তীব্র অর্থনৈতিক সংকট এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কঠোর শর্তের বেড়াজালে পড়ে আগামীকাল শুক্রবার নতুন অর্থবছরের বাজেট পেশ করতে যাচ্ছে পাকিস্তান সরকার।
তবে বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এবারের বাজেটে দেশটির মধ্যবিত্ত শ্রেণী এবং নিবন্ধিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর করের বোঝা আরও ভারী হতে চলেছে। এর বিপরীতে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।
লাকসন ইনভেস্টমেন্টসের প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা মুস্তফা পাশা পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, সরকারের হাত আসলে বাঁধা এবং তারা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চেয়ে আর্থিক ঘাটতি মেটানোকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে।
আগামী অর্থবছরের জন্য অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব ১৭.১ ট্রিলিয়ন রুপি বা প্রায় ৬,১০০ কোটি ডলার মূল্যের একটি বাজেট প্রস্তাব করবেন। এই বাজেটে আগামী ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে ৪.১% অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
মে মাসে মূল্যস্ফীতি ১১.৭% থাকলেও, পুরো বছরের জন্য তা ৮.২%-এ নামিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে সরকার। পাশাপাশি ঋণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঋণ পরিশোধ বাদে অন্তত ২% বাজেট উদ্বৃত্ত রাখার শর্তে আইএমএফের সাথে রাজি হয়েছে ইসলামাবাদ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাকিস্তানে কৃষি, খুচরা ব্যবসা এবং আবাসন খাতের মতো রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী খাতগুলো করের আওতার বাইরে থেকে যাচ্ছে। ফলে জ্বালানি ও বিদ্যুতের বাড়তি দাম এবং করের মূল চাপটি এসে পড়বে নিয়মিত করদাতা ও চাকরিজীবী মধ্যবিত্ত শ্রেণীর ওপর।
পাবলিক ইকোনমিক্স গবেষক মাজহার ওয়াসিম মন্তব্য করেছেন, ঐতিহাসিকভাবেই পাকিস্তানে আইএমএফের কর্মসূচিগুলোকে জনপ্রিয়তাহীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার রাজনৈতিক ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয় এবং এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না।
পাকিস্তানের অর্থনীতি যখন কিছুটা ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছিল, ঠিক তখনই মার্কিন-ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধের ধাক্কা এসে লেগেছে দেশটির গায়ে। যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় পাকিস্তানে মূল্যস্ফীতি আবারও দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছে গেছে।
এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল মার্কেট ইন্টেলিজেন্সের প্রধান অর্থনীতিবিদ আহমদ মুবিন জানান, মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি ও রেমিট্যান্সের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার কারণে এই অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের ফলে এশিয়ার মধ্যে পাকিস্তানই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। এর ফলে মে মাসে ব্যবসায়িক আত্মবিশ্বাস গত বছরের পর সর্বনিম্ন স্তরে নেমে গেছে এবং উৎপাদন খরচ গত ২১ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।