Advertisement Banner

বাধ্যতামূলক ন্যূনতম কর ব্যবস্থা বাতিল, উৎসে কর হবে অগ্রিম কর

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
বাধ্যতামূলক ন্যূনতম কর ব্যবস্থা বাতিল, উৎসে কর হবে অগ্রিম কর
ছবি: উইকিমিডিয়া কমনস

দেশের ব্যবসায়ী মহলের দীর্ঘদিনের জোরালো দাবির মুখে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে উৎসে কর সংক্রান্ত নিয়মে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। নতুন এই প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে উৎসে কেটে নেওয়া করকে আর বাধ্যতামূলক ‘ন্যূনতম বা চূড়ান্ত কর’ হিসেবে গণ্য করা হবে না; বরং এর পরিবর্তে এটিকে এখন থেকে কেবলই ‘অগ্রিম কর’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

আজ বৃহস্পতিবার বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, আন্তর্জাতিক কর চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এই আধুনিক পরিবর্তনটি আনা হচ্ছে এবং এর পাশাপাশি অতিরিক্ত পরিশোধিত উৎসে কর যাতে ব্যবসায়ীরা দ্রুত ফেরত পান, সেজন্য একটি কার্যকর রিফান্ড ব্যবস্থাও চালু করা হবে। এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের ফলে দেশের আমদানিকারক, পাইকারি ব্যবসায়ী, উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এবং বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠান তুলনামূলকভাবে কম মুনাফায় পরিচালিত হয়, তারা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন।

পুরনো ও বিদ্যমান কর ব্যবস্থা অনুযায়ী, কোনো ব্যবসায়ী পণ্য আমদানি বা সরবরাহের সময় উৎসে কর পরিশোধ করার পর, বছর শেষে তার প্রকৃত করের দায় যদি ওই পরিশোধিত করের চেয়ে কমও হতো, তাহলেও অতিরিক্ত অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগ ছিল অত্যন্ত সীমিত। এর ফলে ব্যবসায়ীদের একটি বড় অংশের বিপুল পরিমাণ কার্যকর মূলধন বা নগদ অর্থ দীর্ঘ সময় সরকারের কাছে আটকে থাকত, যা তাদের ব্যবসার স্বাভাবিক গতিকে ব্যাহত করত।

নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে উৎসে কাটা এই করকে অগ্রিম কর হিসেবে গণ্য করা হবে, যা অর্থবছর শেষে প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত কর হিসাবের সঙ্গে সরাসরি সমন্বয় করার সুযোগ থাকবে। এর ফলে কোনো ব্যবসায়ী বা প্রতিষ্ঠান যদি বছর শেষে হিসাব করে দেখেন যে তারা অতিরিক্ত কর পরিশোধ করে ফেলেছেন, তবে নিয়মানুযায়ী তা দ্রুত ফেরত বা রিফান্ড পেয়ে যাবেন।

বাজেট বক্তৃতায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই কাঠামোগত পরিবর্তনের ফলে দেশের সামগ্রিক কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও পূর্বানুমানযোগ্যতা অনেক বৃদ্ধি পাবে, যা ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমাতে এবং দেশে একটি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কর প্রশাসন যদি এই দ্রুত রিফান্ড এবং সমন্বয় প্রক্রিয়াটি মাঠপর্যায়ে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ছাড়া কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে পারে, তবেই এই চমৎকার সিদ্ধান্তের প্রকৃত সুফল ব্যবসায়ী খাতের পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে প্রতিফলিত হবে।

সম্পর্কিত