ads

যুবদল নেতাকে খুন করতে চুক্তি স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার, খুন হলেন অন্যজন

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
যুবদল নেতাকে খুন করতে চুক্তি স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার, খুন হলেন অন্যজন
ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর কাফরুল থানা এলাকায় যুবদল কর্মী মো. ইউসুফ হত্যা নিয়ে নতুন তথ্য জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ। পুলিশ বলেছে, এ ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী বিএনপির সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতা।

আজ এক ব্রিফিংয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, কাফরুল থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান হাফিজ ওরফে সিএনজি হাফিজ যুবদলের সদস্য সচিব হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার উদ্দেশ্যে আনুমানিক ২৫ লাখ টাকায় পেশাদার খুনি ভাড়া করেছিলেন।

Advertisement

শফিকুল ইসলাম বলেন, এলাকায় ময়লার টেন্ডার ও ফুটপাতের দখল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দীর্ঘদিনের। সেই বিরোধের জেরেই মাগুরার শালিখা উপজেলার আড়পাড়া এলাকা থেকে ভাড়াটে খুনি এনে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।

এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সাতজনকে গ্রেপ্তকার করেছে ডিএমপির গোয়েন্দা মিরপুর বিভাগ ও কাফরুল থানা পুলিশ। গ্রেপ্তাররা হলেন, মো. নাহিদ হাসান (২১), মো. শাফিন আহমেদ (২২), মো. জিয়ারুল মোল্লা (৩৯), মো. আলী হোসেন (৪৫), মো. জিহাদ মোল্লা (৩০), মো. মাসুম বিল্লাহ (২৮) ও মো. আবির হাওলাদার (২৫)।

গত ২৪ জুলাই ১১টা ১০ মিনিটের দিকে কাফরুল থানাধীন ওপেক্স গার্মেন্টসের দক্ষিণ পাশে লিংক রোডের মাথায় কয়েকজন অস্ত্রধারীর গুলিতে যুবদল কর্মী মো. ইউসুফ, সবজি বিক্রেতা নালাম সরদার ও মো. মনির হোসেন গুলিবিদ্ধ হন। এ ঘটনায় ইউসুফ হাসপাতালে মারা যান।

এ ঘটনায় নিহত ইউসুফের বড় ভাই বাদী হয়ে কাফরুল থানায় হত্যা মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, গত ২৯ জুন পেশাদার খুনি হাসান, জিয়ারুল, চঞ্চল, জিহাদসহ অজ্ঞাতনামা আরও দুই-তিনজন ঢাকায় এসে সিএনজি হাফিজের সঙ্গে বৈঠক করেন। তারা প্রথমে মিরপুর-১০ এলাকার একটি হোটেলে অবস্থান নেন, পরে সিএনজি হাফিজের গ্যারেজে যান। সেখানে আবির হাওলাদারের কাছ থেকে হাফিজের ম্যানেজার নাহিদ দুটি পিস্তল নিয়ে আসেন। অস্ত্রে গুলি ভরার সময় একটি পিস্তল থেকে আকস্মিকভাবে গুলি বের হলে সেদিনের পরিকল্পনা স্থগিত করা হয়। পরে তারা লক্ষ্যব্যক্তি হাফিজুল ইসলাম বাবুকে শনাক্ত করে সিএনজি হাফিজের কাছ থেকে অগ্রিম ৫০ হাজার টাকা নিয়ে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যান।

২২ জুলাই সিএনজি হাফিজের নির্দেশে তারা ফের ঢাকায় এসে মিরপুর-২ এলাকায় একটি হোটেলে ওঠেন। ২৩ জুলাই জিয়ারুল, চঞ্চল, হাসান, জিহাদ, মাসুম বিল্লাহসহ অজ্ঞাতনামা আরও দুই-তিনজন হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার অফিসের সামনে যায়।

ডিবির ভাষ্য, ঘটনার দিন রাত আনুমানিক ১১টার দিকে হাফিজুল ইসলাম বাবু কার্যালয়ের সামনে নেতাকর্মীদের সঙ্গে অবস্থানকালে অপরিচিত কয়েকজনকে সন্দেহ হলে তাদের পরিচয় জানতে চান। একপর্যায়ে তাদের দেহ তল্লাশির চেষ্টা করলে অভিযুক্তদের একজন পিস্তল বের করে গুলি চালায়। এতে বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন যুবদল কর্মী মো. ইউসুফ।

সম্পর্কিত