প্রস্তাবিত সাইবার নিরাপত্তা (সংশোধন) আইনটি দমনমূলক আইন হয়ে না ওঠে এবং এর আওতায় কোনো সাংবাদিক বা গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান যেন হয়রানির শিকার না হয়, সে জন্য সরকার সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
আজ সোমবার তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পরামর্শ সভা শেষে সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। খবর ইউএনবির।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো, এই আইনের অপব্যবহারের শিকার যেন কোনো সাংবাদিক না হন।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, খসড়া সংশোধনী বিলটি এর আগে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হয়েছিল। মন্ত্রিসভা সাইবার জগতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে ব্যাপক আলোচনা করার নির্দেশ দেয়।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এরপর সরকার সবার মতামত নেওয়ার জন্য খসড়াটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, মানবাধিকার সংগঠন, শিক্ষার্থী ও সাইবার জগতের ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে ইতিমধ্যে মতামত পাওয়া গেছে।
আজকের বৈঠকটি ছিল সম্পাদক, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, সংবাদপত্রের সংগঠন এবং পেশাদার সাংবাদিকদের সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরকারের দ্বিতীয় দফার পরামর্শ সভা।
এর আগে ১০ সেপ্টেম্বরের প্রথম বৈঠকে সম্পাদকদের লিখিতভাবে অথবা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তাদের মতামত দিতে অনুরোধ করা হয়েছিল।
মন্ত্রী বলেন, সোমবারের বৈঠকে অনেক অংশগ্রহণকারী তাদের মতামত তুলে ধরেছেন এবং লিখিত সুপারিশ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গণমাধ্যম যাতে ক্ষতিগ্রস্ত বা হয়রানির শিকার না হয় এবং আইনে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা রাখা হয়, তা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যম ও সাইবার বিশেষজ্ঞদের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা করার প্রস্তাব এসেছে।
সালাহউদ্দিন বলেন, সরকার প্রস্তাবটি সানন্দে গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, গণমাধ্যমকে লক্ষ্য করে আইনটি প্রণয়নের কোনো ইচ্ছা সরকারের নেই।
প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের সুরক্ষার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া বা তাকে গ্রেপ্তারের আগে আদালতের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সরকার প্রস্তাবটিকে যথাযথ ও যৌক্তিক বলে মনে করেছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আনুষ্ঠানিক সুপারিশ জমা দেওয়ার জন্য অংশীজনদের আরও ১৫ দিন সময় দেওয়া হবে। এরপর এসব সুপারিশ খসড়া আইনে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, মামলা বা আপিল নিষ্পত্তির জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের একটি বিধানও বিবেচনা করা হবে, যাতে মানুষ অনির্দিষ্ট সময় ধরে আইনি অনিশ্চয়তার মধ্যে না থাকে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, খসড়াটি চূড়ান্ত করতে একটি বিশেষ সমন্বয় ব্যবস্থা গঠন করা হবে।
প্রধান তথ্য কর্মকর্তা এই প্রক্রিয়ার ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এ প্রক্রিয়ায় সমন্বয় করবে।
মন্ত্রী বলেন, এ প্রক্রিয়ায় এডিটরস কাউন্সিল, ইলেকট্রনিক মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশন এবং তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের গঠিত সাইবার বিশেষজ্ঞদের একটি প্যানেলের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। তারা ৭ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে সুপারিশ জমা দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, সংশোধিত খসড়াটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের আগে আবারও জনগণের মতামত নেওয়ার জন্য সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।
সুপারিশগুলো গ্রহণ করা হলে আন্তঃমন্ত্রণালয় পর্যালোচনার আগে সেগুলো খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এরপর খসড়াটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে।
মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর বিলটি সংসদে উপস্থাপন করা হবে। সেখানে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের অংশগ্রহণে আরও আলোচনা হবে। পাশাপাশি সংসদের বাইরে সেমিনার ও সিম্পোজিয়াম থেকে আসা মতামতও বিবেচনা করা হবে।
সালাহউদ্দিন বলেন, প্রস্তাবিত আইনের মূল লক্ষ্য হলো সাইবার অপরাধ ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দেশ, সমাজ ও তরুণদের সুরক্ষায় একটি ভারসাম্যপূর্ণ আইনি কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারিবারিক মূল্যবোধ ও আদিবাসী সংস্কৃতি সুরক্ষার পাশাপাশি আইনটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার লক্ষ্য রয়েছে।