যুক্তরাজ্যের হেফাজত থেকে মুক্তি পাওয়ার দুই বছর পর আবারও প্রকাশ্যে ফিরছেন উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতা ও তথ্যপ্রকাশ বিষয়ক সক্রিয়কর্মী জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ। মার্কিন সরকারের সাথে আইনি সমঝোতার পর দীর্ঘদিনের আড়াল ভেঙে তিনি সাধারণ জীবনে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) উইকিলিকসের অফিসিয়াল অ্যাকাউন্টে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে অ্যাসাঞ্জের একটি ম্যুরালের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ছবি পোস্ট করে তার প্রত্যাবর্তনের বার্তা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে অ্যাসাঞ্জ নিজে সেই পোস্টটি পুনরায় শেয়ার করে নিশ্চিত করেন যে, এটি বিগত আট বছরের মধ্যে তার ব্যক্তিগতভাবে লেখা প্রথম কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বার্তা। অ্যাসাঞ্জের স্ত্রী স্টেলা অ্যাসাঞ্জ জানিয়েছেন, তাদের এই নতুন পদক্ষেপ সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য শিগগিরই প্রকাশ করা হবে।
অ্যাসাঞ্জ ও উইকিলিকসের উত্থান ঘটে ২০১০ সালে, যখন তারা ২০০৭ সালে বাগদাদে মার্কিন সামরিক বিমান হামলায় অন্তত ডজনখানেক সাধারণ মানুষ নিহতের গোপন ভিডিও প্রকাশ করে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেন। মার্কিন সামরিক নথি ও নথিপত্র ফাঁসের অভিযোগে চেলসি ম্যানিং গ্রেপ্তার হন এবং ২০১৩ সালে দণ্ডিত হন। যুক্তরাষ্ট্র অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে নথিপত্র ক্রয়ের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গোপনীয়তা আইনে মামলা দায়ের করে।
পরবর্তীতে ২০১২ সালে ইকুয়েডর তাকে রাজনৈতিক আশ্রয় দিলে তিনি লন্ডনে ইকুয়েডর দূতাবাসে দীর্ঘ সাত বছর অবস্থান করেন। ২০১৯ সালে ইকুয়েডরে সরকার পরিবর্তনের পর তার রাজনৈতিক আশ্রয় বাতিল করা হয় এবং ব্রিটিশ পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে বেলমার্শ কারাগারে পাঠায়।
দীর্ঘ আইনি লড়াই ও বিশ্বজুড়ে মুক্তির দাবির মুখে ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি সমঝোতায় পৌঁছান অ্যাসাঞ্জ। চুক্তির অধীনে তিনি মার্কিন সামরিক নথি অবৈধভাবে সংগ্রহ ও প্রকাশের একটিমাত্র অপরাধ স্বীকার করেন, যার বিপরীতে ব্রিটেনে কারাবাসের মেয়াদকেই সাজা হিসেবে গণ্য করে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
কারামুক্তির পর অ্যাসাঞ্জ ফ্রান্সের স্ট্রেনবার্গে ইউরোপীয় পরিষদের পার্লামেন্টারি অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন এবং ২০২৫ সালে সিডনিতে ফিলিস্তিনপন্থীদের এক বিশাল সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন। সর্বশেষ সোশ্যাল মিডিয়া বার্তার মাধ্যমে তিনি জনসম্মুখে তার পূর্ণাধীন দায়িত্ব নেওয়ার সময় এসেছে।