টানা দুই সপ্তাহ চিনি না খেয়ে দেখুন কী হয়

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
টানা দুই সপ্তাহ চিনি না খেয়ে দেখুন কী হয়
‘মিষ্টি আসক্তি’ শরীরের জন্য কতটা ক্ষতিকর, তা অনেকেই জানলেও মানতে পারেন না। ছবি: ফ্রিপিক

চা, কফি, মিষ্টি, বেকারি আইটেম এমনকি কিছু ঝাল খাবারের স্বাদে বৈচিত্র্য আনতে চিনির ব্যবহার হয়। কিন্তু এই ‘মিষ্টি আসক্তি’ শরীরের জন্য কতটা ক্ষতিকর, তা অনেকে জানলেও মানতে পারেন না। অথচ মাত্র দুই সপ্তাহ চিনি পুরোপুরি বাদ দিলেই শরীরে ঘটে যেতে পারে বিস্ময়কর কিন্তু বেশ স্বাস্থ্যকর পরিবর্তন।

প্রথম তিন দিন: আসক্তির টান ও ক্লান্তি

চিনি ছাড়ার শুরুটা বেশ কঠিন। প্রথম ২-৩ দিন মাথাব্যথা, খিটখিটে ভাব, মনমরা অবস্থা ও অদ্ভুত ক্লান্তি অনুভূত হতে পারে। কারণ, মস্তিষ্কে চিনি আসক্তি ডোপামিন নামের ‘হ্যাপি হরমোন’ নিঃসরণ বাড়িয়ে দেয়। সেটি কমে গেলে মস্তিষ্ক কিছুটা প্রতিবাদ করে। তবে এই পর্যায় অস্থায়ী। কয়েকদিন পর শরীর স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে আসে।

চিনি খাওয়া বন্ধ করলে এনার্জি সারাদিন স্থির থাকে, ক্লান্তি কমে। ছবি: ফ্রিপিক
চিনি খাওয়া বন্ধ করলে এনার্জি সারাদিন স্থির থাকে, ক্লান্তি কমে। ছবি: ফ্রিপিক

চতুর্থ থেকে সপ্তম দিন: এনার্জি বাড়ে ও ত্বক উজ্জ্বল হয়

চিনি বাদ দিলে রক্তে গ্লুকোজের ওঠানামা কমে যায়। ফলে এনার্জি সারাদিন স্থির থাকে, ক্লান্তি কমে। একই সঙ্গে ইনসুলিনের ভারসাম্য ফিরে আসে, যা ত্বকের প্রদাহ এবং ব্রন কমাতে সাহায্য করে। অনেকেই এই সময়ে ত্বকে হালকা উজ্জ্বলতা ও স্বাভাবিক দীপ্তি লক্ষ্য করেন।

দ্বিতীয় সপ্তাহ: ঘুম ও মেজাজে উন্নতি

চিনি ঘুমের মান নষ্ট করে এবং মানসিক অস্থিরতা বাড়ায়। দুই সপ্তাহ পর ঘুম গভীর হয়, সকালে ওঠার পর শরীরে সতেজতা আসে। মনোযোগ, স্মৃতি ও মেজাজে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটে। অনেকের ক্ষেত্রেই উদ্বেগ ও অকারণ রাগ কমে যায়।

ওজন কমে ও হজম শক্তি বাড়ে

চিনি না খাওয়ার ফলে ক্যালরি গ্রহণ স্বাভাবিকভাবে কমে যায়। শরীর মজুত ফ্যাট পোড়াতে শুরু করে, ফলে ওজন ধীরে ধীরে কমে। হজম প্রক্রিয়া উন্নত হয়, গ্যাস ও ফোলাভাব কমে যায়। বিশেষ করে চিনি-যুক্ত পানীয় বাদ দিলে পেটের চর্বি কমার হার বাড়ে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি

চিনি ইমিউন সিস্টেমকে দুর্বল করে, শরীরে প্রদাহ সৃষ্টি করে। দুই সপ্তাহ চিনি না খেলে প্রদাহের মাত্রা কমে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। এটি দীর্ঘমেয়াদে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি কমায়।

চিনি পুরোপুরি বাদ দেওয়া সহজ নয়, তবে সম্ভব। দুই সপ্তাহের চেষ্টাই আপনাকে বুঝিয়ে দেবে শরীর আসলে কতটা হালকা, স্থিতিশীল ও সুস্থ অনুভব করতে পারে।

সম্পর্কিত