সস্তা বাহবা ও ক্রেডিট নেওয়ার জন্য আইজিপির দেওয়া বক্তব্য দেশের ক্ষতি করবে এবং সরকারকে বিব্রত ও ভীত করবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ফ্রি চিকিৎসাসেবার (মেডিকেল ক্যাম্প) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পুলিশ প্রধানের সাম্প্রতিক বক্তব্য প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, “পুলিশ বাহিনীর প্রধান একটি সরকারের পক্ষে সব কথা বলেন, তা সরকারকে স্বস্তি দেওয়ার বদলে ভীত পাওয়ার মতো অবস্থা তৈরি করে।”
রিজভী বলেন, “পুলিশ বাহিনীতে অনেক সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তা আছেন, তাদেরকে কাজে লাগান। নিরপেক্ষভাবে ও স্বাধীনভাবে আইন প্রয়োগ করলে সমাজে কোনো অপরাধ থাকবে না। কিন্তু সস্তা ক্রেডিট বা বাহবা নেওয়ার জন্য দায়িত্বশীল অবস্থান থেকে কথা বললে তা দেশের ক্ষতি করবে এবং সরকারকেও বিব্রত করবে।”
আইজিপি আলী হোসেন ফকির সোমবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে বলেন, “আমাদের দায়িত্ব, আইন-সংবিধান অনুযায়ী যখন যেখানে যা প্রয়োগ করা দরকার, সেইটাই আমরা করব। যেখানে ক্রসফায়ার যদি প্রয়োজন হয়, সরকার যদি অ্যালাও করে, আমরা সেইটা করব।”
পুলিশের সমালোচনা করা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে ওই অনুষ্ঠানে আইজিপি আরও বলেন, “মাদকের টাকা না পেলে সাংবাদিকরা লেখেন পুলিশ অকার্যকর।”
আইজিপির ওই বক্তব্যের পরপরই সমালোচনা শুরু হয়। বিভিন্ন সংগঠন বিবৃতি দিয়ে তার ওই বক্তব্যের নিন্দা ও উদ্বেগ জানান।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘মানবিক বাংলাদেশ’ রূপকল্পের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “প্রান্তিক কৃষক ও দরিদ্র মানুষের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে কেউ অনাহারে বা নিরন্ন না থাকে।”
রিজভী বলেন, “অর্থনীতিবিদদের গবেষণাতেও এসেছে যে, এসব কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে দেশে দারিদ্র্যের হার দ্রুত কমে আসবে। পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষায় কোটি কোটি গাছ ও তালগাছ লাগানোর মতো দূরদর্শী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।”
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “বিএনপি বহুদলীয় গণতন্ত্র, মুক্তচিন্তা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই অতীতে আওয়ামী লীগসহ সব রাজনৈতিক দল পুনরায় রাজনীতি করার সুযোগ পেয়েছিল এবং সংবাদপত্রের পূর্ণ স্বাধীনতা ফিরে এসেছিল।”
যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচির প্রশংসা করে রিজভী আশাবাদ ব্যক্ত করেন, যুবদলের প্রতিটি নেতাকর্মী রক্তদান, মানবিক সেবা, বৃক্ষরোপণ এবং উৎপাদনমুখী নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দেশে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।