ads

চীনের দিকে ধেয়ে যাচ্ছে শক্তিশালী টাইফুন, সরিয়ে নেওয়া হয়েছে ১৮ লাখের বেশি মানুষ

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
চীনের দিকে ধেয়ে যাচ্ছে শক্তিশালী টাইফুন, সরিয়ে নেওয়া হয়েছে ১৮ লাখের বেশি মানুষ
টাইফুন বাভির প্রভাবে মেঘমালায় ঢেকে গেছে ওয়েনঝো। ছবি: রয়টার্স

শক্তিশালী টাইফুন বাভি চীনের পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহর ওয়েনঝোর দিকে অগ্রসর হওয়ায় আজ শনিবার ১৮ লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে চীন। এর আগে টাইফুনটি জাপানের দক্ষিণাঞ্চলের সাকিশিমা দ্বীপপুঞ্জে ভারী বৃষ্টি ও প্রবল বাতাস বইয়ে উত্তর তাইওয়ানের পাশ দিয়ে অতিক্রম করে।

শীতল সমুদ্রের ওপর দিয়ে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হওয়ায় বাভির গতি ও শক্তি কিছুটা কমলেও আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এটি এখনো বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। কারণ, এর বিশাল বৃষ্টিবলয়ে বিপুল পরিমাণ জলীয়বাষ্প রয়েছে, যার বিস্তার প্রায় ফ্রান্সের সমান।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

চীনের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার গ্রিনিচ সময় সকাল ৮টা ৮ মিনিটে বাভির সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় ১৪৪ কিলোমিটার (৯০ মাইল)। সে সময় এটি ঝেজিয়াং প্রদেশের ওয়েনলিং শহরের দক্ষিণ-পূর্বে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল।

কাল রোববার ভোরে প্রায় এক কোটি মানুষের শহর ওয়েনঝো উপকূলে টাইফুনটি আঘাত হানতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ঝেজিয়াং প্রদেশে ১৭ লাখের বেশি এবং পার্শ্ববর্তী ফুজিয়ান প্রদেশে এক লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এ পর্যন্ত জাপান ও তাইওয়ানে টাইফুনে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। তবে ফিলিপাইনে বাভির প্রভাবে শক্তিশালী হওয়া দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বৃষ্টিতে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

তাইওয়ানের দমকল বিভাগ জানিয়েছে, সেখানে ৮৭ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের বেশির ভাগই মোটরসাইকেল বা সাইকেল থেকে পড়ে গেছে, কিংবা বাতাসে উড়ে আসা বস্তুতে আঘাত পেয়েছে।

সবচেয়ে বড় ক্ষতি এড়িয়েছে তাইওয়ান

বাভি তাইওয়ানের উত্তর দিক দিয়ে অতিক্রম করলেও সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সরকার আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

দ্বীপটির প্রধানত পার্বত্য এলাকা থেকে ১৪ হাজারের বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

যদিও টাইফুনটি তাইওয়ানে সরাসরি আঘাত হানেনি, কিছু এলাকায় প্রায় এক মিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস থাকায় সরকার প্রাণহানি এড়াতে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করে।

উদ্ধার করা ব্যক্তিদের বেশির ভাগই উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের বাসিন্দা। টাইফুনের কারণে ৯২০টি আন্তর্জাতিক এবং ২৮২টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এতে রাজধানী তাইপের কাছে অবস্থিত তাওইউয়ান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।

তাইওয়ানের প্রায় সব শহর ও জেলায় শনিবার ‘টাইফুন ছুটি’ ঘোষণা করা হয়। ফলে সরকারি-বেসরকারি অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। তবে তাইপেতে কিছু রেস্তোরাঁ ও সুবিধাজনক পণ্যের দোকান খোলা ছিল।

উত্তর-দক্ষিণ উচ্চগতির রেল চলাচল অব্যাহত থাকলেও সীমিত পরিসরে সেবা দেওয়া হয়।

রাজধানী তাইপের কেন্দ্রস্থলে প্রবল বাতাস ও বৃষ্টির মধ্যেও কিছু মানুষকে বাইরে দেখা গেছে।

সম্পর্কিত