নেপালে আকস্মিক বন্যার পর উদ্ধার ও নিখোঁজদের খোঁজার কাজে বিদেশি সহায়তার প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লোক বাহাদুর ছেত্রী বলেন, “সহায়তার প্রস্তাব দেওয়া স্বাভাবিক। আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে। আপাতত আমাদের এ ধরনের সহায়তার প্রয়োজন নেই।”
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, দুর্যোগে কয়েকটি দেশের নাগরিক নিখোঁজ হওয়ায় ওই দেশগুলো সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নেপাল আপাতত বিদেশি উদ্ধারকারী দল নেওয়ার পরিকল্পনা করছে না। তাদের একটি দ্রুত উদ্ধারকারী দল ইতোমধ্যে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে পৌঁছেছে। তবে তাদের এখনো উদ্ধারকাজে নামানো হয়নি।
দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে, এ বিষয়ে তারা নেপালের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবে। নেপালের একটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রে কাজ করা দেশটির ৯ নাগরিক নিখোঁজ এবং ১০ জন সেখানে আটকা পড়েছেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক্সে জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে নেপালকে ১০ লাখ ডলার মানবিক সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সিউল।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত রাসুয়া জেলার জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা নরেন্দ্র পারিয়ার জানিয়েছেন, হিমবাহের পানি জমে তৈরি হওয়া একটি হ্রদের বাঁধ ভেঙে গেছে। তিনি বলেন, “আমরা দেখতে পাচ্ছি নদীতে পানির উচ্চতা বাড়ছে।” তবে বর্তমানে পানির উচ্চতা কত, তা নিশ্চিত নয় বলেও জানান তিনি।
এই হ্রদ উপচে পড়ার খবর পাওয়ার পর নেপালের কর্তৃপক্ষ পরবর্তী ৯০ মিনিটের জন্য উদ্ধার অভিযান বন্ধ রেখেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে বলেছে, বন্যাকবলিত রাসুয়া জেলায় হেলিকপ্টারে উদ্ধার অভিযান বন্ধ রাখা হয়েছে। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের দ্রুত পাহাড়ের উঁচু দিকে উঠে যেতে দেখা গেছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, বুধবার চীন-নেপাল সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর একটি কৃত্রিম হ্রদ তৈরি হয়েছে। হ্রদটি ভেঙে গিয়ে নিচের দিকে হঠাৎ বন্যার পানি নেমে আসার ঝুঁকি অনেক বেশি। এ কারণে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য সামনের আগামী তিন দিন তিব্বতে উদ্ধার কাজ স্থগিত থাকবে।