Advertisement Banner

যে ৮টি খাবার চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখবে

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
যে ৮টি খাবার চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখবে
চুলের যত্নে শুধু শ্যাম্পু বা কন্ডিশনার যথেষ্ট নয়। ছবি: ম্যাগনেফিক

বর্ষাকাল শুরু হলেই অনেকের চুল পড়া বেড়ে যায়, বিশেষ করে নারীদের মধ্যে এটি বেশি দেখা যায়। কিন্তু এই সমস্যা শুধু আবহাওয়ার কারণে হয় না।

চুল পড়ার বড় কারণ হলো শরীরে পুষ্টির ঘাটতি। শরীরে আয়রন, প্রোটিন, ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি ১২, জিঙ্ক ও ওমেগা-৩-এর অভাব হলে এই সমস্যা বেশি হয়ে থাকে। অনেক সময় অনিয়মিত খাওয়া, ক্র্যাশ ডায়েট, অতিরিক্ত কফি এবং কম পানি পান চুল পড়া বাড়িয়ে দেয়। এই সব কারণে চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধিও নষ্ট হয়।

আয়ুর্বেদ শাস্ত্র অনুযায়ী, শরীরে এবং ভুল খাদ্যাভ্যাসের কারণে চুল পাতলা হওয়া ও পড়া বাড়তে পারে। সব মিলিয়ে বলা যায়, বর্ষাকালের চুল পড়ার পেছনে শুধু আবহাওয়া নয়, বরং শরীরের ভেতরের পুষ্টির ভারসাম্যহীনতাই বেশি দায়ী।

চুলে শুধু দামি শ্যাম্পু, কন্ডিশনার, মাস্ক বা সিরাম ব্যবহার করলেই চলবে না। ভেতর থেকেও যত্ন নিতে হবে—মানে খাবারের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, কিছু নির্দিষ্ট খাবার আছে যেগুলো চুল পড়া কমায় এবং চুলকে শক্ত করে। এগুলো নিয়মিত খাবারের তালিকায় রাখা চুলের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।

আমলকি ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা চুলের গোড়া শক্ত করে চুল পড়া কমাতে সাহায্য করে। ছবি: ম্যাগনেফিক
আমলকি ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা চুলের গোড়া শক্ত করে চুল পড়া কমাতে সাহায্য করে। ছবি: ম্যাগনেফিক

আমলকী
আমলকী চুল ও মাথার ত্বকের জন্য খুব ভালো। এতে আছে ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা চুলের গোড়া শক্ত করে চুল পড়া কমাতে সাহায্য করে। এটা শরীরে আয়রন শোষণও বাড়ায়, ফলে চুল ভালোভাবে পুষ্টি পায়। আয়ুর্বেদ অনুযায়ী, এটি শরীরের ভেতরের ‘গরমভাব’ কমিয়ে চুলকে স্বাস্থ্যবান রাখে।

পালং শাক

নিয়মিত সবুজ শাকসবজি না খেলে, চুল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। পালং শাকে আয়রন, ফোলেট আর ভিটামিন এ থাকে। এগুলো মাথার ত্বকে রক্ত ও অক্সিজেন পৌঁছাতে সাহায্য করে, যা চুলের জন্য অত্যন্ত জরুরি। তাই নিয়মিত পালং শাক খেলে চুল পড়া কমতে পারে এবং চুল গোড়া মজবুত থাকে।

অঙ্করিত মুগ ডাল

অঙ্কুরিত মুগ ডালে থাকা প্রোটিন, বায়োটিন ও অ্যামিনো অ্যাসিড চুলের গোড়া মজবুত করতে সহায়তা করে। থাকে। অঙ্কুরিত হওয়ার কারণে এটি সহজে হজম হয়। ফলে শরীর এর পুষ্টিগুণ ভালোভাবে গ্রহণ করতে পারে।

চিয়া বীজ চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। ছবি: ম্যাগনেফিক
চিয়া বীজ চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। ছবি: ম্যাগনেফিক

চিয়া বীজ

চিয়া বীজ চুল ও মাথার ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। এতে আছে প্রচুর ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, যা মাথার ত্বকের শুষ্কতা ও চুলকানি কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া এর স্বাস্থ্যকর চর্বি ও খনিজ উপাদান চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে এবং সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আখরোট
স্বাস্থ্যকর চর্বির একটি চমৎকার উৎস হলো আখরোট। এতে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান থাকে। এই পুষ্টিগুলো চুলের ফলিকলকে সুস্থ রাখতে এবং প্রদাহ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে মাথার ত্বকে এমন একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ বজায় থাকে, যা নতুন চুল গজাতে সহায়তা করে।

কটেজ চিজ বা পনির

পনিরে প্রচুর প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম থাকে। প্রোটিন চুলের মূল উপাদান কেরাটিন তৈরি করতে সাহায্য করে, আর ক্যালসিয়াম চুলকে মজবুত রাখে। তাই নিয়মিত পনির খেলে চুলের স্বাস্থ্য ভালো থাকে।

সামুদ্রিক মাছ
সামুদ্রিক মাছ চুলের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী একটি খাবার। এতে ওমেগা-৩, ভিটামিন ডি ও প্রোটিন থাকে। সামুদ্রিক মাছ চুলকে শক্তিশালী করতে, চুলের ঘনত্ব বজায় রাখতে এবং শুষ্কতা কমাতে সাহায্য করতে পারে। নিয়মিত খেলে চুল আরও স্বাস্থ্যকর ও উজ্জ্বল দেখাতে পারে।

কারি পাতার গুঁড়ো

আমাদের দেশের রান্নাঘরের একটি তুলনামূলকভাবে কম আলোচিত উপাদান হলেও এর উপকারিতা অনেক।কারি পাতার গুঁড়োতে আয়রন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন এ, সি ও ই থাকে। এগুলো চুলের গোড়া মজবুত করতে, চুলের স্বাভাবিক রং ধরে রাখতে এবং চুলের সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করতে পারে।

সম্পর্কিত