ads

চট্টগ্রামে কমেছে বৃষ্টি, পানিবন্দী সাড়ে ৭ লাখ মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামে কমেছে বৃষ্টি, পানিবন্দী সাড়ে ৭ লাখ মানুষ
ভারী বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার সড়ক। ছবি: চরচা

কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় পানিবন্দী মানুষের সংখ্যা বেড়েছে।

আজ শুক্রবার রাতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন উপজেলাতে পানিবন্দী মানুষের সংখ্যা সাড়ে সাত লাখ ছাড়িয়েছে।

জেলা প্রশাসকের স্টাফ অফিসার আসিফ জাহান সিকদার চরচাকে বলেন, চট্টগ্রামের ১৭৬ টি ইউনিয়নে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬৪৮ পরিবারের ৭ লাখ ৫৪ হাজার ৫৯০ জন পানিবন্দী অবস্থায় আছেন।

তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলায় খোলা ৬৭০ আশ্রয়কেন্দ্রে ২৩ হাজার ৮৫০জন লোক আশ্রয় নিয়েছে।

গত রোববার রাত থেকে চট্টগ্রাম মহানগরী ও আশেপাশের জেলায় টানা ভারী বৃষ্টি শুরু হয়। শুক্রবার সকাল থেকে বৃষ্টির তীব্রতা কমে আসে। পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বেলা তিনটা পর্যন্ত ১৫৪ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রের্কড করা হয়েছে।

এ কয়দিনে চট্টগ্রামে পাহাড় ও দেয়াল ধস এবং বৃষ্টির পানির তোড়ে মোট ১০জন মারা যাওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন। এর মধ্যে শুক্রবারই চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের পৃথক দুটি এলাকায় পানিতে ডুবে দুই শিশু মারা যায়। এসময়ে আহত হয়েছে ১০জন।

চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার মধ্যে সাতকানিয়ার বেশি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এ উপজেলার ১৭ ইউনিয়ন ও পৌর সদর প্লাবিত হয়েছে বেশি। তবে শুক্রবার দুপুর থেকে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করেছে।

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। তবে দুপুরের পর থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। বাঁশখালীর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর সানি আঁকন বলেন, বাঁশখালীতে পানিতে ভেসে গিয়ে দুই শিশু মারা গেছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দুর্যোগ মোকবেলিয়া ৭০০ মেট্রিক টন চাল ও ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

সিটি মেয়র ডা. শাহাদত হোসেন সাংবাদিকদের বলেছেন, “নগরীর ৮০ শতাংশ এলাকা থেকে পানি নেমে গেছে। বাকি যেসব এলাকায় পানি জমে আছে সেব এলাকায় পানি নিষ্কাশনে আমরা কাজ করছি।”

এদিকে ভারতের উত্তর-পশ্চিম মধ্যপ্রদেশ ও ওই এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি দুর্বল হয়ে লঘুচাপে রূপ নিয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে, দেশজুড়ে যে বৃষ্টি ঝরছে, তা সোমবার পর্যন্ত চলতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

শুক্রবার সকালে আবহাওয়ার সবশেষ পরিস্থিতি নিয়ে বুলেটিনে বলা হয়েছে, লঘুচাপটি মধ্য উত্তরপ্রদেশ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এটি ক্রমান্বয়ে দুর্বল হতে পারে।

উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বায়ু চাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। সমুদ্র বন্দরগুলো, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার উপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

তাই চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরেকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রেখেছে আবহাওয়া অফিস।

সেই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

সম্পর্কিত