সুইজারল্যান্ডের সংবিধানে আরও কঠোর নিরপেক্ষতা অর্থাৎ অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ কিংবা ন্যাটোর সঙ্গে সহযোগিতা থেকে দেশটিকে বিরত রাখবে—এমন নীতি অনুমোদন করা হবে কি না, আজ রোববার তা নির্ধারণ করবেন দেশটির ভোটাররা।
সুইজারল্যান্ডে গণভোট হচ্ছে, সংবিধানে কঠোরভাবে নিরপেক্ষতার একটি সংজ্ঞায়িত রূপ অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না, তা নিয়ে।
১৮১৫ সালে নেপোলিয়নীয় যুদ্ধের অবসানের পর থেকে আন্তর্জাতিকভাবে সুইজারল্যান্ডের নিরপেক্ষতা স্বীকৃত। তবে সরকার কীভাবে এই নিরপেক্ষতা বাস্তবায়ন করবে, তা সংবিধানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই।
ডানপন্থী সুইস পিপলস পার্টি (এসভিপি) বলেছে, ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর বার্ন মস্কোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় সুইজারল্যান্ডের ঐতিহ্যগত নিরপেক্ষতার অবস্থান ক্ষয় হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
ভোটের আগে এই প্রচারণার জন্য দেশজুড়ে পোস্টার টানানো হয়েছে। পোস্টারে সাদা শান্তির কবুতরের ছবি দিয়ে মানুষকে ‘যুদ্ধ নয়, নিরপেক্ষতার পক্ষে’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তবে জনমত জরিপগুলো বলছে, ভোটাররা প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করবেন। সর্বশেষ জরিপগুলোর একটিতে দেখা গেছে, ৬৮ শতাংশ ভোটার প্রস্তাবের বিপক্ষে এবং ৩১ শতাংশ পক্ষে।
বার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউরোপীয় রাজনীতির অধ্যাপক ফাবিও ওয়াসারফালেন বলেন, “সুইস ভোটাররা নিরপেক্ষতা পছন্দ করেন, কিন্তু সরকার বর্তমানে যেভাবে এটি বাস্তবায়ন করছে, তাতেও তারা সন্তুষ্ট।”
তিনি আরও বলেন, “তারা সাধারণভাবে ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার পক্ষেও রয়েছেন এবং সেটি পরিবর্তন করতে চান না।”
প্রচারণাকারীরা চান, সংবিধানে স্পষ্টভাবে বলা থাকুক—সুইজারল্যান্ড আক্রান্ত না হলে কোনো সামরিক বা প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দিতে বা তার সঙ্গে সহযোগিতা করতে পারবে না। একই সঙ্গে জাতিসংঘ অনুমোদন না দিলে কোনো নিষেধাজ্ঞায়ও যোগ দেওয়া থেকে দেশটিকে বিরত থাকতে হবে।
তাদের বক্তব্য, অতীতে সুইস নিরপেক্ষতা দেশটির জন্য সুফল বয়ে এনেছে। এর ফলে দেশটি দুই বিশ্বযুদ্ধেই জড়িয়ে পড়া থেকে বিরত ছিল। পাশাপাশি এই নিরপেক্ষতা বার্নকে যুদ্ধরত পক্ষগুলোর মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার আলোচনায় ‘সদিচ্ছার উদ্যোগ’ নেওয়ার সুযোগও দেয়।
এসভিপির সমর্থক ও ধনকুবের ব্যবসায়ী ক্রিস্টফ ব্লখার বলেন, “সুইজারল্যান্ড গত ২০০ বছর কোনো যুদ্ধে জড়ায়নি, কারণ দেশটি স্থায়ীভাবে সশস্ত্র এবং নিরপেক্ষ।”
তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিরপেক্ষতার নীতি ক্রমেই কম অনুসরণ করা হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। রয়টার্সকে তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়া এখন সুইজারল্যান্ডকে সংঘাতের একটি পক্ষ হিসেবে বিবেচনা করছে।
এসভিপি ছাড়া অধিকাংশ রাজনৈতিক দল এবং সুইস সরকার এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইগনাজিও ক্যাসিস বলেছেন, প্রস্তাবটি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর হবে এবং সুইজারল্যান্ডকে ন্যাটোর সঙ্গে সামরিক প্রশিক্ষণ নেওয়া থেকে বিরত রাখবে।