দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ ব্যবস্থা বজায় রাখতেই ‘বেসরকারি পর্যায়ে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানিপূর্বক সংরক্ষণ, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণন নীতিমালা, ২০২৬’-এর একটি খসড়া প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে সরকারের জ্বালানি বিভাগ।
আজ শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, একটি স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে জরুরি বা সংকটকালীন পরিস্থিতিতে বিদ্যমান সরকারি ব্যবস্থার পাশাপাশি বেসরকারি খাতের অবকাঠামো ও বিনিয়োগ সক্ষমতাকে জাতীয় স্বার্থে ব্যবহার করা, এই নীতিমালার লক্ষ্য।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই নীতিমালার মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা গোষ্ঠীকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সুযোগ নেই। এছাড়া, জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের মতামত ও পরামর্শ গ্রহণ করে নীতিমালাটি চূড়ান্ত করা হবে। জনস্বার্থ, জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রতিযোগিতামূলক বাজার ব্যবস্থা, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি প্রস্তাবিত এই নীতিমালা নিয়ে কিছু গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় অনুমান নির্ভর ও অসত্য তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে বলেও দাবি করে জ্বালানি বিভাগ।
সম্প্রতি বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থা এবং জ্বালানি তেল আমদানিতে বেসরকারি খাতকে সংশ্লিষ্ট করতে সরকারের আগ্রহের কথা জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। এরপর থেকে এ নিয়ে নানা মহলে আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়।
২০২৩ সালেও একবার এমন একটি খসড়া তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল- তখন প্রস্তাব ছিল, বেসরকারি খাত চাইলে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি থেকে শুরু করে পরিশোধন, মজুদ, এমনকি বিতরণ-বিপণন পর্যন্ত করতে পারবে। তখন শর্তে বলা হয়েছিল, বেসরকারি বিনিয়োগে উৎপাদিত তেলের প্রথম পাঁচ বছর অর্ধেকেরও বেশি- ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন, জেট ফুয়েল, ফার্নেস অয়েল- কিনবে বিপিসি নিজে। নানা মহলের সমালোচনার প্রেক্ষিতে সেই প্রস্তাব আলোর মুখ দেখেনি।
তবে নবনির্বাচিত বিএনপি সরকার ছয় মাসের মধ্যে আবার একই ধরনের আলোচনা সামনে আনায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও এবি পার্টিসহ বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষ। একই সাথে বাংলাদেশ অয়েল অ্যান্ড গ্যাস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনসহ জ্বালানি তেল সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকেও এ উদ্যোগের প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে।
তাদের দাবি, জ্বালানির মতো স্পর্শকাতর খাত বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিলে তা সরকারের জন্য আত্মঘাতী ও দেশের জন্য বিপজ্জনক হবে। একই সাথে এটি হলে দেশের মানুষ মুষ্টিমেয় কিছু ব্যবসায়ীর কাছে জিম্মি হয়ে পড়বে।
নীতিমালাটি শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখলে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন, বিপিসির জ্বালানি তেল নিয়ে দীর্ঘদিনের একচেটিয়া অবস্থানে বড় ধাক্কা লাগতে পারে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
তবে সরকারের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি, অংশীজনদের মতামত নিয়েই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় হবে।