ময়মনসিংহ, নওগাঁ এবং গাইবান্ধা জেলায় বিদ্যুৎস্পর্শে ৬ জন মারা গেছেন। আজ বুধবার এসব দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে দুজন ছিলেন নির্মাণ শ্রমিক, দুজন সেচ পাম্পচালক জেলে। অন্য দুজন মারা গেছেন সড়কে পড়া গাছ সরাতে গিয়ে।
বার্তাসংস্থা ইউএনবিকে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ ঘটনাগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার তারাটি এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পর্শে দুই শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতরা হলেন তারাটি এলাকার রতন মিয়ার ছেলে জিসান (১৮) ও বীররামপুর ভাটিপাড়া গ্রামের ইব্রাহিমের ছেলে সিরাজুল ইসলাম (২২)।
ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর আহমেদ জানান, ছাদ থেকে স্টিলের রড নিচে নামানোর সময় দুর্ঘটনাবশত তারা পাশে থাকা বিদ্যুৎ লাইনের সংস্পর্শে আসে। এতে তারা ভবনের তিন তলা থেকে নিচে পড়ে যান। পরবর্তীতে স্থানীয়রা উদ্ধার করে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে তাদের মৃত ঘোষণা করা হয়।
এদিকে নওগাঁর পোরশা উপজেলার কাটকৈল গ্রামে বিকেলে একটি জলাশয়ে মাছ ধরার সময় বিদ্যুৎস্পর্শে দুই জেলের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন রতনপুর গ্রামের সফি উদ্দিনের ছেলে মাহবুব হোসেন ও আব্দুল গফুরের ছেলে আব্দুল আজিজ।
পোরশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউর রহমান জানান, সকালে জলাশয়ের পানি সেচে মাছ ধরার জন্য বৈদ্যুতিক মোটর স্থাপন করেছিলেন মাহবুব ও আজিজ। মাছধরা শেষে তারা বাড়ি ফিরলেও মোটরটি চালু ছিল। দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে মাহবুব জলাশয়ে যান। ততক্ষণে মোটরের তার পানি স্পর্শ করলে পুরো পানি বিদ্যুতায়িত হয়ে পড়ে। পানিতে নেমে পড়া মাহবুব বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। তাকে বাঁচাতে গিয়ে আজিজও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ হারান।
অন্যদিকে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় সড়কে উপড়ে পড়া নারকেল গাছ সরাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পর্শে দুই ব্যক্তি মারা গেছেন। নিহতরা হলেন পাথারে পাড়া গ্রামের আইউব উদ্দিনের ছেলে মওলা (৩৫) এবং দ্বারা গ্রামের বশির উদ্দিনের ছেলে আজিমুদ্দিন (৬০)।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি স্বপন কুমার সরকার জানান, গাছ কাটার সময় একটি নারকেল গাছ মাথার ওপর দিয়ে যাওয়া বৈদ্যুতিক তারের ওপর পড়লে তার ছিঁড়ে যায়। ঝুলন্ত সেই তারের স্পর্শে যাওয়ায় ঘটনাস্থলেই মারা যান মওলা। আজিমুদ্দিন গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে আজিমুদ্দিনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনিও মারা যান।