এবারও রাতের ভোটের শঙ্কা তৈরি হয়েছে: এনসিপি নেতা আসিফ

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
এবারও রাতের ভোটের শঙ্কা তৈরি হয়েছে: এনসিপি নেতা আসিফ
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। ফাইল ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। প্রার্থী যাচাই-বাছাই ও আচরণবিধি প্রতিপালনের ক্ষেত্রে নির্বাচনী প্রশাসন একটি বড় দলের পক্ষে কাজ করছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দেন আসিফ।

এ সময় এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘‘বিগত তিনটা নির্বাচনে আমরা দেখে এসেছি, প্রশাসনের এক ধরনের পক্ষপাতিত্ব, একতরফা আচরণ, ব্যালট পূরণ করে রাতের ভোট। এ ধরনের একটা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে, একটা সেটলমেন্টের মধ্য দিয়ে এই নির্বাচনটা হয়ে যাবে– এমন একটা শঙ্কা বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে তৈরি হয়েছে।’’

আসিফ মাহমুদ বলেন, “আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি যে নির্বাচনটা হবে, তা সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং মানুষের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে কি না–এমন শঙ্কা আছে। আমরা ইলেকশন কমিশনকে আহ্বান জানিয়েছি, যেন কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব আর না থাকে।”

আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, ‘‘বিগত সময়ের মতো এবার নির্বাচনে জনগণকে প্রতারিত করা হলে বা এমন সম্ভাবনা তৈরি হলে, আমরা নির্বাচনের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করব না। রাজপথে কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলে জনগণের অধিকার ছিনিয়ে আনব।”

এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘‘যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে, আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যাচাই-বাছাইয়ের সময় বিধি ভঙ্গের যেই নমুনা আমরা পেয়েছি, বিশেষ করে আমাদের ৪৫টি আসনে, যেগুলোতে আমরা নির্বাচন করছি। এসব বিষয়ে আমরা নির্বাচন কমিশনারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি।’’

হাসনাত আবদুল্লাহর আসনে বিএনপির যে প্রার্থী আছে, অনিয়ম থাকা সত্ত্বেও তার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে উল্লেখ করে সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, ‘‘নির্দিষ্ট দলের প্রতি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর প্রতি প্রশাসনের বৈষম্যমূলক আচরণ লক্ষ্য করতে পেরেছি।’’

সরকারি কর্মকর্তা এবং গোয়েন্দা বাহিনীর কিছু সদস্যরা একটি নির্দিষ্ট দলের দিকে তাদের কিবলা ঠিক করে ফেলেছে অভিযোগ করে আসিফ বলেন, ‘‘জনগণের রায় দেওয়ার আগেই এমন আচরণ এবং কার্যক্রমের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগের আগে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। যারা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় থেকে এমন আচরণ করেছেন, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা উচিত। মানুষকে নিশ্চিত করতে হবে যে, তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ রয়েছে।”

সাবেক উপদেষ্টা বলেন, ‘‘নির্বাচনের পর বলা যাবে কমিশন কতটা সার্থক। আমরা নির্বাচন কমিশনের ওপর এখন শতভাগ আস্থা রাখতে পারছি না। এটা তদের প্রমাণ করতে হবে, আস্থার জায়গা তৈরি করতে হবে।”

সম্পর্কিত