Advertisement Banner

পেসারদের এলোমেলো বোলিংয়ে ব্যাকফুটে বাংলাদেশ

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
পেসারদের এলোমেলো বোলিংয়ে ব্যাকফুটে বাংলাদেশ
বাজে ফিল্ডিংয়ের কারণে দিনটা ভালো যায়নি বাংলাদেশের। ছবি: বিসিবি

মিরপুর টেস্ট শুরুর আগে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে বাংলাদেশের পেস লাইনআপ নিয়ে। তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানার সঙ্গে ইবাদত হোসেনকে নিয়ে যে একাদশ সাজানো হয়, সেটা নিয়ে উচ্ছ্বসিত হওয়ার অবকাশ ছিল বেশ। তবে বাইশ গজে সেই রোমাঞ্চ অনূদিত করতে যেমন বোলিংয়ের প্রয়োজন, দ্বিতীয় দিনে সেটাই ছিল অনুপস্থিত। সঙ্গে যোগ হয় ক্যাচ মিসের প্রদর্শনী। সেটা কাজে লাগিয়ে নিষ্প্রাণ উইকেটে ভালো অবস্থানেই চলে গেছে পাকিস্তান।

দ্বিতীয় দিন শেষে ১ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তানের রান ১৭৯। পিছিয়ে আছে ২৩৪ রানে।

অথচ দিনটা অন্যরকম হতেও পারত। ৫০০ রানের আশা জাগিয়ে ৪১৩ রানে গুটিয়ে গেলেও আশা ছিল বোলারদের নিয়েই। এক বছরের বেশি সময় পর টেস্টে ফিরেছেন দুই অভিজ্ঞ তাসকিন ও ইবাদত। দুজনেরই সাম্প্রতিক ফর্ম বেশ ভালো। আর নাহিদ তো সব ফরম্যাটেই রীতিমতো উড়ছেন।

বাংলাদেশ বড় স্কোর গড়তে ব্যর্থ হয় মূলত ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায়। উইকেট যে ব্যাটিংয়ের জন্য বেশ ভালো, তার প্রমাণ মেলে পাকিস্তানের ইনিংসের শুরু থেকেই। চা বিরতির আগে ওভারপ্রতি ৫ রান করে নেওয়া দুই ওপেনার একই ধারা বজায় রাখেন তৃতীয় সেশনেও।

প্রথম স্পেলে ভালো করলেও ক্রমেই লাইন-লেন্থ হারিয়ে ফেলেন ইবাদত। নাহিদ গতি দিয়ে ব্যাটসম্যানদের মাঝেমধ্যেই বিভ্রান্ত করলেও পারেননি সফল হতে। আর ৫ ওভার করিয়েই তাসকিনকে আক্রমণ থেকে সরিয়ে দেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন। ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে যে বুদ্ধিদীপ্ত বোলিং প্রয়োজন, তিনজনের কেউই সেটা করতে পারেননি।

যে পেসারদের ওপর ভরসা করেই মূলত এমন উইকেট চেয়েছে বাংলাদেশ, তাদের ব্যর্থতায় ব্রেকথ্রু এনে দেন স্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজ। ৪৫ রানে ইমামকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন তিনি।

এরপরের চিত্রটা আবার একই ছিল। সবচেয়ে হতাশ করেছেন নাহিদই। বডি লাইনে অনেক বাউন্সার দিয়ে চেষ্টা করেছেন, তবে কাজের কাজ হয়নি। উল্টো তার গতি কাজে লাগিয়ে আজান আয়াজ হাঁকান টানা তিন বাউন্ডারি। অভিষেক ম্যাচেই চমৎকার ব্যাটিংয়ে তিনি বাংলাদেশ বোলারদের কাজটা কঠিন করে তোলেন।

দিনের খেলার শেষের দিকে গিয়ে অবশ্য সুযোগ তৈরি করেছিল বাংলাদেশ। তবে ফিরতি স্পেলে তাসকিনকে হতাশ করেন সাদমান ইসলাম। আবদুল্লাহ ফজলের ক্যাচ ফেলে দেন তিনি।

দিন শেষে আজান অপরাজিত থেকে যান ৮৫ রানে। আর ফজল করেছেন ৩৭।

সম্পর্কিত