গণপরিবহনে গেট পাস বা ‘জিপি’র নামে অবৈধ অর্থ আদায় বন্ধ করা গেলে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও দূরপাল্লার বাসের ভাড়া বাড়ানোর প্রয়োজন হবে না বলে দাবি করেছে অ্যাসোসিয়েশন অব বাস কোম্পানিস (এবিসি)। সংগঠনটির মতে, এই চাঁদাবাজি বন্ধ করা সম্ভব হলে উল্টো বাসের ভাড়া কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
আজ শনিবার এবিসির প্রেসিডেন্ট খন্দকার রফিকুল হোসেন কাজল স্বাক্ষরিত ‘বাস ভাড়া ও তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষিতে অ্যাসোসিয়েশন অব বাস কোম্পানিস-এর প্রতিক্রিয়া’ শীর্ষক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব দাবি জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমানে প্রতিটি দূরপাল্লার বাস থেকে প্রতিদিন ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জিপির নামে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। পরিবহন খাতের মালিক ও শ্রমিকদের কাছে এটি ‘বোবা চাঁদা’ নামে পরিচিত। অতীতে স্টেশন থেকে টার্মিনাল ত্যাগের তথ্যসংবলিত একটি কাগজ বা গেট পাসের জন্য সামান্য অর্থ দেওয়া হলেও, বর্তমানে এটি নিয়মিত চাঁদাবাজির বড় মাধ্যমে পরিণত হয়েছে।
এবিসি উল্লেখ করে, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী মহল বা তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় থাকা চক্র এই জিপির অর্থ নিয়ন্ত্রণ করছে। বিজ্ঞপ্তিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলা হয়, দেশে সরকার পরিবর্তন হলেও পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি ও টার্মিনাল দখলের সংস্কৃতিতে প্রত্যাশিত কোনো পরিবর্তন আসেনি। তবে সংগঠনটি সুনির্দিষ্টভাবে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নাম উল্লেখ করেনি।
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে এবিসি জানায়, তেলের মূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যৌক্তিক হারে ভাড়া সমন্বয় না করলে গণপরিবহন পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। অন্যান্য পণ্যের দাম বাড়লে তা সাধারণ মানুষ মেনে নিলেও বাসের ভাড়া বাড়ানোর ক্ষেত্রে প্রায়ই ভাঙচুর ও শ্রমিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। বিশ্বের অন্যান্য দেশে নগর পরিবহনে সরকারি ভর্তুকি থাকলেও বাংলাদেশে সেই নীতি বাস্তবায়িত হয়নি।
সংগঠনটির মতে, সরকারের সদিচ্ছা থাকলে এবং বাড়তি সরকারি অর্থ ব্যয় ছাড়াই এই চাঁদাবাজি বন্ধ করা সম্ভব। এর মাধ্যমে পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরানো ছাড়াও ঢাকা শহরের যানজট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করে এবিসি।