জামায়াতসহ বিরোধীদলগুলো যোগ না দিলেও জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী ৩৩টি রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের সুপারিশগুলো সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
আজ মঙ্গলবার সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ সংসদীয় কমিটির প্রথম সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। খবর বাসসের।
আইনমন্ত্রী বলেন, বিশেষ কমিটি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য, জুলাই যোদ্ধা, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী, সাংবাদিক, আইনজীবী, অবসরপ্রাপ্ত বিচারকসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের মতামত নেবে।
তিনি বলেন, জুলাই সনদ প্রণয়নে যারা নিরলসভাবে কাজ করেছেন, তাদের সঙ্গেও আলোচনা করা হবে। এসব মতামত পর্যালোচনা করে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হবে, যাতে জুলাই সনদের চেতনা বাস্তবায়িত হয়।
মন্ত্রী জানান, প্রথমে ১৭ সদস্যের কমিটি গঠনের পরিকল্পনা ছিল। এতে সাতজন বিএনপির সংসদ সদস্য, সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের চারজন সদস্য, একজন স্বতন্ত্র সদস্য এবং বিরোধী দলের পাঁচজন সদস্য রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে বিরোধী দল এখনো তাদের সদস্যদের নাম দেয়নি। তারপরও তাদের জন্য কমিটির দরজা খোলা রয়েছে এবং তারা নাম দিলে তাৎক্ষণিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, জুলাই সনদের ১ থেকে ৪৭ নম্বর অনুচ্ছেদের প্রস্তাবগুলো হুবহু ভাষায় নয়, বরং সাংবিধানিক ও আইনি পরিভাষায় সংবিধান সংশোধনের খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট সংসদ ও নির্বাচন পদ্ধতির পরিবর্তনের বিষয়ে তিনি বলেন, এগুলোও জুলাই সনদের অংশ। তবে যেখানে কোনো রাজনৈতিক দলের ভিন্নমত রয়েছে এবং তা তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিফলিত হয়েছে, সেখানে জুলাই সনদের নির্দেশনা অনুযায়ী সেই অবস্থান বিবেচনায় নেওয়া হবে।
আইনমন্ত্রী বলেন, সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে পুরো সংবিধান পর্যালোচনা করতে হবে, যাতে এর বিভিন্ন ধারার মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় থাকে। একই সঙ্গে ভারতের ‘বেসিক স্ট্রাকচার থিওরি’সহ সাংবিধানিক আইনশাস্ত্রের প্রতিষ্ঠিত নীতিগুলোও বিবেচনায় নেওয়া হবে। আবেগ নয়, আইনি ও সাংবিধানিক ভিত্তিতেই সংস্কার কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিটির প্রথম সভায় উপস্থিত ছিলেন সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, জয়নুল আবেদীন, মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, আন্দালিভ রহমান, মো. নুরুল হক, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, ফারজানা শারমীন, সাকিলা ফারজানা ও মো. মাহমুদুল হক রুবেল।