বিভক্ত বিশ্বে সংলাপ ও বন্ধুত্বের পরিবেশ গড়ে তুলতে বিশ্বাসীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পোপ লিও চতুর্দশ।
শনিবার ইতালির স্থলবেষ্টিত ক্ষুদ্র দেশ সান মারিনো সফর এবং ইতালির রিমিনি শহরে একটি বড় ক্যাথলিক সমাবেশে যোগ দিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।
রিমিনিতে কয়েক হাজার মানুষের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় লিও এমন এক সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সতর্ক করেন, যা “মানুষের মন, কথা ও জাতিকে পুনরায় অস্ত্রসজ্জিত করে”। তিনি বলেন, খ্রিস্টানদের উচিত দয়া, পারস্পরিক যোগাযোগ এবং শান্তির প্রতি অঙ্গীকারের মাধ্যমে এর জবাব দেওয়া।
এর আগে সান মারিনোতে বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন টিকে থাকা প্রজাতন্ত্রটির স্থানীয় কর্তৃপক্ষের উদ্দেশে বক্তব্য দেন লিও।
বার্তা সংস্থা এপির বরাতে বার্তা সংস্থা ইউএনবি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
পোপ সতর্ক করে বলেন, আধুনিক সমাজগুলো সহিংসতা, সামাজিক বিভাজন এবং এমন সব মতাদর্শের ক্রমবর্ধমান হুমকির মুখে রয়েছে, যেগুলো সাধারণ মানুষের কল্যাণের চেয়ে ব্যক্তিস্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দেয়।
পোপ লিও বলেন, “আমরা এমন এক বিশ্বে বাস করছি, যা বহু সংঘাতের কারণে ক্ষতবিক্ষত।”
তিনি ক্রমবর্ধমান সহিংসতা, বন্ধ হয়ে যাওয়া যোগাযোগ এবং অন্যদের প্রতি ভয়ের কথা উল্লেখ করেন। এর জবাবে তিনি খ্রিস্টানদের ক্ষমা, সংহতি এবং দুর্বল ও অসহায় মানুষের প্রতি উদ্বেগ দেখানোর আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, শান্তি গড়ে ওঠে এমন মানুষদের মাধ্যমে, “যারা একে অপরের সঙ্গে মিলিত হতে ভালোবাসে এবং পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে ভয় পায় না।” তার মতে, রাজনৈতিক, সামাজিক ও মতাদর্শগত বিভাজনের আগে মানবিক মর্যাদাকে স্থান দিতে হবে।
বিশ্বজুড়ে উত্তেজনা নিয়ে এখন পর্যন্ত তার অন্যতম জোরালো বক্তব্যে লিও ক্রমবর্ধমান সংঘাত ও সামরিকীকরণের সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সতর্ক করেন।
তিনি বলেন, খ্রিস্টানদের উপলব্ধি করা উচিত যে “কোনো শত্রু থাকতে পারে না” এবং এমনকি বিরোধীরাও “একজন ভাই বা বোন, যার চোখের দিকে তাকিয়ে সত্যের সঙ্গে তার মুখোমুখি হতে হবে।”
তিনি বলেন, “দারিদ্র্য, বৈষম্য, যুদ্ধ ও পরিবেশগত বিপর্যয়ের মূলে থাকা অন্যায় ক্ষমতার কাঠামোগুলোকে আমাদের উন্মোচিত করতে হবে।” একই সঙ্গে তিনি বিশ্বাসীদের আহ্বান জানান, “মুনাফার পূজার বন্ধন থেকে শ্রমকে মুক্ত করতে” এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়ন যখন আগ্রাসী ও ধ্বংসাত্মক হয়ে ওঠে, তখন তা “নিরস্ত্র করতে”।
পোপের বক্তব্যের একটি উল্লেখযোগ্য অংশজুড়ে ছিল তরুণদের প্রসঙ্গ। ভবিষ্যৎ নিয়ে যখন অনেকেই উদ্বিগ্ন, তখন তিনি তরুণদের আশার উৎস হিসেবে তুলে ধরেন।