সকালের নাস্তা যেসব কারণে বাদ দেওয়া যাবে না

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
সকালের নাস্তা যেসব কারণে বাদ দেওয়া যাবে না
সকালের প্রথম খাবার শরীর ও মনের জ্বালানি। ছবি: ফ্রিপিক

‘সকালের নাস্তা হলো দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবার’। এই কথাটা আমরা প্রায়ই শুনি, কিন্তু কতজন তা মেনে চলি? আধুনিক ব্যস্ত জীবনে অনেকেই সকালবেলা নাস্তা না করেই ছুটে যান অফিস বা স্কুল–কলেজে। অথচ দিনের এই প্রথম খাবারটি শুধু পেট ভরানোর বিষয় নয়; এটি শরীর ও মনের জ্বালানিও।

নাস্তা আমাদের শরীরের বিপাকক্রিয়া বা মেটাবলিজম সক্রিয় করে, যা সারা দিনে ক্যালরি পোড়াতে সাহায্য করে। ঘুম থেকে ওঠার পর শরীরে রক্তে শর্করার মাত্রা সাধারণত কমে যায়। আর সেই ঘাটতি পূরণ করেই নাস্তা আমাদের শক্তি ও মনোযোগ ফিরিয়ে আনে। নিয়মিত নাস্তা না করলে আমরা ক্লান্ত, অবসন্ন হয়ে পড়ি। এতে অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি আকর্ষণও বেড়ে যায় ঢের।

সকালের নাস্তা হতে হবে প্রোটিন ও ফাইবারসমৃদ্ধ। ছবি: ফ্রিপিক
সকালের নাস্তা হতে হবে প্রোটিন ও ফাইবারসমৃদ্ধ। ছবি: ফ্রিপিক

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন নাস্তা করেন তাদের স্মৃতি, মনোযোগ ও কর্মক্ষমতা তুলনামূলকভাবে ভালো। নাস্তা এলডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায় এবং ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস করে। অনেকেই ভাবেন, ওজন কমানোর জন্য নাস্তা না খাওয়াই ভালো। কিন্তু বাস্তবতা বলছে উল্টো কথা। নিয়মিত নাস্তা করলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত নাস্তা করেন তারা তুলনামূলকভাবে স্থূলকায় হন না। এর কারণ হলো, সকালের খাবারে প্রোটিন ও আঁশযুক্ত খাবার খেলে দিনজুড়ে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে থাকে। সবচেয়ে বড় বিষয়, এতে করে অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যগ্রহণ কম হয়।

তবে এটিই ওজন কমার নিশ্চয়তা নয়। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নাস্তা করেন, আর যারা করেন না—এই দুই দলের ওজন কমার হারে তেমন পার্থক্য থাকে না। তবে ওজন কমাতে গিয়ে নাস্তা বাদ দিয়ে ক্যালরি কমানোর চিন্তা ভুল। গবেষণায় জানা গেছে, যেসব মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ওজন কমিয়ে রাখতে পেরেছেন, তাদের অধিকাংশই নিয়মিত নাস্তা করেন। কারণ সকালে প্রোটিন ও আঁশসমৃদ্ধ খাবার খেলে সারাদিন ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে যায়।

শিশুদের জন্য নাস্তা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ছবি: ফ্রিপিক
শিশুদের জন্য নাস্তা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ছবি: ফ্রিপিক

তবে নাস্তার মান ও পরিমাণের বিষয়েও সচেতন থাকা জরুরি। গবেষকদের মতে, যারা নাস্তায় বেশি পরিমাণে খান, তারা সারা দিনেও বেশি খেয়ে ফেলেন। তাই ভারসাম্যপূর্ণ পরিমাণে নাস্তা করা উচিত, যাতে থাকতে হবে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি ও আঁশের সঠিক মিশ্রণ।

অনেক শিশু সকালে খেতে চায় না, কিন্তু তাদের জন্য নাস্তা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তাদের বাড়ন্ত শরীরের জন্য পুষ্টি ও শক্তি প্রয়োজন। যেসব শিশু সকালে নাস্তা করে না, তারা স্কুলে মনোযোগ দিতে পারে না, সহজেই ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং রাগী বা অস্থির হয়ে ওঠে। এর প্রভাব শুধু মেজাজে নয়, পড়াশোনাতেও পড়ে। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা সকালে নাস্তা করে, তারা পরীক্ষায় ভালো ফল করে! 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু দুপুর ও রাতের খাবার থেকে শিশুদের প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ পাওয়া যায় না। যেসব শিশু নাস্তা বাদ দেয়, তারা সারা দিনে অস্বাস্থ্যকর খাবার বেশি খায় এবং স্থূল হওয়ার আশঙ্কাও বাড়ে। গবেষণা জরিপ বলছে, যারা প্রতিদিন নাস্তা করে তাদের বডি মাস ইনডেক্স (BMI) তুলনামূলকভাবে কম। যদি আপনার সন্তান সকালে খেতে না চায়, তবে স্কুলে যাওয়ার পথে বা ক্লাসের বিরতিতে খাওয়ার মতো কিছু খাবার সাথে দিতে হবে। এসব খাবার হতে পারে ফল, বাদাম বা পিনাট বাটার বা কলার স্যান্ডউইচ।

নাস্তা মানেই কিন্তু ভারী খাবার নয়, প্রচুর খাওয়া নয়। চাই শুধু সঠিক পরিমাণে পুষ্টি। কম ফ্যাটযুক্ত দুধ, ফল, বা দই-ফল মিশিয়ে তৈরি স্মুদি হতে পারে দুর্দান্ত বিকল্প। দেশি খাবারের মধ্যে সবজির নরম খিচুড়ি, ডিম ভাজি বা পোচ, লাল আটার রুটি, মিক্স সবজি ভাজিও খাওয়া যায় বটে।

তথ্যসূত্র: ওয়েব এমডি 

সম্পর্কিত