কওমিপন্থী অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের উদ্যোগে জোট বাঁধছে সাতটি ইসলামী দল।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর খিলগাঁওয়ে হেফাজতের মহাসচিব সাজিদুর রহমানের সভাপতিত্বে সাত দলের নেতাদের এক বৈঠকে ‘সমমনা ইসলামী দলসমূহ’ নামে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
সাতটি দল হলো-বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, ইসলামী ঐক্যজোট (রাজী), বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন।
জোটবদ্ধ দলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও নেজামে ইসলাম পার্টি (ইজহার) বর্তমানে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট ১১ দলীয় ঐক্যের শরিক।
নতুন এই জোটের অধীনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন করা হবে বলে এক নেতা চরচাকে জানিয়েছেন।
মাওলানা মামুনুল হকের দল বাংলাদেশ খেলাফত মসলিসের যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমিন চরচাকে বলেন, ‘‘৭ দলের সবাই জোটে থাকছে।”
অন্য জোটে থাকলে নতুন এই জোটে থাকা যাবে না এমন শর্ত ছিল সেখান থেকে শিখিলতা আসলো কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘আমাদের অন্য জোট থেকে বের হওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। বাকি অন্য জোটে থাকা অবস্থায়ই আমরা ঘোষণা দিয়েছি এক সঙ্গে কাজ করার জন্য।”
আতাউল্লাহ বলেন, ‘‘আগের যে শর্ত, এগুলো কোনটাই ফাইনাল কথা ছিল না। এগুলো একক দলের মতামত ছিল। এগুলোতে হেফাজতে ইসলামীর কোন ইন্টারেস্ট নেই। হেফাজতের চাওয়া হচ্ছে আমরা সাত দল যাতে এক সঙ্গে চলি। সেটা হচ্ছে।”
এর আগে দুই দফা বৈঠক করেও কওমিপন্থী সাত রাজনৈতিক দলের জোট বাঁধার সিদ্ধান্ত ঝুলে ছিল।
জামায়াত জোটে দল থাকছে কি না জানতে চাইলে মামুনুল হকের দলের যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমিন চরচাকে বলেন, ‘‘আমাদের এটা ভেবে চিন্তে দেখার বিষয় আছে। আমাদের স্থানীয় সরকার নির্বাচন আছে। সেখানে জামায়াত এককভাবে নির্বাচন করবে। স্বাভাবিকভাবে আমরা এই জোটে (নতুন ৭ দল) নির্বাচন করব। এই জোট আরও বড়ও হতে পারে।”
আতাউল্লাহ বলেন, ‘‘আমরা এই সাত দল এক সঙ্গে স্থানীয় সরকার নির্বাচন করব। এর সঙ্গে আরো কিছু দল আমরা নেব। এর পর নির্বাচন করব।”
কওমিপন্থীদের সাত দল নিয়ে নতুন জোটের উদ্যোগ নিয়েছিলেন হেফাজতে ইসলামের আমির শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী।
সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে হেফাজতে ইসলামের আমিরের আহ্বানে সাতটি ইসলামী দলের নেতাদের একটি সভা হয়। সভাপতি ছিলেন হেফাজত আমির। চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির জামেয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদরাসায় ওই সভায় ঐক্য নিয়ে কয়েকটি দল কিছু শর্ত দেয়, যেগুলো আবার দুটি দল মানেনি। ফলে বৃহস্পতিবার আবারও আলোচনায় বসার সিদ্ধান্ত নেয় সাত দল।