চট্টগ্রাম বন্দর থেকে জালিয়াতি করে কাপড়ভর্তি একটি কনটেইনার গায়েবের ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে পণ্যভর্তি কনটেইনারের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। আজ বুধবার চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন - চট্টগ্রামের পটিয়ার বাসিন্দা মো. মোর্শেদ আলম (৩১) ও পিরোজপুরের বাসিন্দা মো. সাইদুর রহমান (৫১)। তারা চট্টগ্রামের একটি সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানের কর্মচারি বলে বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
পুলিশ জানায়, প্রায় এক মাস আগে পণ্যভর্তি কনটেইনারটি চট্টগ্রাম বন্দর থেকে গায়েব হলেও বিষয়টি জানাজানি হয় গত সপ্তাহে। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের নিযুক্ত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট কনটেইনারটি খুঁজে না পেয়ে বন্দরে অভিযোগ দিলে বিষয়টি সামনে আসে। এ ঘটনার পর বন্দরের পক্ষ থেকে ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
বন্দর থানার ওসি মো. আবদুর রহিম চরচাকে বলেন, “কনটেইনার খুঁজে না পাওয়ার ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার বন্দরের পক্ষ থেকে তিনজনকে আসামি করে একটি মামলা করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।”
বন্দরের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম চরচাকে বলেন, “কনটেইনার গায়েবের ঘটনায় বন্দরের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে এ দুজনের সম্পৃক্ততার বিষয়টি উঠে এসেছে। কীভাবে এ ঘটনা ঘটল বা কারা যুক্ত সেটি তদন্ত কমিটি দেখছে। প্রতিবেদন পেলে পরবর্তীতে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।”
জানা গেছে, গত মে মাসে চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটিতে ৬৮৮ বেল ফ্যাব্রিকস ভর্তি ৪০ ফুট দৈর্ঘ্যের কনটেইনারটি জাহাজ থেকে নামে। সাভারের গোল্ড স্টার গার্মেন্টস লিমিটেডের জন্য এসব ফেব্রিক্স আনা হয়। প্রতিষ্ঠানটির সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান ছিল চট্টগ্রামের এস আর এস সিন্ডিকেট। কনটেইনারটি খালাসের জন্য গত ২২ আগস্ট বিল অব এন্ট্রি দাখিল করে। প্রয়োজনীয় রাজস্ব পরিশোধ করে কনটেইনার খালাস করতে গেলে তার হদিস মেলেনি। খুঁজে না পেয়ে তারা বন্দর চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন।
বন্দরের এক কর্মকর্তা জানান, কাগজপত্র জাল ও স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে তারা কনটেইনারটি নিয়ে গেছে বলে জেনেছি। এই দুজনের সাথে আরও কারা জড়িত আছে সে বিষয়ে তদন্ত চলছে। যাদেরই সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম বলেন, “গ্রেপ্তারকৃতরা বিষয়টি প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছেন। এর সাথে আরও কারা যুক্ত রয়েছেন তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”