চরচা ডেস্ক

এমন খুব কম বাসাবাড়িই আছে, যেখানে খুঁজলে প্যারাসিটামল পাওয়া যাবে না। রান্নাঘরের লবণের মতোই সাধারণ একটি জিনিস এই ওষুধ। জ্বর, শরীর ব্যথা, মাথাব্যথা, সাইনাসের অস্বস্তি, এমনকি টিকা নেওয়ার পরের অসুস্থতাতেও নিয়মিত খাওয়া হয় প্যারাসিটামল।
কিন্তু আমরা কি এই ট্যাবলেটগুলো খুব বেশি হালকাভাবে নিচ্ছি? সংক্ষিপ্ত উত্তর হলো, হ্যাঁ। আর এর পরিণতি অনেকের ধারণার চেয়েও গুরুতর হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
কোকিলাবেন ধীরুভাই আম্বানি হাসপাতালের ড্রাগ ইনফরমেশন সেন্টারের ক্লিনিক্যাল ফার্মাসিস্ট ডা. কপিল আদওয়ানি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, “চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া পাওয়া যায় বলে অনেকেই মনে করেন প্যারাসিটামল একেবারে ক্ষতিকর নয়। কিন্তু শরীর সব মনে রাখে। নিয়মিত সেবনে ধীরে ধীরে লিভারের ক্ষতি, কিডনির ওপর চাপ, এমনকি রক্তচাপের সমস্যাও তৈরি হতে পারে।”
এই নিরাপদ ওষুধ কীভাবে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে?
প্যারাসিটামল বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ওষুধগুলোর একটি। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য দৈনিক সর্বোচ্চ সীমা ৪ গ্রাম (প্রায় আটটি ৫০০ মি.গ্রা. ট্যাবলেট)। এটি কিন্তু প্রতিদিন খাওয়ার পরামর্শ নয় বরং সর্বোচ্চ সীমা মাত্র। অনেকেই গুরুত্ব না দিয়ে সপ্তাহে একাধিকবার এটি খেয়ে থাকেন।
২০১৯ সালের একটি গবেষণা বলছে, নির্ধারিত সীমার মধ্যে প্যারাসিটামল দীর্ঘমেয়াদে খেলে লিভার এনজাইমের মাত্রা বাড়াতে পারে, যা লিভারের ওপর চাপ সৃস্টি করতে পারে। যারা অ্যালকোহল পান করেন, আগে থেকেই লিভারের রোগ আছে বা যাদের ওজন খুব কম, তাদের জন্য ঝুঁকি আরও বেশি।
ডা. কপিল বলেন, ২০২২ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, দুই সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন ৪ গ্রাম প্যারাসিটামল খাওয়ায় উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের রক্তচাপ আরও বেড়েছে।
তিনি ২০১৫ সালের একটি গবেষণার কথাও উল্লেখ করেন, যেখানে নিয়মিত ২ থেকে ৪ গ্রাম প্যারাসিটামল খাওয়ার সঙ্গে পেটের সমস্যা এবং ৩ গ্রামের বেশি ডোজে গ্যাস্ট্রিক ব্লিডিংয়ের ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, প্যারাসিটামলের দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহার এখন হৃদরোগীদের ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকির সঙ্গেও যুক্ত। ২০১৯ সালের গবেষণায় কিডনি ক্ষতির বিষয়টিও নিশ্চিত হয়েছে।
কাদের বেশি সতর্ক হওয়া প্রয়োজন?
প্যারাসিটামল সবার জন্য নিরাপদ মনে হলেও কিছু মানুষের অবশ্যই সতর্ক থাকা প্রয়োজন। যেমন:
লুকানো প্যারাসিটামলের ঝুঁকি
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতে একটি বড় সমস্যা হলো ‘হিডেন প্যারাসিটামল’। অনেক ঠান্ডা-কাশির ঔষধেও এটি থাকে। ফলে বুঝতে না পেরে কেউ দৈনিক ডোজ দ্বিগুণ বা তিনগুণ করে ফেলতে পারেন।
২০২১ সালের একটি রিভিউয়ের তথ্য উল্লেখ করে ডা. কপিল বলেন, দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা যেমন পিঠ বা জয়েন্টের ব্যথায় প্যারাসিটামল খুব কার্যকর নয়। তবুও অনেকে বিকল্প ভালো পদ্ধতি উপেক্ষা করে এটি খেতে থাকেন।
তাহলে কী করা উচিত?
ডা. কপিলের পরামর্শ, “সত্যিকারে প্রয়োজন হলে তবেই প্যারাসিটামল নিন। সাধারণ জ্বর বা ব্যথায় অনেক সময় বিশ্রাম, পর্যাপ্ত পানি পান বা ভেষজ চা-ই যথেষ্ট হতে পারে।”
এই চিকিৎসকের ভাষ্য, দীর্ঘমেয়াদি ব্যথার ক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপি, যোগব্যায়াম, হালকা ব্যায়াম বা চিকিৎসকের পরামর্শে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের মতো নিরাপদ বিকল্প ভাবা যেতে পারে। ওষুধের লেবেল অবশ্যই পড়তে হবে এবং অন্য কোনো রোগের চিকিৎসা চললে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা জরুরি।
তাই পরের বার প্যারাসিটামলের পাতা হাতে নেওয়ার আগে একটু থামুন। নিজেকে জিজ্ঞেস করুন- এটা কি সত্যিই দরকার? নাকি আপনার শরীর শুধু বিশ্রাম, পানি আর একটু ধৈর্য চাইছে?

এমন খুব কম বাসাবাড়িই আছে, যেখানে খুঁজলে প্যারাসিটামল পাওয়া যাবে না। রান্নাঘরের লবণের মতোই সাধারণ একটি জিনিস এই ওষুধ। জ্বর, শরীর ব্যথা, মাথাব্যথা, সাইনাসের অস্বস্তি, এমনকি টিকা নেওয়ার পরের অসুস্থতাতেও নিয়মিত খাওয়া হয় প্যারাসিটামল।
কিন্তু আমরা কি এই ট্যাবলেটগুলো খুব বেশি হালকাভাবে নিচ্ছি? সংক্ষিপ্ত উত্তর হলো, হ্যাঁ। আর এর পরিণতি অনেকের ধারণার চেয়েও গুরুতর হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
কোকিলাবেন ধীরুভাই আম্বানি হাসপাতালের ড্রাগ ইনফরমেশন সেন্টারের ক্লিনিক্যাল ফার্মাসিস্ট ডা. কপিল আদওয়ানি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, “চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া পাওয়া যায় বলে অনেকেই মনে করেন প্যারাসিটামল একেবারে ক্ষতিকর নয়। কিন্তু শরীর সব মনে রাখে। নিয়মিত সেবনে ধীরে ধীরে লিভারের ক্ষতি, কিডনির ওপর চাপ, এমনকি রক্তচাপের সমস্যাও তৈরি হতে পারে।”
এই নিরাপদ ওষুধ কীভাবে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে?
প্যারাসিটামল বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ওষুধগুলোর একটি। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য দৈনিক সর্বোচ্চ সীমা ৪ গ্রাম (প্রায় আটটি ৫০০ মি.গ্রা. ট্যাবলেট)। এটি কিন্তু প্রতিদিন খাওয়ার পরামর্শ নয় বরং সর্বোচ্চ সীমা মাত্র। অনেকেই গুরুত্ব না দিয়ে সপ্তাহে একাধিকবার এটি খেয়ে থাকেন।
২০১৯ সালের একটি গবেষণা বলছে, নির্ধারিত সীমার মধ্যে প্যারাসিটামল দীর্ঘমেয়াদে খেলে লিভার এনজাইমের মাত্রা বাড়াতে পারে, যা লিভারের ওপর চাপ সৃস্টি করতে পারে। যারা অ্যালকোহল পান করেন, আগে থেকেই লিভারের রোগ আছে বা যাদের ওজন খুব কম, তাদের জন্য ঝুঁকি আরও বেশি।
ডা. কপিল বলেন, ২০২২ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, দুই সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন ৪ গ্রাম প্যারাসিটামল খাওয়ায় উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের রক্তচাপ আরও বেড়েছে।
তিনি ২০১৫ সালের একটি গবেষণার কথাও উল্লেখ করেন, যেখানে নিয়মিত ২ থেকে ৪ গ্রাম প্যারাসিটামল খাওয়ার সঙ্গে পেটের সমস্যা এবং ৩ গ্রামের বেশি ডোজে গ্যাস্ট্রিক ব্লিডিংয়ের ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, প্যারাসিটামলের দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহার এখন হৃদরোগীদের ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকির সঙ্গেও যুক্ত। ২০১৯ সালের গবেষণায় কিডনি ক্ষতির বিষয়টিও নিশ্চিত হয়েছে।
কাদের বেশি সতর্ক হওয়া প্রয়োজন?
প্যারাসিটামল সবার জন্য নিরাপদ মনে হলেও কিছু মানুষের অবশ্যই সতর্ক থাকা প্রয়োজন। যেমন:
লুকানো প্যারাসিটামলের ঝুঁকি
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতে একটি বড় সমস্যা হলো ‘হিডেন প্যারাসিটামল’। অনেক ঠান্ডা-কাশির ঔষধেও এটি থাকে। ফলে বুঝতে না পেরে কেউ দৈনিক ডোজ দ্বিগুণ বা তিনগুণ করে ফেলতে পারেন।
২০২১ সালের একটি রিভিউয়ের তথ্য উল্লেখ করে ডা. কপিল বলেন, দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা যেমন পিঠ বা জয়েন্টের ব্যথায় প্যারাসিটামল খুব কার্যকর নয়। তবুও অনেকে বিকল্প ভালো পদ্ধতি উপেক্ষা করে এটি খেতে থাকেন।
তাহলে কী করা উচিত?
ডা. কপিলের পরামর্শ, “সত্যিকারে প্রয়োজন হলে তবেই প্যারাসিটামল নিন। সাধারণ জ্বর বা ব্যথায় অনেক সময় বিশ্রাম, পর্যাপ্ত পানি পান বা ভেষজ চা-ই যথেষ্ট হতে পারে।”
এই চিকিৎসকের ভাষ্য, দীর্ঘমেয়াদি ব্যথার ক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপি, যোগব্যায়াম, হালকা ব্যায়াম বা চিকিৎসকের পরামর্শে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের মতো নিরাপদ বিকল্প ভাবা যেতে পারে। ওষুধের লেবেল অবশ্যই পড়তে হবে এবং অন্য কোনো রোগের চিকিৎসা চললে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা জরুরি।
তাই পরের বার প্যারাসিটামলের পাতা হাতে নেওয়ার আগে একটু থামুন। নিজেকে জিজ্ঞেস করুন- এটা কি সত্যিই দরকার? নাকি আপনার শরীর শুধু বিশ্রাম, পানি আর একটু ধৈর্য চাইছে?