মধ্যপ্রাচ্যসহ এ অঞ্চলের বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ ও অর্থনীতির ওপর আধিপত্য বজায় রাখতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে মুসলিম দেশগুলোকে একে অপরের বিরুদ্ধে উসকে দিচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই অভিযোগ করেন।
ইরানি প্রেসিডেন্ট অভিযোগ করে বলেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে এই দুটি দেশ নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে মুসলিম দেশগুলোর আকাশসীমা ব্যবহার করেই ইরানের ওপর সামরিক হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, তেহরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টাও চালিয়েছে ‘শত্রুভাবাপন্ন’ শক্তিগুলো। তবে তাদের সেই চক্রান্ত ব্যর্থ হয়েছে এবং ইরান বর্তমানে নজিরবিহীন রাজনৈতিক ঐক্য ও অভ্যন্তরীণ সংহতি প্রত্যক্ষ করছে।
আমেরিকান ও ইসরায়েলি নিষেধাজ্ঞার কড়া সমালোচনা করে পেজেশকিয়ান বলেন, “যারা ভেবেছিল নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ইরানের জনগণকে কাবু করা যাবে কিংবা সরকার পতন ঘটানো যাবে, তারা সম্পূর্ণ ভুল হিসাব কষেছিল। আমাদের স্বাবলম্বী হওয়া থেকে থামাতেই তারা আঞ্চলিক উত্তেজনা ও যুদ্ধ উসকে দিচ্ছে, তবে এর মুখেও ইরানি জনগণ আজ দৃঢ় ও ঐক্যবদ্ধ।”
আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি জোর দিয়ে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাইরের কোনো ‘পাহাদার বা পুলিশের’ প্রয়োজন নেই; কেবল আঞ্চলিক দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
ইয়েমেন সংকট ও সৌদি আরবের সঙ্গে চলমান জটিলতা প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, ইয়েমেনে যা ঘটছে তার সঙ্গে ইরানের কোনো সরাসরি সম্পৃক্ততা নেই। তবে বিশ্বের যেকোনো স্থানে অন্যায়ের শিকার হওয়া মানুষের প্রতি তেহরানের নীতিগত সংহতি রয়েছে। ইয়েমেনের হুতি এবং সৌদি আরবের মধ্যস্থতায় ইরান ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এক মুসলিম ভাইয়ের অন্য ভাইয়ের সঙ্গে লড়াই করা উচিত নয়। আলোচনার মাধ্যমেই এ বিরোধের নিষ্পত্তি সম্ভব।”
এদিকে, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধের বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকেই দায়ী করেন ইরানি প্রেসিডেন্ট। তিনি জানান, আমেরিকা পথ অবরুদ্ধ করায় স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হিসেবেই ইরান পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে শক্তিপ্রদর্শনের বদলে কূটনীতি ও সমঝোতার মাধ্যমে এই সংকটের সমাধান চান তারা। কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নিজেদের বার্তা পৌঁছানো হচ্ছে জানিয়ে পেজেশকিয়ান আরও বলেন, বারবার চুক্তিভঙ্গ, হামলা ও নতুন নিষেধাজ্ঞার কারণে ওয়াশিংটনের ওপর ইরান আর কোনো আস্থা রাখতে পারছে না।