে ব্যয় হোক। অথচ অক্টোবর ৭, ২০২৩ থেকে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা দিয়েছে ২১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। স্যান্ডার্সের ভাষায়, যথেষ্ট হয়েছে।
গাজায় গণহত্যা: স্যান্ডার্সের স্পষ্ট অবস্থান
স্যান্ডার্স হামাসের ৭ অক্টোবরের হামলার নিন্দা করেছেন। একটি সন্ত্রাসী সংগঠনের হামলায় ১ হাজার ২০০ নিরীহ মানুষের মৃত্যু এবং শত শত জিম্মির ঘটনাকে তিনি বর্বর বলেছেন। বলেছেন, ইসরায়েলের পাল্টা জবাব দেওয়ার অধিকার ছিল। কিন্তু তিনি সমানভাবে স্পষ্ট ছিলেন– ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে সমগ্র ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক ধ্বংসযজ্ঞের যুদ্ধ চালানোর কোনো অধিকার ছিল না। বিশেষজ্ঞরা যেটিকে গণহত্যা বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
পরিসংখ্যান তুলে ধরে স্যান্ডার্স বলেন, ২ দশমিক ২ মিলিয়ন জনসংখ্যার গাজায় ৭২ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। এটি মোট জনসংখ্যার ১০ শতাংশের বেশি। আমেরিকার অনুপাতে হিসাব করলে তা হবে ৩ কোটিরও বেশি মার্কিন নাগরিকের মৃত্যু বা আহত হওয়া। নিহত ও আহতদের মধ্যে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠই নারী, শিশু ও বৃদ্ধ। আর এই সংখ্যা সম্ভবত কম হিসাব, কারণ প্রতিদিনই ধ্বংসস্তূপ থেকে মৃতদেহ বেরিয়ে আসছে।
ভৌত অবকাঠামো ধ্বংসের তথ্যও স্যান্ডার্স সামনে রাখেন। গাজার ১২টি বিশ্ববিদ্যালযয়ের সবই এবং শত শত বিদ্যালয় ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সমগ্র শিক্ষাব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়েছে। আজ গাজার বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ শিশু স্কুলে যায় না। পানি, পয়ঃনিষ্কাশন ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছে। ৯০ শতাংশেরও বেশি আবাসিক ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। অধিকাংশ মানুষ এখন তাঁবুতে ঘুমাচ্ছেন। ৯০ শতাংশের বেশি হাসপাতাল বোমা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত এবং ১ হাজার ৭০০ স্বাস্থ্যকর্মী নিহত হয়েছেন। খাদ্য, পানি ও ওষুধের প্রবেশ রোধ করা অবরোধের কারণে হাজার হাজার মানুষ অপুষ্টিতে আক্রান্ত এবং শত শত মানুষ আক্ষরিক অর্থেই অনাহারে মারা গেছেন।
ওয়েস্ট ব্যাংক: বসতি স্থাপনের নামে দখলদারিত্ব
স্যান্ডার্স শুধু গাজার কথা বলেননি। ওয়েস্ট ব্যাংকে আন্তর্জাতিক আইনের সরাসরি লঙ্ঘনে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি সেনা ও বসতি স্থাপনকারীরা ২৩৩ জন শিশুসহ ১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে। ৬ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি ঘরবাড়ি ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং ২০০টিরও বেশি নতুন অবৈধ বসতি ও ফাঁড়ি নির্মিত হয়েছে। স্যান্ডার্স একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করে দিয়েছেন– এই কাজগুলো নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা উগ্র বসতি স্থাপনকারীদের কার্যক্রম নয়, এগুলো ইসরায়েলি সরকারের নীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। নেতানিয়াহুর নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা ১৯৬৭ সালের পর থেকে ওয়েস্ট ব্যাংকের আইনি মর্যাদায় সবচেয়ে ব্যাপক পরিবর্তন অনুমোদন করেছে, বসতি সম্প্রসারণে প্রায় সব বাধা সরিয়ে দিয়েছে।
নেতানিয়াহু নিজেই বলেছেন, কখনও ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র হবে না। অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোতরিচ গর্ব করে বলেছেন, ওয়েস্ট ব্যাংকে নতুন বসতি নির্মাণ ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের ধারণাকে কবর দেবে। স্যান্ডার্স সেই সিনেটরদের উদ্দেশে যারা এখনও দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের কথা বলেন, মনে করিয়ে দিয়েছেন এটি নেতানিয়াহু সরকারের অবস্থান নয়।
ইরান যুদ্ধ ও নেতানিয়াহুর ৪০ বছরের স্বপ্ন পূরণ
স্যান্ডার্স একটি বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন– নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে বুঝিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে একটি অসাংবিধানিক যুদ্ধে নামিয়েছেন। ৪০ বছর ধরে নেতানিয়াহু চেয়েছেন আমেরিকা ইসরায়েলের সাথে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিক। ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্টরা রাজি হননি, রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টরাও রাজি হননি। ট্রাম্পের মধ্যে তিনি শেষ পর্যন্ত এমন একজন প্রেসিডেন্ট পেয়েছেন যিনি রাজি হয়েছেন। এই যুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ইরান ও লেবাননে হাজার হাজার বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছে, যার মধ্যে শত শত শিশু আছে। ২৬ জন ইসরায়েলি নাগরিক এবং ১৩ জন মার্কিন সেনাও প্রাণ হারিয়েছেন।

স্যান্ডার্স এরপর লেবাননের প্রসঙ্গ তোলেন। ইসরায়েল সেখানে পূর্ণমাত্রার সম্প্রসারণ যুদ্ধ চালাচ্ছে। ২ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং ইসরায়েল লেবাননের ১৪ শতাংশ ভূখণ্ড দখল করে নিয়েছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, লেবানিজ সীমান্তবর্তী গ্রামগুলো ভেঙে দেওয়া হবে– গাজার মডেলে। অর্থমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, দক্ষিণ বৈরুতের উপশহর দাহিয়াহ খান ইউনুসের মতো মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া হবে। স্যান্ডার্সের ভাষায়, এগুলো হুমকি নয়, এগুলো প্রতিশ্রুতি।