রাজধানীর চানখারপুলের কায়েতটুলির একটি মেস থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী অনিক চন্দ্র পালের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অনিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্রয়িং ও পেইন্টিং বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বি কে গাঙ্গুলী লেনের ওই মেসের একটি কক্ষ থেকে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তখন তিনি অচেতন ছিলেন। পরে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অনিক চন্দ্র পালের গ্রামের বাড়ি সিলেট জেলার শিবপুর উপজেলায়। তার মরদেহ ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
নিহতের মেসসদস্য ও জবি শিক্ষার্থী জয় ভূঁইয়া জানান, গত সোমবার থেকে অনিকের তেমন কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না। মঙ্গলবার রাত ৯টা থেকে সাড়ে ৯টার দিকে অনিকের এক ব্যাচমেট তাকে ফোনে না পেয়ে খোঁজ নিতে বলেন। পরে অনিকের কক্ষে গিয়ে দীর্ঘ সময় দরজায় কড়া নাড়লেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া পাননি।
জয় ভূঁইয়া বলেন, ‘‘দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় সন্দেহ হয়। পরে জানালার কাচ ভেঙে ভেতরে তাকিয়ে অনিককে গলায় গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় ফ্যানের সঙ্গে ঝুলতে দেখা যায়। এরপর দরজা খুলে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’’
অনিকের সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঘটনার দুদিন আগে অনিকের প্রেমের সম্পর্কের বিচ্ছেদ হয়েছিল। এরপর থেকে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। তার মোবাইল ফোন বন্ধ ও ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায় এবং তিনি মেসে একা চুপচাপ থাকছিলেন।
এদিকে, খবর পেয়ে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্রয়িং ও পেইন্টিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও সহকারী প্রক্টর সুবাস পাল। তিনি বলেন, ‘‘স্টুডেন্টরা আমাকে ঘটনা জানানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই আমি ঢাকা মেডিকেলে পৌঁছাই। কিন্তু ততক্ষণে আমাদের স্টুডেন্ট আর বেঁচে ছিলেন না।’’
সুবাস পাল আরও বলেন, ‘‘আমি ওর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। ওর বাবার সঙ্গেও কথা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা আসার পর মেডিকেল ও থানার প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।’’
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) হাবিবুর রহমান চিকিৎসকের বরাত দিয়ে অনিকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা-পুলিশকে জানানো হয়েছে।