চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের পঞ্চম দিনে আজ শনিবার সকাল থেকে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ভবনের দেয়ালে ‘প্রতিবাদী গ্রাফিতি’ এঁকেছেন আন্দোলনকারীরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষার্থী জানান, ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে আন্দোলনে অংশ নিয়ে দেয়ালচিত্র ও গ্রাফিতি আঁকার কাজ চালাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘‘আমাদের একটাই দাবি—সায়েম স্যারকে পুনর্বহাল করতে হবে। বেশ কয়েক দিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চললেও দাবি পূরণ না হওয়া হতাশাজনক।’’
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা আজ শনিবার দুপুরে নবনিযুক্ত উপাচার্যকে ‘লাল কার্ড’ প্রদর্শন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। একই সঙ্গে গত মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া সর্বাত্মক ‘শাটডাউন’ কর্মসূচিও অব্যাহত রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন তারা।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত ২১ সেপ্টেম্বর, যখন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ওই দিন রাতেই তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা।
পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে ‘শাটডাউন’ কর্মসূচির ডাক দেন। শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে কর্মবিরতি পালন করছে চুয়েট শিক্ষক সমিতি ও অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন।
মাত্র দুই মাস আগে গত ২৭ জুলাই চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তাকে সরিয়ে হঠাৎ নতুন নিয়োগ দেওয়ায় পুরো ক্যাম্পাসে চরম অসন্তোষ সৃষ্টি হয়।