সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে স্থানীয়দের আপত্তির কারণে বন্ধ হয়ে গেছে পূর্ব ঘোষিত গানের অনুষ্ঠান। আজ বৃহস্পতিবার উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের হাতিয়া-রাধানগর গ্রামে এক প্রবাসীর উদ্যোগে এই গানের অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল।
নারী শিল্পীদের নিয়ে আয়োজনের কারণে এই বাউল গানের অনুষ্ঠানটি বন্ধ হয়।
গতকাল বুধবার এই অনুষ্ঠানের ব্যাপারে আপত্তি জানিয়ে তা বন্ধে দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলামের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়। এই আবেদনের পর বন্ধ হয়ে যায় গানের অনুষ্ঠান।
আবেদনে ‘গ্রামবাসীর পক্ষে’ আতাহার আলী রাহাত ও কামরুল হাসান মিটু নামে দুজন অনুষ্ঠানটি বন্ধ বা স্থগিত করার উদ্যোগ নিতে অনুরোধ জানান। তাদের মধ্যে আতাহার আলী রাহাত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দিরাই উপজেলা শাখার আহ্বায়ক রাহাত বলেন, “পুরো এলাবাসী এ অনুষ্ঠানের ব্যাপারে আপত্তি জানিয়েছেন। এলাকাবাসীর পক্ষে আমরা পুলিশের কাছে গানের অনুষ্ঠান বন্ধের জন্য আবেদন করেছি।”
তিনি বলেন, “আমাদের এলাকায় ওলির মাজার রয়েছে, মাদরাসাসহ অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এখানে অশ্লীলতা, বেহায়াপনা ও অসামাজিক কাজ চলতে পারে না। গানের নামে মেয়েদের অশ্লীল নাচ, মদ, গাঁজার আসর বসানোর বিপক্ষে আমরা সবাই। এলাকার যুব সমাজ এ রকম আয়োজনের বিরুদ্ধে।”
স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার হাতিয়া-রাধানগর গ্রামে বাউল গানের এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন শওকত আলী নামে যুক্তরাজ্য প্রবাসী স্থানীয় এক ব্যক্তি। এতে তানিশা ও নিলা নামে দুই নারী বাউল শিল্পী সঙ্গীত পরিবেশনের কথা ছিল। এ আয়োজনের ব্যাপারে এলাকায় প্রচারণা করান শওকত আলী।
ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, “গানের অনুষ্ঠানের ব্যাপারে আপত্তি পাওয়ার পর আমরা আয়োজকদের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন, তারা গান-বাজনা করবেন না। ফলে বিষয়টি মীমাংসা হয়ে গিয়েছে।”
বাউল গানের আসরে বাধা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বাউল গান নিয়ে তারা আপত্তি জানাননি। নারী শিল্পী থাকায় আপত্তি জানিয়েছেন। নারী শিল্পীদের কারণে অশ্লীল নৃত্যসহ অসামাজিক কার্যকলাপের আশঙ্কা করছেন স্থানয়ীরা। ফলে ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ রক্ষায় এ অনুষ্ঠান বন্ধের আবেদন করেছেন।”