অলসতা শেখানো নিকসন কী, সুবিধা কতটা

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
অলসতা শেখানো নিকসন কী, সুবিধা কতটা
নিকসন নামক জীবনদর্শনে প্রভাবিত হলে আপনি ইচ্ছে করেই আলসেমি করবেন। ছবি: পেক্সেলস

মানুষের জীবনে এখন ব্যস্ততাই যেন সব। কিন্তু এই ব্যস্ততার তোড়ে মাঝে মাঝে নিজেকেই হারিয়ে ফেলতে হয় যেন। আবার এই ব্যস্তসমস্ত জীবন একইভাবে শেখায় যে, ন্যূনতম আলসেমিও খারাপ!

ব্যস্ততা থেকে স্বস্তি আদায় করতেই আছে এক নতুন দর্শন। এর নাম ‘নিকসন’। এটি একটি ডাচ শব্দ। তবে এখন নিকসন ছড়িয়ে পড়ছে পুরো বিশ্বেই। এই প্রক্রিয়া বলে, কিছুই না করে অলসভাবে সময় কাটানোর কথা।

অবশ্য কোনো কিছুই না করার বিষয়টি একটু জটিল। কারণ, আমরা সব সময়ই কিছু না কিছু করতে থাকি, এমনকি ঘুমানোর সময়ও। মনস্তাত্ত্বিকেরা এক্ষেত্রে নিকসন’কে এমন একটি গাড়ির সাথে তুলনা করেছেন, যার ইঞ্জিন চালু আছে, কিন্তু গাড়িটি কোথাও যাচ্ছে না।

অর্থাৎ নিকসনের মূল ধারণা হলো চুপচাপ বসে থাকা বা জানালার ধারে বসে আপাত–অর্থহীনভাবে বাইরে তাকিয়ে থাকার জন্য জেনেবুঝে সময় বের করা। ওই সময়টায় কোনো কাজ নিয়ে ভাবা চলবে না। শুধুই অলসভাবে সময় কাটাতে হবে। প্রচলিত শব্দে এ ধরনের কাজকে অবশ্যই বলা হবে আলসেমি।

বর্তমান সমাজ আলসেমিকে ভালো চোখে নাও দেখতে পারে। ছবি: এআই দিয়ে তৈরি
বর্তমান সমাজ আলসেমিকে ভালো চোখে নাও দেখতে পারে। ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ল্যাংকাশায়ারের মনোবিদ স্যান্ডি মান মনে করেন, প্রতিটি নির্দিষ্ট সময়েই আমাদের করার মতো কিছু কাজ থাকে। ওই সময়টায় কাজ না করাটাই নিকসন।

সুতরাং, নিকসন নামক জীবনদর্শনে প্রভাবিত হলে আপনি ইচ্ছে করেই আলসেমি করবেন, অলসতাকে উপভোগ করবেন। একটি নির্দিষ্ট সময়ে শুধুই আলসেমি থাকবে আপনার কাজের তালিকায়।

নিকসনের সুবিধা কতটা

ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার গ্রেটার গুড সায়েন্স সেন্টারের পরিচালক ইভ একম্যান বলছেন, নিকসনের সুবিধা অনেক। মানুষের শারীরিক সুস্থতা ধরে রাখতে এটি উপকারী। দুশ্চিন্তার পারদ নিচে নামিয়ে আনে। সৃজনশীলতাকে পাখা মেলতে নিকসন দারুণ সাহায্য করে। এমনকি খুব জটিল কোনো সমস্যার ত্বরিত সমাধানেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখে নিকসন।

তবে হ্যাঁ, বর্তমান সমাজ এই আলসেমিকে ভালো চোখে নাও দেখতে পারে। হয়তো কেউ জিজ্ঞেস করে বসল, ‘কী করছেন?’ এর জবাবে ‘কিছুই না’ বলাটা খানিকটা অস্বস্তিকর। তবে নিকসন বলে, এমন আলসেমির জন্য ক্ষমাপ্রার্থী হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। একে স্রেফ অলসতা হিসেবে না দেখে, জীবনকে যাপনের কৌশল হিসেবে বিচার করতে হবে।

আসলে পুরো বিষয়টাই নিজের জীবনের শান্তির নিমিত্তে। তাই অন্যের কথায় কান না দিয়ে, নিজের যে প্রক্রিয়া ভালো লাগে, তা অনুসরণ করাই উচিত। সেক্ষেত্রে নিকসন অনুসরণেই বা দোষ কোথায়!  

তথ্যসূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস, টাইম ম্যাগাজিন

সম্পর্কিত