রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক জানিয়েছেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে হওয়া একটি চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলবাহী তিনটি ট্যাঙ্কার পাঠিয়েছে রাশিয়া।
গতকাল শুক্রবার নোভাক জানান, জাহাজগুলো এরই মধ্যে আটলান্টিক মহাসাগরের পূর্ব উপকূলের দিকে যাত্রা করেছে। তিনি আরও বলেন, এই অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহের বড় অংশটি রাশিয়ার জ্বালানি খাতের জায়ান্ট কোম্পানি ‘রোসনেফট’ থেকে আসতে পারে।
নোভাক বলেন, “বিশ্ববাজারে ডিজেলের সরবরাহ বাড়ানোর বিষয়ে আগে যে চুক্তি হয়েছিল, তার অংশ হিসেবেই রাশিয়া বিশ্ববাজার এবং যুক্তরাষ্ট্রে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করবে।”
রুশ সংবাদমাধ্যম আরটি ডট কম জানায়, মস্কো ডিজেল রপ্তানির ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ শিথিল করেছে। এর ফলে রুশ কোম্পানিগুলো অক্টোবর মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে ৫ লাখ টন পর্যন্ত ডিজেল পাঠাতে পারবে। তবে একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ চাহিদাও পুরোপুরি পূরণ করা নিশ্চিত করা হবে। পুতিনের অর্থনৈতিক দূত কিরিল দিমিত্রিভের নেতৃত্বাধীন ‘রাশিয়ান ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড’-এর উল্লেখযোগ্য সহায়তায় এই চালানগুলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে আরও ডিজেল পাঠানো হবে। তবে কী পরিমাণ তেল এরই মধ্যে পাঠানো হয়েছে, সে ব্যাপারে রাশিয়ার কেউ মুখ খোলেননি।
সামুদ্রিক নৌযান শনাক্তকারী গোষ্ঠীগুলো ট্যাঙ্কারগুলোর মধ্যে একটিকে মাল্টার পতাকাবাহী ‘আজিওই ফানেঁদেস’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যা রাশিয়া থেকে প্রায় ৪০ হাজার টন ডিজেল বহন করছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাহাজটি রাশিয়ার বাল্টিক বন্দর প্রিমোরস্ক থেকে যাত্রা করে নিউইয়র্কের দিকে যাচ্ছিল এবং প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী জাহাজটি ৭ নভেম্বর সেখানে পৌঁছানোর কথা।
ট্যাঙ্কার ট্র্যাকিং পরিষেবাগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনটি জাহাজ রাশিয়ার টার্মিনাল থেকে ডিজেল বোঝাই করেছে এবং গন্তব্য হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের নাম ঘোষণা করেছে। তবে জাহাজগুলোর পরিচয় এবং সেগুলো কোথায় খালাস করা হবে, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
গত ৯ অক্টোবর পুতিন ও ট্রাম্পের মধ্যে টেলিফোনে আলোচনার পর এই জ্বালানি সরবরাহের বিষয়টি সামনে আসে। ওই আলোচনার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান যে, রাশিয়া অবিলম্বে ৩ লাখ টনেরও বেশি ডিজেল সরবরাহ করবে। এরপর নভেম্বরে আরও ৫ লাখ টন এবং তার কিছু সময় পর আরও ১০ লাখ টন ডিজেল দেবে। এছাড়া, পরিশোধন সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে ভবিষ্যতে আরও চালান আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ওয়াশিংটন রুশ ডিজেল আমদানির ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে, যা ২০২২ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে আরোপ করা হয়েছিল।
ঐতিহাসিকভাবে রাশিয়া বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ডিজেল রপ্তানিকারক দেশ—যুক্তরাষ্ট্রের পরেই তাদের অবস্থান—এবং বৈশ্বিক রপ্তানির প্রায় ১০ শতাংশ আসে রাশিয়া থেকে। রুশ সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটলে এমন সব দেশেও জ্বালানির দাম বেড়ে যেতে পারে, যারা সরাসরি রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানি করে না।