মহাবিশ্বের রহস্য উন্মোচনে যুগান্তকারী অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পদার্থে নোবেল পুরস্কার জিতেছেন ফ্রান্সিস হেলজেন। আজ মঙ্গলবার রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস আনুষ্ঠানিকভাবে এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারের বিজয়ী হিসেবে তার নাম ঘোষণা করে।
আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরিতে অসামান্য অবদান এবং মহাজাগতিক উৎস থেকে আসা উচ্চ-শক্তির নিউট্রিনো আবিষ্কারের জন্য তাকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞানী ফ্রান্সেস হালজেন যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন-ম্যাডিসন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং অ্যান্টার্কটিকায় অবস্থিত বিশ্বের বৃহত্তম পর্যবেক্ষণাগারের ‘আইসকিউব’ প্রধান গবেষক হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করছেন। অ্যান্টার্কটিকার বরফের প্রায় আড়াই কিলোমিটার গভীরে স্থাপিত এই বিশালাকার টেলিস্কোপটি ব্যবহারের মাধ্যমে তিনি ও তার দল গভীর মহাকাশ থেকে আসা অদৃশ্য ‘ভূতুড়ে কণা’ নামে পরিচিত উচ্চ-শক্তির নিউট্রিনো শনাক্ত করতে সক্ষম হন।
নিউক্লিয়ার এবং অ্যাস্ট্রোপার্টিকেল ফিজিক্সে হালজেনের এই আবিষ্কার মহাজাগতিক রশ্মি ও কৃষ্ণগহ্বরের চারপাশের চরম পরিবেশ গবেষণায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, আলো বা অন্যান্য তরঙ্গ যেখানে বাধা পায়, সেখানে নিউট্রিনো কণা মহাবিশ্বের দূরদূরান্ত থেকে তথ্য বয়ে নিয়ে আসে।
গত বছর পদার্থ বিজ্ঞানে নোবেল পেয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জন ক্লার্ক, মিশেল এইচ ডেভোরেট এবং জন এম মার্টিনিস। বৈদ্যুতিক বর্তনীর মধ্যে স্থূল কোয়ান্টাম যান্ত্রিক টানেলিং এবং শক্তির কোয়ান্টাইজেশন আবিষ্কারের জন্য এ পুরস্কার পেয়েছিলেন তারা।
১৯০১ সাল থেকে পদার্থে নোবেল দেওয়া শুরু হয়। এ পর্যন্ত ১১৯ বার এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। মাত্র ২৫ বছর বয়সে সর্বকনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ এ পুরস্কারটি জিতেছিলেন লরেন্স ব্র্যাগ। অপরদিকে, সবচেয়ে বেশি বয়স হিসেবে ৯৬ বছর বয়স্ক আর্থুর আসকিন জেতেন পদার্থের নোবেল। ২০১৮ সালে তার হাতে এ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।